LalmohanNews24.Com | logo

৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

বেঁচে থাকুন বহু বছর!

বেঁচে থাকুন বহু বছর!

আসছে নতুন বছর। বছরটা শুরু করুন খাতা কলম নিয়ে আঁটশাট বসে। না, নতুন করে পড়ালেখার প্রতি সিরিয়াস হতে বলছি না। ভাবুন আপনার একটাই তো জীবন, এই জীবনের অর্থ কি? ভেবে যা পেলেন, চটপট খাতায় লিখুন। চরম বিষণ্ণতা ও অনিশ্চয়তায় ভরা জীবনটা এতে করে খুঁজে পেতেও পারে নতুনভাবে বেঁচে থাকার মানে! আপনি পেতে পারেন দীর্ঘ ও সুখী একটি জীবন।

জীবনের বিগত বছরগুলোতে আপনি কী কী করেছেন এই মহা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করার অভ্যাস করুন। এটি এমন একটি প্রশ্ন, যার উত্তর বছর বছর পরিবর্তন হবে, হতে বাধ্য। আর এই অনুশীলনটি যে আপনাকে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে সহায়তা করবে, এটি পরীক্ষিত। ‘দ্য উইজডম প্রজেক্ট’ নামের একটি প্রকল্পের উদ্ভাবক হিসেবে গত বেশ কয়েক বছর দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্মে ব্যক্তিস্বাধীনতার উপরে বেশ কিছু মানুষের নিজস্ব লিখিত মতামত সংগ্রহ করেছি।

২০১৪ তে প্রকাশিত দুটি গবেষণার কথা উল্লেখ করতে পারি। প্রথমটিতে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৯ হাজার ষাটোর্ধ মানুষ, পরেরটিতে ২০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী প্রায় ৬ হাজার মানুষ অংশ নেন। এদের মধ্যে যারা জীবনকে অর্থহীন মনে করতেন তাদের তুলনায় যারা জীবনের কোনো না কোনো অর্থ ভেবে বের করতে পেরেছিলেন; তারা পেয়েছেন দীর্ঘায়ু এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জীবনের মানে কার কাছে কী রকম তা তাদের দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে নি। কারো কারো কাছে জীবনে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য হয়তো ব্যক্তিগত (সুখ, হাসি, আড্ডা, আনন্দ) আবার কারো কারো উদ্দেশ্য হলো সৃজনশীল কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করা; যেমন: ছবি আঁকা, গান করা, সিনেমা বানানো ইত্যাদি। একটি বিষয়ই এখানে তাৎপর্যপূর্ণ যে, আপনার কাছে আপনার জীবনের কোনো মানে আছে কি না।

এরকমটি হওয়ার একটি কারণ হতে পারে, আপনার যদি বেঁচে থাকার কোনো উদ্দেশ্য থাকে, তবে আপনি সেই উদ্দেশ্যের জন্য হলেও প্রাত্যহিক জীবনের ঝুট-ঝামেলা হাসিমুখে মোকাবেলা করার শক্তি পাবেন। ধরুন, আপনি একজন মেয়ের বাবা, তো রীতিমতো আপনিও চাইবেন, মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত অন্তত যাতে সুস্থ সবলভাবে বেঁচে থাকা যায়। ওইদিন যাতে নিজের পায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে মেয়ের বিয়ে দিতে পারেন। এই কারণটির জন্য হলেও কিন্তু আপনি নিজের যত্ন নিবেন, শরীর যাতে অল্পতে ভেঙে না যায়, আপনার কিছু হলে আপনার পরিবার কি পরিমাণ বিপদে পড়বে; এই কথা ভেবে আপনি শঙ্কিত হবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে চাইবেন বেশিদিন।

2.জীবনের মানে খুঁজে নিন, বেঁচে থাকুন বহু বছর!

এই ব্যাপারটিই আসলে দীর্ঘায়ু পাওয়ার জন্য প্রচণ্ডরকম সহায়তা করে থাকে। কিন্তু যখন মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবে তখন? জীবন শেষ? না, তখন জীবনে বাঁচার নতুন মানে খুঁজে নিতে হবে, যার জন্য আপনি আরো কিছু বছর বাঁচার তাগিদ অনুভব করবেন।হতে পারে, আপনি একটি বই লেখার সিদ্ধান্ত নিলেন, অথবা শেষ বয়সে এসে পৃথিবীটা ঘুরে দেখার তাগিদ অনুভব করলেন! এগুলো আসলে উদাহরণমাত্র। আপনার বেঁচে থাকার মানে আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে। অন্য কারো পক্ষে তা করে দেয়া সম্ভব নয়।

প্রতি বছর নিজেকে জীবনের মানে বুঝে ওঠার প্রশ্নটি এজন্যই করা উচিত!কারণ এর কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই। সময়ের সঙ্গে এর উত্তর বদলায় এবং এ ব্যাপারটি চিত্তাকর্ষক বলেও অনেকের ধারণা। বিখ্যাত সব মনিষীরাও এই প্রশ্নের উত্তর নানাভাবে দিয়ে গেছেন। আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিক দার্শনিক প্লেটো বলেছিলেন, সুন্দরতর একটি জীবনের কামনাকে যদি একটি প্রদীপ হিসেবে গন্য করা হয়, ভালোবাসা হলো সেই প্রদীপের শিখা। রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয় বলেছেন, জীবনের চূড়ান্ত অর্থ লুকিয়ে আছে মানবতার কল্যাণ সাধনের মাঝে।তাই ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা হোক, মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ হোক কিংবা হোক শুধু নিজের ব্যক্তিগত সুখের চিন্তা, জীবনটাকে অর্থবহ করতে আগে আপনার জীবনের মানে খুঁজে বের করুন। নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করুন- ‘কেন এসেছিনু এ ধরায়?’

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি