LalmohanNews24.Com | logo

২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

পানি বিশুদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ

পানি বিশুদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ

নুরুল আমিন: মাঝে মাঝে দেশে বিশুদ্ধ পানির খুব অভাব দেখা দেয়। শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলেও বিশুদ্ধ পানি সুলভে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিশুদ্ধ পানির অভাব প্রকট হয়ে ওঠে। তাছাড়া অন্যান্য সময়তেও পানি দূষিত হয়। দূষিত পানি অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এতে পানিবাহিত নানা রোগব্যাধি ছড়ায়। দূষিত পানি পান করে মানুষ জটিল পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। অনেক সময় এ রোগ মহামারী আকার ধারণ করে। অনেক লোক মারা যায়। তাই জীবন বাঁচাতে এবং সুস্থ সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ একান্ত প্রয়োজন।

পানির অপর নাম জীবন। বিশুদ্ধ পানি পাওয়া দিনদিন কঠিন হয়ে পড়ছে। ময়লা-আবর্জনা, পশু-পাখির মৃত দেহ, কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ, কাদা-বালি, সার-ওষুধ ইত্যাদি মিশে পানি দূষিত হয়। এছাড়া বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক কারণে পানি দূষিত হয়। দূষিত পানি ব্যবহার জীবনের জন্য হুমকি।

যত বেশি গরম পড়ে, পানির চাহিদা ততই বাড়ে। নদী বা ভূগর্ভস্থ পানি আহরণ করে পরিশোধনের মাধ্যমে পানের উপযোগী করে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে সেই পানি দূষিত হয়ে যায়। কারণ যে পাইপ লাইন দিয়ে ওয়াসা পানি সরবরাহ করে সেই পাইপ লিকেজ কিংবা পুরনো হওয়ার কারণে পানি দূষিত হয়। আবার পানি শোধনে ত্রুটি থাকে। এ জন্য ওয়াসা কর্তৃপক্ষের অবহেলা, দায়িত্বে ফাঁকি ও আন্তরিকতার অভাব বিশেষভাবে দায়ী। অন্যদিকে পানির ট্যাঙ্কগুলো পরিস্কার থাকে না। এসব কারণে নিরাপদ পানি পাওয়া মুশকিল।

বাজারে বোতল ভর্তি পানি কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু সেসব পানিও শতভাগ নিরাপদ নয়। অধিক মুনাফা লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাপ্লাই বা টিউবওয়েলের পানি বোতল ভরে বাজারজাত করে। বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির অভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে।

পানিতে ক্ষতিকারক জীবাণু তথা ব্যাক্টেরিয়া থাকে। প্রত্যেকের উচিত পানি বিশুদ্ধ করার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা রাখা। পানি বিশুদ্ধ করার উপায়গুলো হচ্ছে – পানি ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর অধিক তাপমাত্রায় ফুটালে জীবাণু ধ্বংস হয়। তারপর পানি ব্যবহার বা পান করার জন্য ছেঁকে পরিস্কার করে নিতে হবে। সিরামিক বা অসমোসিস ফিল্টার মেশিনে সহজে পানি বিশুদ্ধ করা যায়। পানি বিশুদ্ধকরণ ক্লোরিন ট্যাবলেট বা ব্লিচিং ব্যবহার করে পরিশোধন করা যায়। পানিতে পটাশ বা ফিটকিরি মিশিয়ে শোধন করা যায়। সৌর পদ্ধতিতে পানি জীবাণুমুক্ত করতে কয়েক ঘন্টা কড়া সূর্যের তাপে রাখলে তা বিশুদ্ধ হয়। পানিতে আয়োডিন মিশিয়ে বিশুদ্ধ করা যায়। পানি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের পাত্রের পরিবর্তে কাঁচ অথবা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা উত্তম। শোধন করা বিশুদ্ধ পানি বেশি দিন রাখা উচিত নয়। এতে পূনরায় জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। পানি রাখার পাত্র অবশ্যই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। গভীর নলকুপ থেকে নিরাপদ পানি পাওয়া যায়। তবে বালি ওঠে কিনা অথবা পানিতে আর্সেনিক আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পানি বিশুদ্ধকরণ সম্পর্কে প্রত্যেকে সচেতন হলে ঝুঁকিমুক্ত হওয়া সম্ভব। নিজেরা সতর্ক হয়ে একটু কষ্ট ও খেয়াল করে দূষিত পানিকে বিশুদ্ধ করে নিলে পানিবাহিত রোগবালাই থেকে মুক্ত হওয়া যায়। সরকারি ও বেসরকারি মানব সেবামূলক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানি বিশুদ্ধকরণ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালালে অনেক সুফল হবে। সকল ত্রুটি বিচ্যুতি, কর্মে ফাঁকি, অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার অবসান ঘটিয়ে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ যাতে নিরাপদ পানি সরবরাহ করে সেই বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি একান্ত প্রয়োজন।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক, লালমোহন, ভোলা। nurulamin911@gmail.com,  01759648626.

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি