LalmohanNews24.Com | logo

৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

প্রাণ বাঁচানো চিকিৎসকদেরই প্রাণের সংশয়!

হাসান পিন্টু হাসান পিন্টু

প্রধান বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮, ২০:৪০

বিজ্ঞাপন

প্রাণ বাঁচানো চিকিৎসকদেরই প্রাণের সংশয়!

গ্রাম-গঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের কাছে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেন। এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে ভোলার লালমোহন উপজেলায় ৩৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়। নির্মাণের পর ২০০১ সালে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৭ বছর কোনো কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় ভবনগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষতায় এসে ফের কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে।

ক্লিনিকগুলো চালু হওয়ার পর থেকে এখানে কর্মরত কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডাররা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এখন ক্লিনিকগুলোতে কর্মরত চিকিৎসকরাই প্রাণ সংশয় নিয়ে দিন পাড় করছেন। কারণ এ উপজেলার ৩৪ টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের চাদঁপুর কমিউনিটি ক্লিনিক, সৈয়দাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিক, ফাতেমাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিক, নতুন বাজার কমিউনিটি ক্লিনিক, ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চতলা কমিউনিটি ক্লিনিক, কালমা ইউনিয়নের লেছ-ছকিনা কমিউনিটি ক্লিনিক, রমাগঞ্জ ইউনিয়নের আলহাজ্ব হরজন আলী সিকাদার কমিউনিটি ক্লিনিক, ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের মহেষখালী কমিউনিটি ক্লিনিক, আসুলী কমিউনিটি ক্লিনিকসহ ১৫টি ক্লিনিকের ভবনই বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এসব ভবনগুলোর ছাদের ওপর থেকে পোলেস্তারা খসে পড়ছে। দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। দেয়াল নষ্ট হয়ে গেছে। ছাদে ফাটল ধরায় বৃষ্টি এলে অনবরত পানি পড়ছে। বৃষ্টির পানিতে মেঝে তলিয়ে যায়। টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী । এ ছাড়া বেশির ভাগ ক্লিনিকেই বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। অধিকাংশ ক্লিনিকের টিউবওয়েল অকোজো হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোগত সমস্যাসহ বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) যথাযথ চিকিৎসাসেবা দিতে পারছেন না। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন সিএইচসিপি, একজন স্বাস্থ্যকর্মী ও একজন পরিবার কল্যাণ সহকারী সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত প্রসূতি ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকেন।

ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা আমেনা বেগম, লাইজু ও ফারজানা বলেন, ভাঙা বিল্ডিংয়ে আসতে ভয় করে। তার পরও চিকিৎসা নিতে এখানে আসতে হয়। আমরা চাই এখানে আমাদের মত অন্যান্য রোগিদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অতি দ্রুত যেনো এসব ক্লিনিকের ভবনগুলো নতুন করে নির্মাণ করা হয়।

নিজেদের দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে ফাতেমাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মোঃ নিরব হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলে ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ে। দরজা-জানালা ভেঙে রয়েছে। বিদ্যুৎ পানি ও বাথরুমের ব্যবস্থা না থাকায় খুব অসুবিধা হচ্ছে। ক্লিনিকের ভেতওে বৃষ্টির পানি ঠেকাতে পলিথিন টানানো হয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলা কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার এসোসিয়েশনের সভাপতি ইকবাল হোসেন জুলহাস বলেন, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য সেবার মান ঠিক রাখতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জরাজীর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সংস্কার ও ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। এসব সমস্যার বিষয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আব্দুর রশিদ বলেন, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন এর সুপারিশক্রমে এ অর্থ বছরে উপজেলার চারটি কমিউনিটি ক্লিনিকের পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ক্লিনিকগুলোকে সংস্কারের আওতায় আনা হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি