LalmohanNews24.Com | logo

২রা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৬ই আগস্ট, ২০১৮ ইং

বিএনপিশূন্য রাখতে মামলার জালে ফেলে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত : জুলাই ২৯, ২০১৮, ১৫:৫৯

বিএনপিশূন্য রাখতে মামলার জালে ফেলে গ্রেপ্তার

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপিশূন্য রাখতে মামলার জালে  ফেলে গ্রেপ্তার ও বাসায় বাসায় হানা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদেও খোঁজা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আজ্ঞাবাহী প্রশাসন ক্ষমতাসীন দলের নির্দেশ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার বিএনপির পল্টনস্থ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন রুহুল কবির রিজভ। রিজভী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব, ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সহ-সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাককে গতকাল রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ৪/৫ দিন আগে তার ছেলে রুমান রাজ্জাককেও পুলিশ আটক করে। একইভাবে সিলেটে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় ৮০ জন নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দল পুলিশকে দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, ধাওয়া, বাধা ও হুমকি দিচ্ছে। একতরফাভাবে বিজয়ী করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন নগ্নভাবে নৌকা মার্কার পক্ষে মাঠে নেমেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, রাজশাহীতে যেন ভুতুড়ে নগরী, শ^াসরোধকারী গুমোট অবস্থা বিরাজ করছে। নৌকা মার্কার অনুকুলে একতরফা ভোট করার জন্য পুলিশ ও প্রশাসন যৌথভাবে বিবেক শুন্য অনাচারে লিপ্ত রয়েছে। সেখানে আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডারদেরই জয়জয়কার। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় সাধারণ ভোটারদের তাড়িয়ে দিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সেখানে রাজত্ব কায়েম করেছে। পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করে আশেপাশের জেলা-উপজেলায় পাঠিয়ে দেয়। সেখানে পেন্ডিং ও নতুন মামলায় তাদের আসামী করে জেলে পাঠানো হয়-যা আমরা আপনাদেরকে বারবার অবহিত করেছি।

রিজভী বলেন, তফশীল ঘোষনার পর থেকে রাজশাহীতে ৯টি মামলায় দলের কয়েক শো নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। মহানগর জুড়েই ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী বুলবুলের নির্বাচনী প্রচারণা অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ ৪/৫ দিন আগেও অফিসগুলো লোকে লোকারণ্য ছিল। বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার, মামলা এবং ভোটারদের মনে ভীতি ও আতঙ্কের কারণেই এই অবস্থা বলে জানান তিনি।

রুহুল কবির রিজভী আরো বলেন, ঢাকা থেকে কালো গাড়ীতে করে সিল মারা অতিরিক্ত ব্যালট পেপার রাজশাহীতে নিয়ে আসা হয়েছে। ধানের শীষের পুরুষ ও মহিলা এজেন্টরা গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সিটি এলাকায় প্রায় ১০টি কালো কাঁচঢাকা গাড়ী ঘোরাফেরা করছে। এই গাড়ীর ভেতর কারা সেটা নিয়ে ভোটাররা উদ্বেগ ও উৎকন্ঠিত। এর ভেতরে কী সাদা পোশাকধারী সরকারি বাহিনীর লোক নাকি বহিরাগত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা, তা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মনে প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে। ট্রফিক পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, একইভাবে বরিশাল এখন আওয়ামী ক্যাডারদের দখলে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে বহিরাগত ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডার’রা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে গোটা সিটি এলাকায় তান্ডব চালাচ্ছে। পুলিশ-র‌্যাব এর ছত্রছায়ায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে। তিনটি থানায় বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় আসামী করেছে পুলিশ। প্রশাসনের নির্দেশে অনেক নেতাকর্মীর বাসাবাড়ীর বিদ্যূৎ লাইনও বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের হুমকি ও পুলিশের লাগাতার গ্রেপ্তারের খবরে বরিশাল মহানগরে আতঙ্ক আসন গেড়ে বসেছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, পুলিশ ও প্রশাসন বিএনপি’র নির্বাচনী প্রচারণা জোর করে বন্ধ করেছে। অথচ ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে একের পর এক পথসভা করছে, বিশাল শো ডাউন দিচ্ছে। প্রচারণার শেষের দিন ধানের শীষের প্রার্থী ও সমর্থকদেরকে মাঠেই নামতে দেয়নি পুলিশ। এজন্য তিন সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলায় আসামী করা, নেতাকর্মীদের বাড়ীঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত নেতৃবৃন্দের নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানান রিজভী।

নির্বাচন কমিশন উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, গাজীপুর ও খুলনায় নতুন মডেলের ভোট ডাকাতির নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন কথা দিয়েছিল আগামী নির্বাচনগুলো অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করবে। কিন্তু তিন সিটি নির্বাচনে প্রচারণা শুরু হলে কমিশনের পুরনো চেহারা আবারও ফুটে উঠতে শুরু করে। তারা রাখঢাক না করে মুখোশের শেষ সুতোটুকুও খুলে ফেলেছে। যেভাবে খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যেভাবে নির্বাচনী এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছিল, যেভাবে ধানের শীষের নির্বাচনী এজেন্টদের এলাকাছাড়া করা হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর রুপ দেখা যাচ্ছে তিন সিটি এলাকায়।
তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে আকাশে বাতাসে ভোটারদের মাঝে ভেসে বেড়াচ্ছে ভয় আর গুঞ্জন। গাজীপুর ও খুলনার ভোটের মতো নয়া সিস্টেমের ভোট ডাকাতি প্রত্যক্ষ করবে কী না এই আতঙ্কে আছে তিন সিটির ভোটাররা। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের মন থেকে ভয়ভীতি দুর করে আশঙ্কামুক্ত ভোটের পরিবেশ তৈরী করতে সম্পূণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

সরকারকে লক্ষ্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন এখন সরকারি সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত। সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে ফেলাটাই যেন এখন আওয়ামী লীগের প্রধান এজেন্ডা। আকাশের তারা পৃথিবী থেকে দেখা যায়, কিন্তু গণতন্ত্রকে যাতে দুর থেকেও দেখা না যায় সে ব্যবস্থা করছেন ভোটারবিহীন সরকার প্রধান। গণতন্ত্রের সমাধি রচনা করেছেন শেখ হাসিনা। সুতরাং বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন এখন স্বপ্নালোকে বিরাজ করছে বলে জানান তিনি।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি