LalmohanNews24.Com | logo

১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

তজুমদ্দিনে ডাকাত সন্দেহে আটক ৯ জনের চারজন অপহৃত জেলে।। বাকি পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শরীফ আল-আমিন শরীফ আল-আমিন

তজুমদ্দিন উপজেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : আগস্ট ১০, ২০১৮, ২১:১৬

তজুমদ্দিনে ডাকাত সন্দেহে আটক ৯ জনের চারজন অপহৃত জেলে।। বাকি পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভোলার তজুমদ্দিনের মেঘনা নদীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক সন্দেহভাজন ৯ ডাকাতের মধ্যে চার জন জেলে বলে জানিয়েছে তজুমদ্দিন থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদের আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। বিকাল ৫ টায় উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর নাছরিন সংলগ্ন নদী হতে এদের আটক করা হয়। এঘটনায় আটক ৫ ডাকাতের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে ডাকাতি প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। অপর চার জেলেকে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার চর নাছরিনের মেঘনা নদী হতে একদল জেলে ডাকাত সন্দেহে ৯ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এদের মধ্যে ইসমাইল ওরফে কালু (২৫), মাহফুজ (৪৫), ফরিদ (৪০), রহিম (৪৫) সাধারন জেলে বলে দাবী তজুমদ্দিন থানা পুলিশের। তাদের সকলের বাড়ি ল²িপুর জেলার রামগতি থানার বিভিন্ন স্থানে। রামগতি থানার জমির মেম্বার নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি দাবী করেন, বুধবার রাতে তার মালিকানাধী একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে জেলেরা ভোলার মেঘনা নদীতে জাল ফেলে।

এসময় ডাকাতরা মুক্তিপণের দাবীতে চার জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার ডাকাত দল অপহৃত জেলেদের নিয়ে তজুমদ্দিনের চর নাছরিন সংলগ্ন মেঘনায় অবস্থান করলে স্থানীয় জেলেদের তা দেখে সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে ওই জেলেরা সন্দেহজনক ডাকাত দলের ট্রলারটিকে ধাওয়া করলে উভয় পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধে। এসময় তারা ডাকাত দলের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি একনালা বন্দুকসহ ৯ জনকে আটক করে পুলিশে দেয়। পরে ৪ জেলের দাবীর প্রেক্ষিতে পুলিশ রামগতি থানায় খোঁজ খবর নিয়ে পুলিশ জানতে পারে এরা দুইদিন আগে মেঘনা নদীতে ডাকাতের কবলে পরে অপহৃত হয়।

তজুমদ্দিন থানার থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আনোয়ারুল ইসলাম জানান, চার জেলের বিষয়ে রামগতি থানার ক্লিয়ারেন্স পেলেই আমরা তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবো। এছাড়া আটককৃত পাঁচ ডাকাতের মধ্যে নজির আহম্মদ ওরফে কানা নজির (৬৫), আশরাফ (৩৮), শাহাবুদ্দিন (৩০), মিরাজ (১৯) ও সুজন (১৫) এর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের বাড়ি রামগতি এবং চরফ্যাশন উপজেলায়। ৫ ডাকাত ও অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামী করে এসআই মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি ও ডাকাত শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ডাকাত দলের নজির সর্দার, আশ্রাফ ও সাহাবুদ্দিন পুলিশ হেফাজতে তজুমদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। অপর দুই জনকে কোর্টে চালান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ আনিচুল হক জানান, স্থানীয় জমির মেম্বার নামের এক ব্যবসায়ীর আড়তের চার জেলে নদীতে মাছ শিকারে গেলে ডাকাতের কবলে পড়ে বুধবার মেঘনা থেকে অপহৃত হয়। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ৪ জনের সবাই সাধারণ জেলে। অপহরণের ঘটনায় রামগতি থানায় কোন অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি। তিনি আরো জানান, এই চার জেলে অপহরণের সংবাদ তিনি ফোনে জেনেছেন, কিন্তু কেউ অভিযোগ করতে আসেনি। হয়তো বা অন্য থানা এলাকা হতেও অপহরণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি দাবী করেন।

উল্লেখ্য,উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মহেষখালী নামক এলাকা থেকে চর নাছরিনের উদ্দেশ্যে একটি যাত্রিবাহী ট্রলার ছেড়ে যায় বিকাল ৪টায়। আধাঘন্টা পর যাত্রীবাহী ট্রলারটি চর নাছরিন সংলগ্ন এলাকায় পৌছলে তীরের কাছাকাছি অপর একটি ট্রলারের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় যাত্রীদের। এসময় যাত্রীরা মাছ ঘাটের লোকজনকে ফোন করে নদীর তীরে আসতে বলে। পরে ঘাটের মাঝি-মাল্লারা অপর একটি ট্রলার দিয়ে ডাকাত দলকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে ডাকাতের ট্রালারটি বরিশালের খাল নামক মাছ ঘাটের দিকে চলে যেতে থাকে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় তারা ৯ জনকে আটক করে জেলেরা পুলিশে দেয়। তাদের মধ্যে রামগতি থেকে অপহৃত চার জেলে রয়েছে বলে পুলিশের দাবী।

 

লালমোহননিউজ/ হাসান পিন্টু

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি