LalmohanNews24.Com | logo

৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জুন, ২০১৯ ইং

ভারতের ভেলর সিএমসিতে চিকিৎসা করতে যাওয়ার আগের প্রস্তুতি

মোঃ জসিম জনি মোঃ জসিম জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

প্রকাশিত : মার্চ ০৪, ২০১৮, ০৩:৪৪

ভারতের ভেলর সিএমসিতে চিকিৎসা করতে যাওয়ার আগের প্রস্তুতি

মোঃ জসিম জনি, ভেলর (ইন্ডিয়া) থেকে।। আপনি ধনী হোন আর গরীব, রোগ তার ধার ধারে না। রোগের কাছে ধনী-গরীব সকলেই অসহায়। রোগ হলেই চিকিৎসা করাতে হয়। চিকিৎসার খরচ যোগাতে প্রয়োজনে আমরা সর্বোচ্চ চেস্টা করি। প্রিয়জনকে সুস্থ করে তুলতে পরিবারও যারপরনাই চেস্টা করে। সুচিকিৎসা চাওয়াটা যখন আমরা দেশের মাটিতে হারিয়ে ফেলি তখন অর্থশালীরা বিদেশ পাড়ি দেয়। কিন্তু তাই বলে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো বিদেশ চিকিৎসা করাতে পারবে না, তা কি হয়। একটু কম খরচে, একটু ভালো চিকিৎসার জন্য শেষ ভরসা ভারতের তামিলনাডু প্রদেশের ভেলরে অবস্থিত খ্রিস্টান মেমোরিয়াল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতাল।

ভেলর সিএমসি হাসপাতাল।

এখানে যারা আসতে চান তাদের কতগুলো বিষয় জেনে রাখা জরুরী। এখানে কিভাবে আসবেন, আসার আগে পাসপোর্ট, ভিসা, ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, বিমান, ট্রেণ টিকেট কিভাবে করবেন, কিভাবে চিকিৎসা নিবেন, কোথায় থাকবেন, ভাষার সমস্যা হবে কিনা এসব খুটিনাটি বিষয় আজকের লেখায় তুলে ধরবো। এতে অন্তত নিজে নিজেই সাহস করে ফেলবেন সিএমসিতে চিকিৎসা নেওয়ার এবং শেষ চেষ্টাটা অন্তত করার।
শুরুতে বলে রাখা ভালো, ভেলর সিএমসিতে চিকিৎসাটা একটু সময় সাপেক্ষ। আপনার যদি প্রচুর সময় আর দৈর্য না থাকে তাহলে ভেলরে আসার চিন্তা না করাই ভালো। এখানে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শেষ হতে যথেষ্ট সময় লাগে। সব কিছুর জন্য আপনাকে লাইনে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হবে। তবে রোগ নির্ণয় খুব নিখুঁতভাবে করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়। যার কারণে যারা একবার আসে তারা মুগ্ধ হয়।

ভারতে আসতে হলে প্রথমে পাসপোর্ট এবং ভিসাতো লাগবেই। পাসপোর্ট করা হয়ে গেলে ভিসার টেনশনে থাকেন সকলে। ভিসার জন্য ঢাকায় ইন্ডিয়ান এ্যাম্বাসী অথবা বরিশাল ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদন সেন্টারে যেতে হবে। তার আগে বলে রাখা ভালো আপনার রোগ যদি গুরুতর হয় এবং অপারেশন জাতীয় কোন কিছু করা লাগতে পারে তাহলে অবশ্যই মেডিকেল ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। কারণ ভুল করে অনেকে টুরিস্ট ভিসা করে ইন্ডিয়ায় চিকিৎসা করাতে আসে। এতে প্রাথমিক চিকিৎসা পেলেও অপারেশন করবে না হাসপাতালের কোন ডাক্তার। এতে যদি রোগী মারাও যায় তাহলেও ফেরত পাঠানো হবে। তাই বলছি, যেহেতু টাকা খরচ করে দূর দেশে যাওয়ার ইচ্ছা এবং যদি চিকিৎসার প্রয়োজনে অপারেশন করা লাগে তাহলে টুরিস্ট ভিসা না করে মেডিকেল ভিসা করাই ভালো। মেডিকেল ভিসা করতে হলে সবার আগে ভারতে যেখানে চিকিৎসা করাবেন সেখানের ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিলে কমপক্ষে ১৫ দিন থেকে ৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে ডাক্তারের সিরিয়াল পেতে। সেইজন্য ভেলোরে যাওয়ার ১৫ দিন থেকে ৩ মাস আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে চাইলে আগে জানতে হবে আপনার এই রোগের জন্য কোন ডিপার্টমেন্টে চিকিৎসা করাতে হবে। সেই চিকিৎসার স্পেশালিষ্ট চিকিৎসক আপনাকে অনলাইনে বেছে নিতে হবে। অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে চাইলে আপনাকে CMC ভেলোর এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। CMC ভেলোরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হল -www.clin.cmcvellore.ac.in
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নতুন কেউ নিতে গেলে অনেক জামেলা আছে। সবচেয়ে ভালো এটা নিতে নিজের এলাকায় কোন এক ট্রাবেল এন্ড ট্যুরস এর লোকাল এজেন্টের সহায়তা নিতে হবে। যেমন ভোলায় আরআর হেল্পলাইন কাজ করছে। লালমোহনে আরআর হেল্প লাইনের প্রতিনিধি আমি আছি। এ প্রতিষ্ঠান ভেলরে ট্রাবেল এন্ড ট্যুরস এর পার্টনার হয়ে কাজ করছে। এবং সকল বিষয়ে পরামর্শ দেয়।এছাড়া লালমোহনের রাহাত আনোয়ারও একই সেবাা দেয়।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্য পেয়ে যাবেন। এই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিলেন মানে যেখানে ডাক্তার দেখাবেন সেই ডাক্তারের ভিজিট অগ্রিম পরিশোধ করলেন। সেখানে আর ভিজিট দেয়া লাগবে না। তবে আপনার রোগ অনুযায়ী কোন ডিপার্টমেন্টের ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিবেন তা বলে দিবেন যাকে দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিবেন। আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট কিন্তু দুই ধরনের।
যেমন জেনারেল অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং প্রাইভেট অ্যাপয়েন্টমেন্ট।
General appointment –
আপনি যদি জেনারেল অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে থাকেন তাহলে জুনিয়ার ডক্টররা রুগী দেখে। সেই কারনে জেনারেল অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়ে যাবেন অনেক কম সময়ে। জেনারেল অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনলাইন বা অফলাইনে করা যায়। মোটামুটিভাবে ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে এই জেনারেল appointment পেয়ে যাবেন। এর খরচও কম।
Private appointment –
আপনি যদি প্রাইভেট অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন তাহলে সিনিয়র ডক্টররা রুগী দেখেন। তবে দূর থেকে গেলে অবশ্যই প্রাইভেট appointment নেওয়া উচিত। সিনিয়ার ডাক্তাররা দেখলে চিকিৎসা ভালো হয়।


অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনলাইনে পাওয়ার পর তা প্রিন্ট কপি কর ভিসার জন্য আবেদনের সাথে জমা দিবেন। ভিসা আবেদনও অনলাইনে করতে হবে। মেডিকেল ভিসা পেতে হলে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সাথে আরো কতগুলো পেপার্স লাগবে। ৬ মাসের মধ্যে আপনার বাংলাদেশের বড় কোন মেডিকেল ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, ৬-৭ টি টেস্ট রিপোর্ট এবং প্রেসক্রিপশনে ডাক্তারের রেফার্ড সুপারিশ। এক্ষেত্রে ডাক্তার রেফার্ড লিখতে চাইবে না। তবুও ডাক্তারকে বলে ‘রোগীর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, যে কোন জায়গায় প্রয়োজনে চিকিৎসা করাতে পারে’ এটুকু ইংরেজিতে ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে লিখে দিলেই হলো। না দিলে আপনাকে কারো সহায়তা নিতেই হবে। না হলে ভিসা নাও পেতে পারেন। এছাড়া নিজের নামে একটি বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট, ২ ইঞ্চি বাই ২ ইঞ্চি পেছনে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে সদ্য তোলা ২ কপি ছবি ও চাকরীজীবি হলে ওই প্রতিষ্ঠান প্রধানের ”চিকিৎসার জন্য ভারত গেলে কোন আপত্তি নেই” মর্মে একটি প্রত্যয়ন সঙ্গে দিতে হবে। এসব ঠিকঠাক থাকলে মেডিকেল ভিসা নিশ্চিত। রোগীর মেডিকেল ভিসার সাথে রোগীর সঙ্গে যে যাবে তার ট্যুরিস্ট ভিসা হলেই চলবে। তিনি চাকরীজীবি হলে প্রত্যয়নে লিখে নিতে হবে ”তার আত্মীয়কে অসুস্থজনিত কারণে ভারতে চিকিৎসার জন্য যেতে হবে। অথবা ভারতের দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে গেলে কোন আপত্তি নেই।”
মনে রাখতে হবে একজন সঙ্গে যেতেই হবে। না হলে কোন কিছুতে সেবা দিতে চায়না। যেমন ইঞ্জেকশন পুশ করা, টেস্ট করার সময় একজনকে অবশ্যই চাইবে। তখন আবার সেখান থেকে একজনকে খুঁজে নিতে হবে।

সিএমসি হাসপাতালের সামনে।

ভিসা পেয়ে গেলেই কিভাবে ভেলর যাওয়া যাবে তা নিয়ে চিন্তা শুরু। তার আগে দেখে নিন ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কত তারিখে। এর উপর নির্ভর করে যেতে হবে। বেশি আগে গেলেও বসে থাকতে হবে।

বাড়ি থেকে চূড়ান্তভাবে রওয়ানা হবার আগে কতগুলো কাজ করতে হবে জরুরীভাবে।
যেমন রোগী ও রোগীর সঙ্গে যাওয়া ব্যক্তির পাসপোর্ট ও ভিসার ৪ সেট ফটোকপি,
উভয়ের ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি,
ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ৩ কপি প্রিন্ট,
বিমান বা ট্রেনের টিকেট প্রিন্ট ২ কপি এবং
আপনি চাকরীজীবি হলে ওই প্রতিষ্ঠান প্রধানের ছুটি মঞ্জুরকৃত প্রত্যয়ন ২ কপি।
এসব সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে। না নিলে হয়রানী আর অর্থের অপচয় হবে। নতুন জায়গায় ফটোকপি খোঁজা, ছবি তোলা জামেলার ব্যাপার। বেনাপোল বন্দর অথবা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে চাকরীজীবিদের ছুটির কাগজ লাগবে। বর্ডার পার হতে ইমিগ্রেশনে সরকারী ট্যাক্স ৫০০ টাকা, টার্মিনাল টোল ৪২ টাকা দিতে হবে। এজন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে। সেখানে কিছু লোক আছে যারা বাড়তি দেড়শ টাকা নিয়ে তারাতারি করে দেয়।
যে বর্ডার হয়ে যাবেন সেখানে ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে পাসপোর্ট দিবেন ছবি তুলে সিল দিয়ে দিবে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পার হওয়ার মূহুর্তে।

ইমিগ্রেশনে একজনের কাছে ৮ থেকে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি টাকা নিয়ে ডুকতে দিবে না। এক্ষেত্রে বর্ডারের এপাশেই আছে সেই লোকগুলোর অফিস। যারা টাকা জমা নিয়ে বর্ডার পার হবার পর ওই পাড়ে গেলে তাদের নির্ধারিত দোকানের নাম বলবে। সেখান থেকে ইন্ডিয়ান রূপি দিয়ে দেবে। তবে কোন ডকুমেন্টস দিবে না তারা। কারণ এটা অবৈধ পন্থা।

যেভাবে যাবেন: 

যাওয়ার জন্য বিমান এবং ট্রেন দুই মাধ্যমে যেতে হবে। এসবের টিকেট কাটতে হলে আরআর হেল্পলাইন আছে সেবা দেওয়ার জন্য। বিমানের টিকেট যত অগ্রিম করা যায় তত কম টাকায় পাওয়া যায়। যেমন কেউ আগামী এপ্রিল/মে মাসে যাবে। এর জন্য এখন টিকেট কেটে রাখলে ঢাকা থেকে চেন্নাই ৭-৮ হাজারে করা যায়। আবার যদি যাওয়ার দু একদিন আগে টিকেট কাটবেন তাহলে ১২ হাজার বা তার বেশিও হতে পারে।

কোলকাতা দমদম এয়ারপোর্টে।

ঢাকা থেকে সরাসরি চেন্নাই গেলে ভেলর পৌছা সহজ হয়। অথবা বাসে কর বেনাপোল বর্ডার পার হয়ে কোলকাতা দমদম এয়ারপোর্ট গিয়েও বিমানে চেন্নাই যাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে বিমানের ভাড়া আরো কম হবে। বাংলাদেশ থেকেই বিমানের টিকেট কেটে নিতে হবে। চেন্নাই এয়ারপোর্ট থেকে নেমে ভেলর পৌছতে আরো দুই থেকে আড়াই ঘন্টা লাগবে টেক্সিতে।

ট্রেণে করে গেলে কোলকাতা হাওড়া গিয়ে ভেলরের কাটপাডি নামতে হবে। ১৭৫০ কিলোমিটার পথ। তবে এতে সময় লাগবে ৩২ ঘন্টা। তার মানে এ দীর্ঘ সময় ট্রেনে থাকতে হবে। বেনাপোল থেকে মার্কুইজ স্ট্রীট কোলকাতা ১২০ কিলোমিটার পথ বাসে করে যেতে হবে। ভাড়া ২৮০ টাকা। ট্রেন টিকেট আগেই অনলাইনে বুক করে নিতে হবে। এসি ২৬০০ রুপি, নন এসি ১২০০ রুপি। ট্রেনে ততকাল নামে একটি ব্যবস্থা আছে। ট্রেন ছাড়ার আগের দিন টিকেট ছাড়ে। এই ততকালে টিকেট দেয়া হয় ট্রেন ছাড়ার ২৪ ঘন্টা আগে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত। তবে বিদেশীদের জন্যে আলাদা একটা সুবিধাও রেখেছে ভারতীয় রেলওয়ে। আলাদা কিছু সিট রাখা আছে বিদেশীদের জন্য। এটার জন্যে যেতে হবে ফেয়ারলি প্লেসে। নিউ মার্কেট থেকে কোন অটোকে বললেই নিয়ে যাব। ক্যান্সার রোগীদের জন্য এবং তার এটেন্ডেট ( সাথে থাকবেন যে যিনি ) এর জন্য টিকেটে ছাড় আছে ।

যদি এভাবেও না হয় নিউ মার্কেটের আশে পাশের এলাকা বা ঢাকার বাস গুলো যেখানে থামে সেখানে অর্থাৎ মার্কুইস স্ট্রিটে এজেন্ট এর দোকান পেয়ে যাবেন যাদের কাছে টিকেট পাওয়া যাবে। এরা টিকেট প্রতি ২০০ থেকে ৭০০ রুপি পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ নেবে । হাওড়া স্টেশনের বাইরেও এজেন্ট আছে। শুধু রেগুলার দাম থেকে কিছু টাকা বেশি নিবে এই যা। তাই টিকেটের দুশ্চিন্তা অত না।

ট্রেনের দুটি ভাগ হল এসি ও নন এসি । নন এসির মধ্যে আছে জেনারেল (গাদাগাদি  সিস্টেম) এবং স্লিপার (শুয়ে বসে যাওয়া যায়) । আর এসির মধ্যে আছে ৩ টায়ার এসি (উপর থেকে নিচে ৩ জন শোবার এবং পাশাপাশি ৩ জন বসার ব্যবস্থা আছে), ২টায়ার এসি (উপর থেকে নিচে ২ জন শোবার এবং পাশাপাশি ২ জন বসার ব্যবস্থা আছে) । এসি সিট গুলোতে একটি বালিশ, বালিশ কাভার, একটি বাংকেট / কম্বল, দুটি চাদর ও একটি ছোট তোয়ালে থাকে। এসব আবার নন এসিতে থাকে না বলে শীতকালে নন এসিতে গেলে কম্বল কিনে রাখতে হবে বা নিতে হবে।

তবু ও কোন কারণে যদি কলকাতা যেতেই রাত হয়ে যায় বা টিকেট ও পাওয়া না যায় সেক্ষেত্রে থাকতে হতে পারে কলকাতায়। মার্কুইস স্ট্রিট এর আশেপাশেই অনেক হোটেল আছে। সেখানে চেক আউট ( হোটেল ছাড়ার সময় ) টাইম দুপুর ১২টা । অর্থাৎ সেখানে দিন কাউন্ট হয় দুপুর ১২টা থেকে পরদিন দুপুর ১২টা ।  ভাড়া ৮০০ থেকে উপরের দিকে। দু একদিন থেকে টিকেট ম্যানেজ করে নিতে পারন। তো আপনার কাছে টিকেট ও আছে। এবার যেতে হবে হাওড়া স্টেশন। হাওড়া মানেই বিশাল স্টেশন। যেতে হবে একটু আগে। ট্রেন কখন ছাড়বে বা কখন কতটা পৌছাল এসব চেক করতে গুগুলে গিয়ে লিখবেন, Train Status তারপর টিকেটে থাকা ট্রেন নাম্বার লিখলেই মিলে যাবে তথ্য।

তবে কোন ট্রেন কত নাম্বার প্লাটফর্মে দাড়াবে এনাউন্স করবে। অবশ্য এত শব্দে সেটা শোনা নাও যেতে পারে। বড় যে ডিসপ্লে গুলো আছে সেখানেও দেখা যাবে কোন ট্রেন কোন প্লাটর্ফর্মে আছে। আর প্লার্টফর্ম  পেয়ে গেলে সেখানে ঢোকার আগে নেটিশ বোর্ডে নিজের নাম আর সিট নাম্বার মিলিয়ে নিন। মালপত্র থাকলে তো কুলির সাহায্য নিতেই হবে আর রোগী থাকলে তার জন্যে কিছু প্রস্তুতির ব্যাপার আছে তাই আগে যাওয়া ভাল।

তো ডুকে যান ভারতে। লেখার পরিসর বেশি হয়ে যাওয়ায় ভারতে ডোকার পর আর কি করতে হবে, ভেলর সিএমসিতে কিভাবে চিকিৎসা নিবেন, সেখানে কোথায় উঠবেন তা নিয়ে পরের পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

এ সংক্রান্ত আগের সংবাদের লিংক: 

http://lalmohannews24.com/বাংলাদেশের-মানুষ-চিকিৎসা/

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি