LalmohanNews24.Com | logo

২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বিসিএস কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ওরা!

বিসিএস কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ওরা!

বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি: দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে চার শিক্ষার্থী। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মানিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থী খুকুমনি, নাজমা বেগম, ফারজানা আক্তার ও মো. জিহাদ এ অসাধ্য সাধন করেছে।

এমন ফলাফলে পরিবার-স্বজন, প্রতিবেশী ও শিক্ষকদের মুখে হাসি ফুটলেও তারা ভবিষ্যৎ লেখাপড়া নিয়ে চিন্তিত। দারিদ্র্যতাই তাদের স্বপ্নে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দারিদ্র্যের কশাঘাতে ক্ষতবিক্ষত এ চার নক্ষত্রের স্বপ্ন পড়ালেখা করে ভবিষ্যতে বিসিএস কর্মকর্তা হওয়া।

মো. জিহাদ:

জিহাদের বাড়ি বড়মানিকা ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডে। বাবা শাহজাহান মিয়া তার বিশ শতক জমিতে কৃষিকাজ করেন। এছাড়া কিছু জমি বর্গা নিয়েও তিনি চাষ করেন। তিন ছেলে তিন মেয়ে নিয়ে তার বড় পরিবার।

বড় দুই মেয়ে শাহনাজ ও রেহানাকে বিয়ে দিয়েছেন বছর কয়েক আগে। সেজো ছেলে ঢাকায় পিকআপভ্যান চালায়। জিহাদের ছোট ভাই হাসনাইন একই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। আর সবার ছোট বোন রত্না দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

জিহাদের মা সেতারা বেগম জানান, জিহাদকে নিয়ে তার অনেক আশা-ভরসা। যতই কষ্ট হোক তাকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলবেন। তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, যদি টাকার অভাবে ওর পড়াশোনা থেমে যায় তাহলে কিই-বা করার থাকবে। জিহাদের ইচ্ছা ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হবে।

নাজমা বেগম:

নাজমার বাড়ি উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডে। বাবা মো. ইউসুফ কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। প্রায় এক যুগ আগে মেঘনা নদী বসতভিটা কেড়ে নেয়ার পর আট শতক জমি কিনে নতুন বসতি গড়েন। যা আয় করেন, তা সন্তাদের পেছনে চলে যায়।

এসএসসি পড়া অবস্থায় নাজমার বড় বোন শিমুর বিয়ে হয়ে যায়। ছোট ভাই শরিফ ও ইমন একই স্কুলে যথাক্রমে সপ্তম ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। নাজমার মা বিনু বেগম জানান, এখনই বিভিন্ন স্থান থেকে তার মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসছে। এলাকাটাও ভালো না বলে তিনি মন্তব্য করেন। সন্তানদের শিক্ষিত করার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানান।

নাজমার ইচ্ছা সে লেখাপড়া চালিয়ে যাবে। সে ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

ফারজানা আক্তার:

ফারজানা আক্তার উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের বর্গাচাষি আ. মজিদের মেয়ে। ঘরভিটা ছাড়া নিজের জমি বলতে কিছু নেই। অন্যের জমি চাষ করে কোনো রকমে তিনি সংসার চালান।

তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে ফারজানা তৃতীয়। বড় দুই বোন সুরমা ও সুরাইয়ার বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছোট ভাই স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ফারজানার মা জোছনা বেগম জানান, তার এ মেয়েটি মেধাবী। ইচ্ছা আছে যত দূর ও পড়তে চায় পড়াবেন। কিন্তু টাকার অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলে কিছুই করার থাকবে না। ফারজানার ইচ্ছা, সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করবে।

খুকুমনি:

বাবা শফিউদ্দিন ঢাকায় একটি বিমা কোম্পানিতে ছোটখাটো চাকরি করতেন। গত বছরের জুন মাসের ৪ তারিখে বাড়িতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান। পর খুকুমনির মা সেলিনা বেগম জানান, তার স্বামী মারা যাওয়ার পর খুকুমনি প্রচণ্ড মানসিক শক খায়।

একসময় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে ঢাকা নিয়ে চিকিৎসা করান। অনেক সময় লাগে তার সেড়ে উঠতে। এ বছর সে পরীক্ষা দেবে না বলেই বেঁকে বসে। অনেক পিড়াপিড়ির পর সে পরীক্ষা দিতে রাজি হয়।

তিনি আরও জানান, ২০ শতাংশ ফসলি জমি লগ্নি করে সামান্য আয় হয়। এছাড়া তার স্বামীর রেখে যাওয়া প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাও প্রায় শেষ। খুকুমনির একমাত্র ছোট ভাই ইব্রহিম একই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। খুকুমনির বাড়ি উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডে শিকদার বাড়ি নামে পরিচিত।

তার ইচ্ছা ভবিষ্যতে একজন প্রশাসন কর্মকর্তা হওয়া। সেলিনা বেগম খুকুমনির পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারবেন এ নিয়ে শংকা প্রকাশ করেন।

চার শিক্ষার্থীই জানান, তাদের স্কুলের শিক্ষকরা যদি যত্নশীল না হতেন, তাহলে এ ফলাফল অর্জন সম্ভব হতো না। মানিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফরুক জানান, ওদের মেধা আছে। যত্ন, সুযোগ আর সঠিক পরিচর্যা পেলে এরা অনেক দূর যাবে।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি