LalmohanNews24.Com | logo

২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ব্রীজের অভাবে ৪ হাজার গ্রামবাসীর চরম ভােগান্তি।। ১০ বছরে আহত-৫০, নিহত-১

ব্রীজের অভাবে ৪ হাজার গ্রামবাসীর চরম ভােগান্তি।। ১০ বছরে আহত-৫০, নিহত-১

মনিরুজ্জামান,বোরহানউদ্দিন(ভোলা) সংবাদদাতা ঃ ব্রিজের অভাবে উপজেলার গংগাপুর ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার গ্রামবাসির ভোগান্তি চরমে।ঘূর্ণিঝড় সিড়রের তান্ডবে ইউনিয়নের ৬,৭,৮নং ওয়ার্ডের বিভাজিত সিকদারের খালের উপর যোগাযোগো রক্ষাকারী লেবু হাওলাদার বাড়ীর দরজার ব্রিজটি ভেঙ্গে যায়। এতে করে ওই ওয়ার্ড তিনটি অংশ বিশেষ সহ সিকদারের চরের বসবাসকারীগন ১০ বছরের অধিক সময় ভোগান্তির মধ্যে আছেন। স্থানীরা মিলে চলাচলের জন্য সাঁকো তৈরী করেন। যা পরিনত হয়েছে মরণ ফাঁদে। সাকোঁর দক্ষিণ অংশে (সিকদারের চর) ৪হাজার গ্রামবাসীর সন্তানদের লেখা-পড়া ,হাটবাজার,ইউনিয়ন কিংবা উপজেলার সাথে যোগাযোগে মাধ্যম ওই সাঁকো। বর্ষাকালে বিশেষ করে প্রাইমারী স্কুলের ছেলেমেয়েরা ওই সাঁকো পেরিয়ে স্কুলে যেতে পারে না।স্থানীয়রা জানায়,ব্রিজ ভাংগার পর থেকে ওই সাকো দিয়ে পারাপারে কমপক্ষে ৫০জন আহত হয়। নিহত হয় নজির আহমেদ সর্দ্দার।হঠাৎঅসুস্থদের পারাপারে নৌকাই একমাত্র উপায়।

গংগাপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের লেদু হাওলাদার বাড়ীর দরজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় কথা হয় স্থানীয়দের সাথে। এ সময় ৭নং ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি আবুল হোসেন,গংগাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সুজন হাওলাদার ওই এলাকার সফিকুল ইসলাম,বাবুল,আবুল হোসেন হাং জানায়- সিডরের সময় ব্রিজটি ভেঙে যায়। ১০ বছর পর ও ব্রিজটি হয়নি। যার কারণে ওই ৩টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার লোকজন দূর্ভোগে পড়েন। সাকোর উত্তর পাড়ে( ইউনিয়নের মুল অংশ) গংগাপুর হাইস্কুল,পূর্বজয়া সরকারী প্রাথমিক,দক্ষিন পূর্ব জয়া সরকারী,দক্ষিন জয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ একাধিক মাদরাসা রয়েছে।হাট বাজার কিংবা উপজেলার সাথে যোগাযোগে দক্ষিণ পাড়ের লোকজনকে এ পাড়ে আসতে হয়।ওই পাড়ে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।আবার দক্ষিন পাড়ে রয়েছে বিশাল সিকদারের চর।চাষাবাদের জন্য কৃষি উপকরণ নিয়ে এই সাকো দিয়েই যেতে হয়। তারা আর ও জানায়,সাঁকো পারাপারের সময় ফরহাদের স্ত্রী লুৎফা,নজু সরদার,স্কুল ছাত্র তুহিন,মাহিন শিমুল,এমিলি ও তানিয়া বই খাতা সহ খালে পড়ে যায়।তারা জানায় এ পর্যন্ত সাঁকো থেকে পড়ে ৫০জন আহত হয়েছে।৮নং ওয়ার্ডের সিরাজ মাঝি জানান তার বাবা নজির আহমেদ সর্দ্দার সাঁকো থেকে পড়ে মারা যায়।তিনি ও আবুল কাসেম জানায় ,বর্ষা কালে পুরুষরা বাড়ীতে থাকলে ছোট্রদেরকে নৌকায় করে স্কুলে পাঠাই।এছাড়া তাদের স্কুলে যাওয়া হয় না।তবে এ সময় খাল সাতঁরিয়ে কয়েকজনকে পার হতে দেখা যায়।

দক্ষিণ জয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্র লিমন ৩য় শ্রেণির ছাত্র জিয়াউল,নুপুর,৪র্থ শ্রেণির তানিয়া ৫ম শ্রেণির আশ্রাফুল, কেরাতিয়া মাদরাসার ছাত্র হুসাইন জানায়,বর্ষাকালে হাক্কা(সাঁকো) পিছল(পিচ্ছিল) থাকে,তখন খালে পইরা যাই।ওই সময় আমরা স্কুলে কম যাই।আলমগীর হাং বলেন,সাঁকো পাড়ানোর সময় আমি নিজেই খালে পড়ে যাই।সাঁকোর দক্ষিন পাড়ের আসকর হাওলাদার বাড়ীর গৃহবধু পারভীন জানান-তার সন্তান সুরমা,সায়েমা ,সাদিয়া স্কুলে যাওযার সময় ২ বার খালে পড়ে যায়।

৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার নসু হাওলাদার ও কালাম বর্দ্দার জানান,বর্ষাকালে মানুষের খুবই কষ্ট হয়।আহতের সংখ্যা ৩০-৫০ বলে জানান।

গংগাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম কে মুঠো ফোনে পাওয়া যায়নি,তবে প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম লিটন জানান,ব্রিজ না থাকার জনগনের সমস্যা হচ্ছে। ব্রিজ করার বাজেট পরিষদে নেই।

 

হাসান পিন্টু

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি