LalmohanNews24.Com | logo

২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৬ই জুন, ২০২০ ইং

ভারত-পাকিস্তান যৌথভাবে বানাবে করোনার ওষুধ রেমডেসিভির

ভারত-পাকিস্তান যৌথভাবে বানাবে করোনার ওষুধ রেমডেসিভির

করোনাভাইরাসের প্রতিরোধী ওষুধ ‘রেমডেসিভির’ সফল বলে দাবি করেছেন গবেষক-বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সাফল্যের পর ওই ওষুধ প্রয়োগের অনুমোদনও দিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ বার সারা বিশ্বেই শুরু হল সেই ‘রেমডিসিভির’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ভারত-পাকিস্তান।

আমেরিকার প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘জিলিয়াড’ জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান-সহ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলির সঙ্গে কথাবার্তা শুরু হয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে যাতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ওষুধ তৈরি শুরু হয়ে যায়, সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে সংস্থা। তবে কোন কোন সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি ওই সংস্থা।

একাধিক ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এই ওষুধ তৈরিতে বিশ্বের ১২৭টি দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে গিলেড সায়েন্সেস। যার মধ্যে রয়েছে ভারতের তিন সংস্থা সিপলা, হেটেরো ল্যাব ও জুবিল্যান্ট লাইফসায়েন্সেস।

মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট জানিয়েছে, বিশ্বের ১২৭টি দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ভারতের তিন সংস্থা ছাড়াও রয়েছে পাকিস্তানের ওষুধ নির্মাতা সংস্থা ফিরোজসন্স ল্যাবোরেটরিস ও পেনসিলভানিয়ার ফার্মা কোম্পানি মাইল্যান। আরো পাঁচটি সংস্থাকে নিজেদের চাহিদা ও সুবিধা মতো ওষুধের দাম নির্ধারণ করার অনুমতি দিয়েছে মার্কিন কম্পানিটি। তবে এই পাঁচটি সংস্থার প্রস্তুত করা ওষুধ বিশ্বের ১২৭টি দেশে পৌছে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভারতে এরই মধ্যে রেমডেসিভির ওষুধের উপকরণ বানানো শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (আইসিআইআর)-এর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজি ল্যাবে রেমডেসিভির ওষুধ তৈরির মূল উপকরণগুলো বানানো শুরু হয়েছে। এবার গিলেড সায়েন্সের সঙ্গে জরুরিকালীন চুক্তির ভিত্তিতে ভারতের তিন ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানি সিপলা, হেটেরো ল্যাব ও জুবিল্যান্ট লাইফসায়েন্সেস-এ বাণিজ্যিক ভাবে রেমডেসিভির ওষুধ তৈরি শুরু হবে।

২০১০ সালেই রেমডেসিভির ওষুধ তৈরি করে গিলেড সায়েন্সে। ২০১৪ সালে আফ্রিকাতে হয়েছিল ইবোলা মহামারি। অনেকে দাবি করেছিলেন ইবোলার সংক্রমণ রুখতে কাজে এসেছিল এই ড্রাগ, আবার অনেক গবেষকের দাবি ছিল ইবোলার সংক্রমণ সেভাবে আটকাতে পারেনি রেমডেসিভির। কিন্তু রেমডেসিভির নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ। আরএনএ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে এই অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ। গবেষকরা বলছেন, ভাইরাস যতবেশি প্রতিলিপি বানিয়ে তার সংখ্যা বাড়াবে, ততটাই বেশিবার যে তার জিনের গঠনের বদল ঘটাবে। তাই প্রতিলিপি গঠন করা আটকাতে হবে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে রেমডেসিভির নিয়ে গবেষণা চলছে। এই প্রজেক্টের অন্যতম গবেষক ভারতীয় বংশোদ্ভূত অরুণা সুব্রহ্মণ্যম। তিনি জানান এখনো স্ট্যানফোর্ড আক্রান্তদের ওপর রেমডেসিভিরের ট্রায়াল পরীক্ষা করা হচ্ছে। ট্রায়ালের পর আক্রান্তরা সেরে উঠলে তবেই বাকিদের উপরে এর পরীক্ষা করা শুরু হবে।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি