LalmohanNews24.Com | logo

১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পড়ুন গল্পঃ লাল অন্ধকার

পড়ুন গল্পঃ লাল অন্ধকার

মাথাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করছে। শরীরের তাপমাত্রাও ক্রমশ বাড়ছে। থার্মোমিটারের পারদ শতক পার করে গেছে। ঘুমঘুম চোখ নিয়ে কম্বলের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে শুয়ে আছি। শরীরে প্রতিটা অঙ্গ-প্রতঙ্গ অবশ হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে কোথাও হারিয়ে যাচ্ছি। ঘন কালো অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছি, কিছুক্ষণ পরে হঠাৎই মনে হলো এই যেন অন্যরকম অন্ধকার! কালো নয়, কেমন যেন! কিছুটা লাল অন্ধকার! অনেকদিন যাবৎ নিজেকে রোবট জাতীয় যান্ত্রিক কিছু মনে হতো। আবেগ নেই, অনুভূতি নেই! বেঁচে থাকাই যেন মহা অভিশাপ! নাহ্ সব ভুল, কোনও রোবট কখনো দু-পাটি দাঁত বের করে উচ্চস্বরে হাসতে জানে না। কি অদ্ভুত আমি হাসি, ঠোঁটের আড়ালের সবগুলো দাঁত বের করে দিয়ে হাসি। খিকখিক শব্দ করে হাসি, হাহ্হাহ্ শব্দে হাসি। সেই হাসি দেবদাস জাতীয় দাড়ির সাথে সাদা দাঁতের চিকচিক করা যেন কোনও শিল্পীর হাতের নিপুণভাবে তৈরী চিত্রকর্ম।

আয়নার সামনে নিজের এই হাসিকে মাঝে মাঝে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হাসি মনে হয়। লিওনার্দোর আঁকা মোনালিসার হাসি ছিল রহস্যময়। মোনালিসা ছিল মেয়ে। আমার হাসি কেউ আঁকলে নিশ্চয়ই রহস্যময় পুরুষের হাসির সন্ধান পেত বিশ্ব বা পেয়ে যেত আরো এক জাদুকরী চিত্রশিল্প। অবশ্য আধুনিক বিজ্ঞানের এই যুগে সেই চিত্রের সফলতা নিয়ে ভাবতে হত। তারচেয়ে বরং জাদুকরী ছবি তোলার যন্ত্রটার সামনে হেসে উঠব কোনদিন। সেই হাসির ছবি কেউ তার পত্রিকার একটা পেজে ছেপে দিবে। উৎসুক পাঠকদের খুন-ধর্ষন-মারামারি ভরা পৃষ্ঠাগুলি বিরক্তি নিয়ে পড়ে এসে একটা ছবিতে চোখ আটকে যাবে। ছবিতে এক তরুনের দাড়ির নিচে লালের প্রলেপে চোখ আটকে যাবে। ঠোঁট দুটো ঠিক যেন গোলাপি নয় খয়েরি রংয়ের! কিছু তরুনী পাঠক খুঁজতে থাকবে এই লালমুখী তরুনের ঠিকানা। ও বলতে ভুলে গেছি হাসলে এই রোবটের মুখে লাল-খয়েরীর মিশেলে একটা সুন্দর প্রলেপ পড়ে। রোবট কি আর হাসে? . কিউট বিলিটা সারাক্ষণ পাশেই থাকতো। ‘কেমন আছো’ কথাটা তবুও তাকেই বেশিবার বলা হতো। মিউমিউ করে উত্তর দিতো খুব রোমান্টিক করে। আমাকেও জিঙ্গেস করতো ‘তুমি কেমন আছো?’

ভালো আছি বলেই কথা শুরু হতো প্রতিদিন। এখন অবশ্য যেমনই থাকি কথা বলা তোতার মত মুখস্থ উত্তর “ভালোই আছি”। খারাপ থাকা হয়না রোবটের মত, ভালো থাকার প্রোগ্রাম যে আগে থেকেই সেট করা। প্রতিদিনের ন্যায় সেদিনও খুব স্বাভাবিক ভাবেই কথা হলো। এটা বিশেষ দিন ছিল দুজনের জন্য। বাসায় নিয়ে আসতেই আমার দু-ঠোঁটের ফাঁকে ঠোঁট দিয়ে লাল করে তুললাম দুজনের ঠোঁট। গলায় দাড়ালো ছুড়িটা বসিয়ে দিলাম খুব যত্নে। ফিনকি দিয়ে কিছু গরম লাল রক্ত এসে আমার মুখে তার পছন্দের দাড়িতে পরলো। কিছুক্ষণের জন্য চোখ বন্ধ করে অন্ধকার উপভোগ করলাম। চোখে মেলেই মনে হলো লাল অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছি অামি। সেদিনই মনে হলো প্রতরণার শাস্তি লাল অন্ধকারে ডুবে যায়। . আজ পহেলা ফাল্গুন। আমার আদরের বিলিটার জন্মদিন, মৃত্যুদিন, প্রতারনার শুরুর দিন। এই দিনে প্রতিবছরেই গা ঝিমঝিম করে উঠে। থার্মোমিটারের পারদ শতক ছাড়িয়ে যায়। লাল অন্ধকারে ডুবে নতুন প্রতারকের সমাপ্তির গল্প লেখি। স্বপ্ন দেখি লাল অন্ধকারের। প্রতিটা সময় পার করে দেই অনুভূতিহীন, হাসি আনন্দ ছাড়া। রোবটের সেট প্রোগ্রামের মতই জীবন চলে মেপে মেপে। শুধু আজকের দিনটা এলেই সেই অদ্ভুত হাসি চড়ে উঠে আমার ঠোঁটে। হাহ্হাহ্…

#সাইকো_থ্রিলার

লাল অন্ধকার

লেখক: এ.এস সোহেল হাওলাদার

লালমোহননিউজ/ হাসান পিন্টু

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি