LalmohanNews24.Com | logo

২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

নিষেধাজ্ঞায় হতাশ ভোলার জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা

নিষেধাজ্ঞায় হতাশ ভোলার জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা

ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে যখনই জেলেদের সোনালী জালে রুপালী ইলিশ দেখা মিলেছে, ঠিক তখনই অাসলো ইলিশ ধরা বন্ধের ঘোষনা। বেশী ইলিশের অামদানিতে পাইকার ও অাড়ৎদারেরা অনেকদিন পর খুশি হয়েছিলো, কিন্তু ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষ্যে অাগামী ৭ ই অক্টোবর থেকে ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখা ঘোষনা দিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তে চরম হতাশ জেলে ও মাছ ব্যাবসায়ীরা। সরেজমিনে বিভিন্ন জেলে পল্লী ও মাছঘাট ঘুরে জানা গেছে, ভরা মৌসুমে ভোলার নদ নদী কিংবা বঙ্গোপসাগর ইলিশের দেখা না পাওয়া গেলেও গত কয়েকদিন ধরে জেলেদের জালে ঝাকে ঝাকে ইলিশ ধরা পড়েছে, একটু পর পরই মাছ ধরার ট্রলার বোঝাই ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছে জেলেরা। হাক ডাকে মুখরিত মাছের অাড়ৎগুলো, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার সামরাজ থেকে বঙের চর পর্যন্ত শতাধিক মাছ ঘাটের প্রায় ৫ কোটি টাকার ইলিশ ঢাকাসহ বিভিন্ন মোকামে যাচ্ছে। তবে ইলিশ ধরা পড়লে ও স্বস্তিতে নেই জেলেরা, অাগামী ৭ ই অক্টোবর থেকে ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে সবধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মৎস বিভাগ। এতে হতাশ হয়ে জেলে ও মাছ ব্যাবসায়ীরা নিষেধাজ্ঞার সময়সীমার পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

চরফ্যাসন উপজেলার ঘোষের হাট ঘাটের জেলে ইউনুছ মিঝি বলেন, মাছ ধরা বন্ধের অভিযানটি অারো পাঁচ-সাত দিন পিছিয়ে ১৫ ই অক্টোবরে দিলে জেলেদের জন্য অনেক উপকার হতো। ঢালচরের জেলে সাজল বলেন, অভিযানটি যে তারিখে দিছে অারো ১০-১৫ পিছিয়ে দিলে একটু সুন্দর হয়। তজুমদ্দিন স্লুইজ ঘাটের মাছ ব্যাবসায়ী মোতাহার মিয়া বলেন, যদি অভিযানটি না অাইতো বা অার ১৫ দিন পিছিয়ে দিতো, তাহলে মাছ ব্যাবসায়ী ও জেলেদের ভালো অায় হতো। পুবের চর, কিল্লার ঘাট, আনন্দ বাজারের মৎস্য আড়ৎদার রিপন হাওলাদার, কবির মিয়া, খালেকসহ অন্যরা জানান, ভাদ্র মাসের সাথে মিল রেখে যদি অভিযান দিতো , তাহলে জেলেদের যে ধার দেনা অাছে সেটা পুরন করতে পারতো, অামরা যারা ব্যাবসায়ী অাছি তাদের ঘাটতিটা ও পুরন হতো। ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ অাসাদুজ্জামান বলেন, ইলিশ মাছ এই সময়ই ডিম ছাড়ে, যার কারনে এই সময়টাতে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হবে, এটা পিছানোর কোনো সুযোগ নেই।

ভোলা জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী এই বছর ভোলা জেলায় ইলিশ অাহরনের লক্ষমাত্রা ১ লক্ষ ২৫ হাজার মেট্টিক টন। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আহসান হাসিব খান বলেন, অাগামী ৭ই অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় যে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, সেটা গবেষনার বিষয়, এই সময়টাতে ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ে, তাই জেলেদের দাবীর পরিবর্তে মাছ ধরা বন্ধের সময় পিছানোর কোনো সুযোগ নেই।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি