LalmohanNews24.Com | logo

৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

বিচার পায় না ৯৭ ভাগ নারী

বিচার পায় না ৯৭ ভাগ নারী

দেশে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ৩ দশমিক ১ শতাংশ নারী বিচার পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভুক্তভোগীর অভিযোগ আদালতে শুনানির পর্যায়ে যায় না। আবার গেলেও তা বাতিল হয়ে যায়।

সোমবার দৃক গ্যালারিতে ‘বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার উপর দৃষ্টিপাত : প্রবণতা এবং সমাধান’ বিষয়ক গবেষণার ফল প্রকাশিত হলে এ সব তথ্য জানা যায়। অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ ও জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম (জেএনএনপিএফ) এ গবেষণা পরিচালনা করে।

গবেষণার ফলে বলা হয়েছে, দেশে এখনও ৬৬ ভাগ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা সম্পর্কিত মামলাগুলোর প্রতি ৫টির মধ্যে ৪টি আদালতে উত্থাপিত হতে ২ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়, তারপর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। আবার ৩২ ভাগ অপরাধী খালাস পেয়ে যায়।

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং জেএনএনপিএফ ‘১৬ দিনব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে ২০টি জেলার ২ হাজার ৮শটি ঘটনার তথ্য নিয়ে এ গবেষণা করে। গবেষণায় নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার বেইজলাইন জরিপ-২০১৫ এর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন গবেষক আহমেদ ইব্রাহীম। গবেষণা ফলের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, নারীদের ছোটবেলা থেকেই যে কোনো সমস্যা লুকিয়ে রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়। সহিংসতার শিকার অনেক নারী আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বিচারের দোরগোড়ায় যেতে পারে না; সে ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার তারা পাবে কী ভাবে? এ জন্য নারী-পুরুষ উভয়কেই সচেতন করতে হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশনা ভূমিকা রাখতে পারে।

নারীনেত্রী ও নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশি কবির বলেন, সমাজে মনে করা হয় নির্যাতন একটি স্বাভাবিক ঘটনা। আবার নির্যাতনের শিকার একজন নারী থানায় গিয়েও অভিযোগ দিয়ে সহযোগিতা পান না, হয়রানি করা হয় তাকে। আইনি জটিলতায় বিচার পেতে অনেক সময় লাগে। একজন নারী বা একটি পরিবারের পক্ষে টাকা খরচ বা সময় দিয়ে পরিশেষে বিচার পাওয়া খুবই কঠিন। সে কারণে অধিকাংশ মামলার বিচার আলোর মুখ দেখে না।অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, যখনই আমরা কোনো না কোনো নির্যাতনকে মেনে নিচ্ছি, তখন ভাবতে হবে, আমরা সহিংসতাকেই সমর্থন করছি। ফলে নারীদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়।

গবেষণায় কিছু সুপারিশ তুলে ধরে গবেষক ইব্রাহীম বলেন, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং গৃহে এর ব্যাপকতাকে নির্মূল করার জন্য আইন এবং তার বাস্তবায়ন করা; জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নারীরা যেন গৃহে সংঘটিত সকল ধরনের সহিংসতা চিহ্নিত করতে পারে সে বিষয়ে তাদের সচেতনতা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করা; নারীরা যাতে সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদ, প্রতিরোধ কিংবা অভিযোগ করতে পারে তার জন্য সকল তথ্য দিয়ে সহযোগিতা নিশ্চিত করবে সরকার; নারীরা যাতে সঠিক উপায়ে আইনগত অভিযোগগুলো দাখিল করতে পারে সে বিষয়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া উচিত।

সহিংসতার নানা ঘটনা সম্পর্কে মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং উন্মাদ ‘ফেমিটুন’ শিরোনামে একটি ভিন্নধর্মী কার্টুন প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনী চলবে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি