LalmohanNews24.Com | logo

৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভিক্ষা নয়, ব্যবসাতেই তৃপ্তি পেয়েছে প্রতিবন্ধি ছাত্তার: চায় সরকারি সহযোগীতা

বিজ্ঞাপন

ভিক্ষা নয়, ব্যবসাতেই তৃপ্তি পেয়েছে প্রতিবন্ধি ছাত্তার: চায় সরকারি সহযোগীতা

শরীফ আল-আমিন ও এমরান মাতাব্বর, তজুমদ্দিন থেকে: ভোলার তজুমদ্দিনের খাশেরহাট বাজারের শারিরীক প্রতিবন্ধি আঃ ছাত্তার ভিক্ষাবৃত্তি না করে সংসারে পাঁচ সদস্যে নিয়ে জীবন চালাতে করছেন চায়ের দোকান। সমিতির ঋনের টাকায় সাড়ে তিন বছর আগে ব্যবসা শুরু করে আত্মমর্যাদার সাথে চলছে তার জীবন। বর্তমানে ঋনের টাকা পরিশোধ করতে চাইছেন সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা।

খাশেরহাট বাজারে প্রতিবন্ধি আঃ ছাত্তারের চায়ের দোকানে বসে কথা বলে জানাযায়, শম্ভুপুর ইউনিয়নের মুকবুল আহম্মদ হাওলাদার বাড়ীর মৃত আলী হোসেনের ছেলে প্রতিবন্ধি আঃ ছাত্তার। বয়স ৩৫ বছর। পাঁচ ভাই দুই বোনের মধ্যে একমাত্র প্রতিবন্ধি আঃ সাত্তার চতুর্থ। অভাবের সংসারে লেখা পড়া করেছে ৬ষ্ঠ শ্রেনী পর্যন্ত। ভাই বোনেরা সবাই বিবাহিত। তারা সংসার নিয়ে বসবাস করছেন এলাকার বাহিরে। ভিটে বাড়ীসহ ১৬ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তির মালিক সাত ভাই বোন। ছাত্তারের সংসারে রয়েছে , মা-বিবি মরিয়ম, স্ত্রী-বিবি লাইজু, স্কুলগামী ১২ বছরের ছেলে মোঃ রিফাত ও আট বছরের মেয়ে রিপা। ছেলে মেয়ের লেখা পড়া, সংসারের ভরণ-পোষণ, দোকানের ভাড়াসহ ঋনের কিস্থি পরিশোধ করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছে প্রতিবন্ধি আঃ ছাত্তারের জীবন।

শিশুকাল থেকেই কারো কাছে হাত পাতা, ভিক্ষা করা অপমান বোধ করতেন ছাত্তার। অন্যের বাসায়, দোকানে, ক্ষেত খামারে কাজ করে, গাছ কাঠার মত কঠোর পরিশ্রম করে সহযোগীতা করতেন বাবাকে। কখনো কখনো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাটক করছেন প্রতিবন্ধি ছাত্তার। পাঁচ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর কাজ করেই মাকে নিয়ে স্ত্রী সন্তানসহ সংসার চালাচ্ছেন প্রতিবন্ধি আঃ ছাত্তার। সাড়ে তিন বছর আগে খাসের হাট সোনালী মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি থেকে ২০ হাজার টাকা ঋন নিয়ে শম্ভুপুর খাসের হাট চায়ের দোকান শুরু করেন। বর্তমানে ওই সমিতি তাকে একলক্ষ টাকা ঋন প্রদান করেছেন। কর্মঠ আঃ ছাত্তারের স্বভাব চরিত্র ও লেনদেন ভালো হওয়ায় ৫০ হাজার টাকা ঋন দিয়েছেন শাপলা মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। জনকল্যাণ মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি দিয়েছে ৩০ হাজার টাকা। তবে ঋনের বোঝা ভারি হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন আঃ ছাত্তার। চাইছেন সুদ বিহীন ঋন ও সরকারী সহযোগীতা।

প্রতিবন্ধি ভাতা পাওয়া আঃ ছাত্তার আরো বলেন, আমার কোন জায়গা সম্পদ নাই। ভিক্ষা করা অপমান মনে করি। তাই কাজ করে জীবন চালাইতে চাই। সরকার ও ধনী মানুষের সহযোগীতা পাইলে সমিতির দেনা পরিশোধ করে মা ও পরিবার পরিজন নিয়ে কাজ করে দুই বেলা খেয়ে বাঁচতে পারবো। তার মায়ের নামে একটি বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার কার্ড হলে অনেক উপকার হবে বলে জানান।

সোনালী মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাইনুদ্দিন জানান, একজন প্রতিবন্ধিকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহযোগীতার উদ্দেশ্যে ঋন দেয়া হয়েছে। ছাত্তার বিশ্বস্ততা অর্জন করায় অন্য সমিতি পাশে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকারি সহযোগীতা প্রয়োজন।

হাসান পিন্টু

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি