LalmohanNews24.Com | logo

৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

ভাগ্য রিমান্ডে

ভাগ্য রিমান্ডে

নুরুল আমিন: এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয় যে চাকরি প্রদান বা চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাবীদেরকে মূল্যায়ন করা হয় না। তারা ঘুষ বাণিজ্যের কাছে হেরে যায়। সরকারি চাকরি নামক সোনার হরিণ তাদের কাছে অধরাই থেকে যায়। এমনটি চলতে থাকলে জাতি এক সময় মেধা শূন্যতায় ভুগবে। বিশেষ করে সরকারি দপ্তরগুলোতে মেধাবী সংকট প্রকট হয়ে উঠবে। সম্ভাবনাময় জাতির ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা দেবে। তাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া হলে দেখা যায় নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে থাকা দালাল চক্রের আনাগোনা। কোনো না কোনোভাবে নিয়োগ বোর্ড কিংবা নিয়োগ দাতার সঙ্গে দালালদের যোগাযোগ থাকে।

অফিস থেকে চাকরি প্রার্থীদের ঠিকানাসহ তালিকা সংগ্রহ করে দালাল চক্র লিখিত পরীক্ষার কার্ড পাওয়ার দালালী শুরু করে। প্রথম দালালী হয় লিখিত পরীক্ষার কার্ড নিশ্চিত করা।

এরপর লিখিত পরীক্ষা পাশ করা নিয়ে বাণিজ্য চলে। পরীক্ষার হল ম্যানেজ করা, প্রক্সি পরীক্ষা দেয়া, নকল সরবরাহ করা, প্রশ্নপত্র ফাঁস করা, একজনের উত্তরপত্রে আরেক জনে লিখে দেয়া ইত্যাদি। এমনকি চুক্তিতে পাশ করানোর মতো অসৎ পথ অবলম্বন করে থাকে। ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় দুর্বল ছাত্রদের হাতে চলে আসে মৌখিক পরীক্ষার কার্ড। এতোকিছুর মধ্যেও মেধাবী ছাত্ররা ফেল করে তা কিন্তু নয়।

সাধারণত নতুন কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে চাকরিজীবী ও স্বচ্ছল পরিবারের লোকজন তথা অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়ের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে চাকরি পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে তদবির চালায়। বেশিরভাগ চাকরি বাজারদর মতো চাকরিজীবীরাই ভাগিয়ে নেয়। কেননা অর্থের পাশাপাশি তাদের সক্রিয় লিংক থাকে।  আর এতে বঞ্চিত হয় গরীব ও মেধাবী ছাত্ররা। কারণ কৃষি তথা গরীব  কোনো পরিবারের পক্ষে মোটা অঙ্কের অর্থ যোগান দেয়া সম্ভব হয় না। যার কারণে তাদের চাকরি হয় না। বরং তাদের ভাগ্য রিমান্ডে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় কোনো উচ্চপদস্থ কিংবা ক্ষমতাধর ব্যক্তির সুপারিশও মেধাবীদের পিছলে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মৌখিক পরীক্ষায় চলে নানারকম নাটকীয়তা। এ পরীক্ষাতেই গরীব মেধাবীদের ভাগ্যের চূড়ান্ত বিপর্যয় ঘটে। মৌখিক পরীক্ষার তারিখ পড়ার পরপরই তদবির শুরু হয়। যাদের মামু-খালু আছে, নগদ টাকা ও তদবিরে জোর আছে তাদের চাকরি হয়ে যায়। মৌখিক পরীক্ষায় কাউকে শুধু নাম ঠিকানা জিজ্ঞেস করে ছেড়ে দেয়া হয়। আর কাউকে কঠিন কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থী আগেই জেনে যায় তাকে কি প্রশ্ন করা হবে। হ্যালো-তদবির বা ম্যানেজ প্রক্রিয়ার কারণে এমন হয়।

চাকরি নামক সোনার হরিণ পাওয়ার আশায়  মেধার জোরে একজন গরীব মেধাবী ছাত্র লিখিত পরীক্ষার গণ্ডি পার হতে পারলেও মৌখিক পরীক্ষার তেলেসমাতির কাছে তাকে হার মানতে হয়। সাধারণ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা হচ্ছে কোটা। সাধারণদের জন্য কোটার পাশাপাশি সুযোগ সৃষ্টি প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতির প্রভাব বা দলীয়করণের প্রবণতাও মেধাবীদের বঞ্চিত হওয়ার কারণ। এসব কারণে মূলত অপ্রত্যাশিতভাবে সাধারণ গরীব মেধাবীদের ভাগ্য রিমান্ডে ঝুলে থাকে।

যেহেতু চাকরির ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষা ঘিরেই ঘুষ বাণিজ্যসহ নানারকম দুর্নীতি চলে, তাই এ পরীক্ষা বাদ দেয়া উচিত। চাকরি প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল নম্বর বা পয়েন্ট এবং তাদের শিক্ষা জীবনে পাবলিক পরীক্ষা সমূহে প্রাপ্ত নম্বর বা পয়েন্ট যোগ করে মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি দেয়ার ব্যবস্থা করলে অনেক ভালো হতো। এতে দুর্নীতি কমতো, মেধাবীদের মূল্যায়ন হতো, লেখাপড়ার প্রতি ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ বাড়তো এবং ঘুষ বাণিজ্য রোধ করা যেতো।

ওরা গরীব, ওরা মেধাবী। ওদের ভাগ্য রিমান্ডে থাকা কাম্য নয়। ভাগ্য বিপর্যয় থেকে ওদের উদ্ধার করা উচিত। কারণ মেধার বিকাশ হলে গোটা জাতি উপকৃত হবে। তাই নিশ্চিত বলা যায় সকল সংশয় দূর করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মেধাবীদের মূল্যায়ন করা হলে দেশ এগিয়ে যাবে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতি রোধ করাসহ মেধার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়ার দৃঢ় ও টেকসই ব্যবস্থা সরকার নেবে এই প্রত্যাশা করা অযৌক্তিক হবে না আশা করি।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক।  লালমোহন, ভোলা। nurulamin911@gmail.com, 01759648626.

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি