LalmohanNews24.Com | logo

২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

পেঁয়াজ না খেলে কী হয় : প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

পেঁয়াজ না খেলে কী হয় : প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

একমাসেরও বেশি সময় ধরে পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া। আমদানি করেও কমানো যায়নি পেঁয়াজের দাম। এ পরিস্থিতিতে পেঁয়াজের সিন্ডিকেট নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রসিকতা করে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন— পেঁয়াজ না খেলে কী হয়? তবে এসময় তিনি এই আশ্বাসও দিয়েছেন— আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। ১৮তম ন্যাম সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে আজরবাইজানে চার দিনের সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। দুই-চার দিনের মধ্যে দাম কমে যাবে। বাজার সহনীয় করতে ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে।

একটি সিন্ডিকেট পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে— এমন অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ হাসিনা বলেন, যারা পেঁয়াজ রেখে দিয়েছে, কেন রেখে দিয়েছে, কে জানে! পেঁয়াজ কিন্তু পচে যায়।

এর আগে গত ৪ অক্টোবর ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে আইটিসি মৌর্য কামাল মহাল হলে ভারত-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের (আইবিবিএফ) উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখার একপর্যায়েও পেঁয়াজ নিয়ে রসিকতা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি হিন্দিতে বলেন, ‘পেঁয়াজ মে থোড়া দিক্কত হো গিয়া হামারে লিয়ে। মুঝে মালুম নেহি, কিউ আপনে পেঁয়াজ বন্ধ কর দিয়া! ম্যায়নে কুক কো বোল দিয়া, আব সে খানা মে পেঁয়াজ বন্ধ কারদো।’ (পেঁয়াজ নিয়ে আমরা সমস্যায় পড়ে গেছি। আমি জানি না, কেন আপনারা পেঁয়াজ (রফতানি) বন্ধ করে দিলেন। আমি রাঁধুনিকে বলে দিয়েছি, এখন থেকে রান্নায় পেঁয়াজের ব্যবহার বন্ধ করে দাও।)

গত আগস্টে ঈদুল আজহার পর থেকেই ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। প্রচণ্ড বৃষ্টি আর ভয়াবহ বন্যার কারণে ভারতে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে গত ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয় দেশটি। দেশে আগে থেকেই বাড়তে থাকা পেঁয়াজের দাম এসময় একলাফে পৌঁছায় শতকের ঘরে।

এর মধ্যে সরকার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে রাজধানীতে ট্রাক সেলে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছে। তবে তা চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।

এদিকে, সরকার পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করতে মিয়ানমার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া থেকেও পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করে। মিয়ানমারের পেঁয়াজ দেশেও পৌঁছায়। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ভারতের পেঁয়াজের যে সমাদর রয়েছে, অন্য দেশের পেঁয়াজ তা মেটাতে পারবে না। ফলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়া বা দেশীয় জাতের নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার আগ পর্যন্ত পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কম। শেষ পর্যন্ত আমদানি করা ওইসব পেঁয়াজ কমাতে পারেনি বাজারের উত্তাপ। বরং গত কয়েকদিনে পেঁয়াজের দাম একশ থেকে বাড়তে বাড়তে কোনো কোনো স্থানে পেঁয়াজের কেজি এখন ১৫০ ছুঁইছুঁই।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি