LalmohanNews24.Com | logo

২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নববর্ষের ঊষালগ্নে কাঁদিয়ে চলে গেলেন ‘জসিম চেয়ারম্যান’

নববর্ষের ঊষালগ্নে কাঁদিয়ে চলে গেলেন ‘জসিম চেয়ারম্যান’

 এসবি মিলন ॥ ২০১৮ সালের ঊষালগ্নে তজুমদ্দিনবাসীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সকলের প্রিয় ‘জসিম চেয়ারম্যান’। আওয়ামী রাজনীতির রক্ষনশীল এই নেতা অহিদুল্লাহ জসিম ছিলেন তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

এর আগে দুই দশক ধরে একই উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করায় তজুমদ্দিনের মানুষের কাছে তিনি এক নামে ‘জসিম চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস যাবৎ ঘাতক ব্যাধী হাড় ক্যান্সার রোগের সাথে লড়াই করে মাত্র ৫২ বছর বয়সে ২০১৭ সালের শেষ প্রান্তে ৩১ ডিসেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেত হাসপাতালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। দীর্ঘ এই সময়ে চিকিৎসার পুরো বিষয়টি দতারকি করেন ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। ২ জানুয়ারী মঙ্গলবার বেলা ৩টায় তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজ মাঠে জসিম চেয়ারম্যানের নামাজে জানাজার সময় অঝর ধারায় কেঁদেছেন লালমোহন-তজুমদ্দিন আসনের এমপি এবং আ’লীগের অবিভাবক আলহাজ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন।

এছাড়া ভোলা-২ আসনের এমপি আলী আজম মুকুল’ও ধরে রাখতে পারেনি অশ্রুজল।

‘জসিম চেয়ারম্যান’একটি চলতি নাম। এই নামটির পেছনে রয়েছে বেশ কিছু শব্দ। যে শব্দগুলো অনেক দামী এবং ইতিবাচক। যে শব্দ গুলোর সাথে জড়িয়ে আছে তজুমদ্দিন উপজেলার ইতিহাস,ভালো-মন্দ, রাজনীতি আর সমাজনীতি। জসিম চেয়ারম্যানের উদাহরণ কেবল তিনিই। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৮৯ সালে তজুমদ্দিন উপজেলা বিআরডিবি’র চেয়ারম্যান হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। এর পর শুধুই সামনে এগিয়ে চলা।
তজুমদ্দিন উপজলোর চাঁদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হয়েও অহিদুল্লাহ জসিম চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন সোনাপুর ইউনিয়নে। প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত। সেই থেকে তিনি জসিম চ্যেয়ারম্যান। প্রায় ২০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আওয়ামী রাজনীতির নেতৃত্বে চলে আসেন তিনি। প্রথমে ইউনিয়নে ও পরে তজুমদ্দিন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন প্রায় ১৭ বছর। ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় ঐ পদ ছাড়তে হয় তাকে।

জসিম চেয়ারম্যানের পিতা হাজি দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার ছিলেন প্রাইমারী শিক্ষক। মেঘনার সর্বনাশা ভাঙ্গনে বহু জায়গা-জমি বীলিন হলেও, বীলিন হয়নি তাদের সামাজিক মর্যাদা। বড় ভাই ওবায়েদ উল্লাহ নাছিম ভোলা জেলা পরিষদের সদস্য এবং তজুমদ্দিন উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ছোট ভাই মোহাম্মদ উল্লাহ স্বপন ভোলা সরকারী কলেজের অধ্যাপক।
ব্যক্তিগত জীবনে অহিদুল্লাহ জসিম ওরফে জসিম চেয়ারম্যান ১ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। সহধর্মীনী মাহাবু আরা রুনু একজন প্রাইমারী শিক্ষিকা।

ছেলে রুবায়েত হোসেন দীপু বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে।
মঙ্গলবার বিকালে ২য় জানাজা শেষে চরফ্যাশন পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডে স্থানীয় শামছুল উলুম কওমী মাদ্রাসা সংলগ্ন কবর স্থানে জসিম চেয়ারম্যানকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়। এখানেই রয়েছে তাদের সেকেন্ড হোম।

তজুমদ্দিন উপজেলার জমিদারী নদী গর্ভে বীলিন হলে আশির দশকে চরফ্যাশনে সেটেল্ড হতে থাকেন জসিম চেয়ারম্যানের পিতা হাজি দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার। এখানেই গড়ে তুলেছেন কওমী মাদ্রাসা।
জসিম চেয়ারম্যান রাজনীতির পাশাপাশি একজন সফল ব্যবসায়ী। সার,সিমেন্ট ও মৎস্য ব্যবসা রয়েছে তার। অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির এই ব্যক্তিকে কখনও রাগ হতে দেখেনি কেউ।

রাজনীতির ময়দানে তাকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে। কথা কম বলার এই মানুষটি ভীতরে অনেক ব্যথা নিয়ে চললেও বুঝতে দেয়নি কাউকে। যার কারনে তিনি নিরবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

তজুমদ্দিন কলেজ মাঠে জানাজার অনুষ্ঠান কানায় কানায় পূর্ন হয়ে যাওয়া অন্তত তা-ই প্রমান করে। অহিদুল্লাহ জসিমকে আল্লাহ জান্নাতবাসী করুক। আমিন।

॥ লেখকঃ সংবাদকর্মী ॥

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি