LalmohanNews24.Com | logo

৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২২শে মে, ২০১৯ ইং

বৃষ্টি ঝরিয়ে আরো দুর্বল হবে ‘ফণি’

বৃষ্টি ঝরিয়ে আরো দুর্বল হবে ‘ফণি’

‘ফণি’র বিপদ কেটে গেছে। মধ্যাঞ্চলে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। যার কারণে বিপদ সংকেত নামিয়ে নিতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ ভারতের উড়িষ্যায় আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে পশ্চিমবঙ্গ পেরিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। দুপুরে এটি দুর্বল হয়ে স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চল এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছিল বলে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়।

এটি বৃষ্টি ঝরিয়ে আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের উপ পরিচালক আয়শা খানম জানান, ফণি দুর্বল হয়ে পড়ায় সমুদ্র বন্দরসমূহকে পূর্বের বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফরিদপুর-ঢাকা অঞ্চল এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ফণি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে আজ দুপুর ১২ টায় পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চল এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছিল।

এটি আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। গভীর নিম্নচাপটির প্রভাবে বাংলাদেশের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং দেশের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।

এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘন্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ছয় নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

কক্সবাজার সমূদ্র বন্দরকেও চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারী সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অমাবস্যা ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের কারণে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ২-৪ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এর আগে ঘূর্ণিঝড় ফণি আজ সকাল ৬টার দিকে ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার গতিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় আঘাত হানে। সকালে সাতক্ষীরা, যশোর ও খুলনা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বলে জানান আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ।

আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া কয়েক লাখ মানুষের বিপদ কেটে যাওয়ার কথা জানিয়ে তাদের ঘরে ফেরার বিষয়ে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানায়।

দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান জানান, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে থাকা ১৬ লাখের বেশি মানুষ বিকেল নাগাদ তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন। ঝড়ে বরগুনা, ভোলা ও নোয়াখালীতে মোট চারজনের মৃত্যু এবং বিভিন্ন জেলায় ৬৩ জন আহত হওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি