LalmohanNews24.Com | logo

১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি: মানুষ-গরুর একসঙ্গে বাস!

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি: মানুষ-গরুর একসঙ্গে বাস!

গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সবগুলো নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। গাইবান্ধার দু’টি উপজেলা বাদ দিয়ে ৫টি উপজেলার ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। গতকাল রাত থেকে যমুনা ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আজও রেললাইনে পানি ওঠায় দু’দিন ধরে উত্তরের সঙ্গে রাজধানীর ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

শহরের জেলা প্রশাসকের বাস ভবন, মেয়রের বাড়িসহ সবগুলো বাড়িঘরের মধ্যে এখন পানি। রাস্তায় বের হওয়া যাচ্ছে না। চালানো যাচ্ছে না মোটরসাইকেল বা অন্যকোন যানবাহন।

ফলে লোকজন তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। গাইবান্ধার সাত শতাধিক স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এসব স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করলেও সেগুলোর মধ্যে অনেক স্কুলেও পানি ওঠেছে। গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে এলেও শান্তি নেই। বেঞ্চ উঁচু করে কোনমতে বসে থাকলেও মলমূত্র ত্যাগের সমস্যা ও খাবার পানির সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বন্যা এখন আর গ্রাম ও চরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই। শহরের ও গ্রামের সর্বত্র থৈ থৈ পানি। পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ভোগ বেড়েছে গবাদি পশুর। এইসব এলাকার মানুষের প্রধান সম্পদ গবাদি পশু রক্ষায় তারা বিভিন্ন উঁচু জায়গায়, বাঁধে এবং মাচা করে রাখছে। মানুষ ও গরু ছাগল একই জায়গায় রাতদিন কাটাচ্ছে।  তার ওপর রয়েছে চোর-ডাকাতের উৎপাত। মাঠ ডুবে যাওয়ায় খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে গবাদি পশুর।

এদিকে বাদিয়াখালী এলাকায় রেল লাইন ডুবে যাওয়ায় বুধবার দুপুর থেকে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সকল জেলার ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ত্রাণ বিতরণের কথা শোনা গেলেও দুর্গতরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা খেয়ে না খেয়ে কোনমতে মানবেতর জীবনযাপন করছি কিন্তু কেউ আসে না। রিলিফ তো দূরের কথা, খোঁজও করতে আসে না। তাই চরাঞ্চলের প্রায় ৪ শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নিয়ে নৌকায় বসবাস করছে। আবার কেউ অন্যত্র উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি