LalmohanNews24.Com | logo

১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং

‘ফণি’র অগ্রভাগ বাংলাদেশে

‘ফণি’র অগ্রভাগ বাংলাদেশে

‘ফণি’র অগ্রভাগ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরইমধ্যে ভোলা, চরফ্যাশন, পাথরঘাঁটা, কলাপাড়া, লালমোহন, মঠবাড়িয়া, সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘ফণি’র অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হয়েছে। যতটুকু শক্তি হারানোর কথা ছিল ততটুকু শক্তি হারায়নি ‘ফণি’। তাই শক্তি নিয়েই সন্ধ্যা নাগাদ এটি বাংলাদেশে আঘাত হানতে শুরু করতে পারে।

শুক্রবার দুপুরে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, জনসাধারণকে আমরা অতিদ্রুত আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করছি। কেননা উচ্চগতির বাতাস ও দমকা ঝড়ো হাওয়ার সময় সবাইকে নিরাপদে থাকতে হবে। ফণি উপকূল অতিক্রম করার সময় বাংলাদেশের উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের তথ্যমতে, ফণির প্রভাবে বাঁধ ভেঙে পটুয়াখালী ও বাগেরহাটের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এরইমধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর ও চট্টগ্রামকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি সকালে উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করে। এটি এখন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছে। পশ্চিমবঙ্গের হালদাবাড়ি, রায়দিঘী, ঝাড়খালি, পিরেজগঞ্জ, নামখানা, গঙ্গাসাগর, রোরখেলা ও কলকাতায় ফণির তাণ্ডব চলছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ভারত অতিক্রম করে খুলনাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে শুক্রবার রাতে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ সময় খুলনা বিভাগের যশোর-কুষ্টিয়া এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করার পর ঝড়টি কিছুটা হালকা হয়ে ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার বেগে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এর প্রভাবে সারাদেশে শুক্রবার বিকেল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে ৫ তারিখ সকাল পর্যন্ত বিরতি দিয়ে চলবে।

উপকূলীয় জেলাগুলোতে শুকনা খাবার, ওষুধ, পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেসব জেলা আক্রান্ত হতে পারে সেসব জেলায় নতুন করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উপকূলীয় জেলাগুলোতে মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসকদের ২০০ টন চাল পৌঁছে দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি প্রত্যেক ডিসিকে পাঁচ লাখ করে টাকা দেয়া আছে।

ফণির আঘাতে সবচেয়ে বেশি আক্রন্ত হতে পারে এমন এলাকাগুলো হল-  খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল, ফরিদপুর, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, গোপালগঞ্জ, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও তার আশেপাশের এলাকা।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া সাধারণত শুষ্ক থাকতে পারে। দিনের ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী পাঁচদিন তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি