LalmohanNews24.Com | logo

৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৪ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং

পান থেকে চুন খসলেই খুন করেন তারা!

পান থেকে চুন খসলেই খুন করেন তারা!

ফেনীতে চলতি বছরের কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে চারটি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি কিশোরদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তারা লোভ, ব্যক্তিগত আক্রোশ, মনোমালিন্য থেকে এমন কাণ্ড করেছে বলে জানিয়েছেন মামলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ৩০ মে জেলা শহরের গাজীক্রস রোডের হক ম্যানশন থেকে ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিয়ন সফি উল্যার মরদেহ উদ্ধার হয়। পরদিন তার ছেলে আবদুল মোতালেব বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় জড়িত বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের পঞ্চকরণ গ্রামের চাঁন মিয়া হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদার ও তার ভাই রনি, একই থানার সুনিজর গ্রামের মো. আব্বাস খানের ছেলে মো. ইয়াছিন সাকিব, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের চর মোহনা গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীনের ছেলে মেহেদী হাসান রাব্বি গ্রেফতার হয়। তারা সবাই কিশোর।

তিনি আরো বলেন, টাকার লোভে সফি উল্যাকে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তারা। লুটপাটের এক লাখ টাকা, স্বর্ণ ও একটি ওয়ালটনের সেট তারা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে। সাকিব ১০ হাজার ও মোবাইল ফোন, রাব্বি ১০ হাজার এবং রনি ৫০০ টাকা ভাগে পায় বলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়।

১৯ মে জেলা সদরের উত্তর ছনুয়া গ্রাম থেকে  পোল্ট্রি ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেনের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফার্মের কর্মচারি কিশোর মো. ফুজায়েল আহম্মদ আটক হয়।

ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম বলেন, আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিতে হত্যার কথা স্বীকার করে ফুজায়েল। ফুজায়েল নেত্রকোনার বারহাটি থানার আবদুল ওহাবের ছেলে। নিহতের ভাই আমির হোসেন বাদী হয়ে ফুজায়েলকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

এদিকে, নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর ৭ এপ্রিল ভোরে স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেন শুভর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হয়। শুভ দক্ষিণ কাশিমপুরের প্রবাসী ইমাম হোসেনের ছেলে। তিনি তেমুহনী মাদার কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুরেজিৎ বড়ুয়া জানান, ৮ এপ্রিল সহপাঠী মো. কামাল উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল হোসেন ইমন আটক হয়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে শুভকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ কথা স্বীকার করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয় সে।

অপরদিকে ২৭ জানুয়ারি জেলা শহরের পাঠান বাড়ি থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেনের মরদেহ জেবি টাওয়ারের সামনে থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। আরফাত প্রবাসী মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে। সে পুলিশ লাইন্স স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলো।

ফেনী মডেল থানা ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, ২৮ জানুয়ারি পুলিশের অভিযানে ঘটনার মূলহোতা সাব্বির আটক হয়। হত্যাকারীরা আরাফাতের পা ভেঙে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ২৯ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহজাহান সাব্বিরকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রের জাকির হোসাইনের আদালতে হাজির করলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আদালত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে সে জানায়, হত্যাকাণ্ডে সাব্বির, মুন্না, তুহিনসহ চারজন ছিলো। তারা আরাফাতকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

তিনি আরো জানান, আরাফাতের মা বিবি রাবেয়া বাদী হয়ে সাব্বিরকে প্রধান আসামি ও অজ্ঞাত চারজনের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন।

লালমোহননিউজ/ এইচ.পি

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি