LalmohanNews24.Com | logo

৫ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৮ই এপ্রিল, ২০১৯ ইং

‘বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, তাই তারেক রহমানকে ফেরানো যাচ্ছে না’

‘বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, তাই তারেক রহমানকে ফেরানো যাচ্ছে না’

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। তাকে ফেরত দেয়ার জন্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বুধবার ঢাকায় নতুন ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

ডিকসন বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যাবর্তন চুক্তি নেই। আবার বিষয়টি যুক্তরাজ্যের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার অধীন। তবে তার দেশ তারেক রহমানকে নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের কোনও ক্ষতি হোক সেটা চায় না।

এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছেন, দণ্ডিত সবাইকেই দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যে সরকার কাজ করছে।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত আইনমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন। ওই বৈঠকের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, তারেক রহমান একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি কারাগারে না থেকে বিদেশে অবস্থান করছেন। তাই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার।

আনিসুল হক বলেন, দেশের আদালতের বিচারে তারেক রহমান দণ্ডিত আসামি। দুটি কারণে আমরা তাকে ফেরত চাওয়ার কথা বলেছি। এক. তারেক রহমানকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিলে অন্য আসামিদের ক্ষেত্রেও তা দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে এবং দুই. আমাদের আদালত ঠুঁটো জগন্নাথ নয়। আমাদের আদালত একটা অপরাধীকে শাস্তি দিয়েছে। এখন তার একমাত্র জায়গা হচ্ছে কারাগার। এই দুটো কারণে আমরা তারেক রহমানকে ফেরত চাই।

মন্ত্রী বলেন, ‘হাইকমিশনার বলেছেন তিনি তার সরকারের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলবেন। সেটা এই সমস্যার ব্যপারে একটা ইতিবাচক উত্তর বলে আমি মনে করি এবং আমার এটাও মনে হয়, এটা নিয়ে আলাপ করলে সমস্যার সমাধান আমরা করতে পারব’।

এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমানের বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক ক্ষুণ্ণ হোক তা ব্রিটেন চায় না বলে জানান হাইকমিশনার ডিকসন।

তিনি বলেন, ‘বৈঠকে এ নিয়ে আমি দুটো বিষয় বলেছি। প্রথমত, এই বৈঠকের বিষয়টি আমি লন্ডনের সাথে আলোচনা করব। দ্বিতীয়ত, তারেক রহমান লন্ডনে বসবাস করছেন, আমাদের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় তার ওইখানে বসবাস করার অনেক সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশে ফেরত আসার ব্যাপারে তারেক রহমান এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেননি, যা আমাদের বিচারিক ব্যবস্থায় বিবেচিত হতে পারে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমাদের বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে আমরা কোনোভাবেই চাই না, এই একটিমাত্র বিষয়ে বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ হোক’। এছাড়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিচার ব্যবস্থা পুনর্গঠনের বিষয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সরকারের যৌথ কর্মপন্থা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানান হাইকমিশনার।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো ‘গণহত্যার’ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয় নিয়ে যুক্তরাজ্যের সমর্থনের ব্যপারে আলোচনা হয়নি বলে জানান আইনমন্ত্রী।

তবে তিনি বলেন, ‘আমরা এই ব্যাপারে কাজ শুরু করব। ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতির জন্য আমরা কাজ করব। সেই নির্দেশনাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা পেয়েছি। পরিকল্পনামাফিক সেই কাজে এগিয়ে যাব। আমরা সেই পরিকল্পনাটা তৈরি করছি। আমার মনে হয় পরিকল্পনাটা তৈরি করার পরেই যেসব বন্ধুপ্রতীম দেশ আছে তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করা উচিৎ’।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার কানাডার আদালতে একটা শুনানি হয়েছে নূর চৌধুরীর ব্যাপারে। কানাডিয়ান সরকারের কাছে আমরা কিছু তথ্য চেয়েছি। সেই তথ্য মিনিস্টার ফর ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সিটিজেনশিপ অব কানাডা দেয় নাই, না দেওয়ার কারণে আমরা কানাডার ফেডারেল কোর্ট গিয়েছিলাম। সেখানে গত বৃহস্পতিবার যে শুনানি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের আইনজীবী তার বক্তব্য রেখেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল অব কানাডার পক্ষে আইনজীবী বক্তব্য রেখেছেন। আমি জেনেছি যে, নূর চৌধুরীর আইনজীবীও বক্তব্য রেখেছেন। কোর্ট সবার শুনানি নিয়ে পরে রায়ের জন্য রেখেছেন’।

এদিকে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসনের বাসায় বুধবার দুপুরে ‘অ্যা কানেকটেড কমনওয়েলথ’ নামে একটি ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন এনজিও, সরকারী সংস্থা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিকসন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তি নেই। আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন। তারেক রহমানের বিষয়টি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে বিবেচিত হবে। তবে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা চাই না, এই ইস্যুতে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোনও রকম ক্ষতি হোক’।

অপরদিকে, বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অপর একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মোমেনের কাছে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার কোনও চেষ্টা সরকার করছে কিনা জানতে চান। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সকল দণ্ডিত আসামিকেই বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে’।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি