LalmohanNews24.Com | logo

৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ট্রলার আত্মসাতের পর মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে লালমোহনের সালাউদ্দিন

বিজ্ঞাপন

ট্রলার আত্মসাতের পর মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে লালমোহনের সালাউদ্দিন

ভোলা জেলার দৌলতখান থানার নুর ইসলামের মালিকানাধীন এফ. বি. নূর আলম নামের একটি ট্রলার লালমোহন থানার বাসিন্দা মোঃ সালাউদ্দিন অবৈধভাবে আত্মসাৎ করেছে এবং নিজের নামে লিখে না দিলে মালিককে প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।
2016 সালে দৌলতখান থানার নুর ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে ট্রলার পরিচালনার জন্য   সালাউদ্দিন, পিতা মানিক গোপাল, সাংঃলটহানিন্স,০১ নং ফাতেমা বাদ, লালমোহন কে বিশ্বাস করে মৌখিক চুক্তিতে তার সামুদ্রিক ট্রলার  দিয়ে থাকেন

ব্যবসায়িক কথা বলে সামুদ্রিক ট্রলার  (এম. বি নূর আলম) নিয়ে থাকলেও সালাউদ্দিন দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসা করে মালিককে কোন প্রকার টাকা না দিয়ে উল্টো মালিক মোঃ নূর এর নিকট ক্ষতিপূরণ দাবি করে।
নুর ইসলাম তার সামুদ্রিক ট্রলার  সালাউদ্দিনকে ব্যবসায়িক কাজের জন্য মৌখিক চুক্তিতে দিলে সালাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে ট্রলারটি দ্বারা অর্থ উপার্জন করে এবং একটা সময় যখন ট্রলার মেরামত করার সময় হয় তখন ট্রলার মালিক নুর ইসলাম এর নিকট ৩০ লাখ টাকা দাবি করে এবং বলে ব্যবসায় লস হয়েছে তাই ট্রলার  মেরামত বাবদ ৩০লাখ টাকা আমাকে দিতে হবে। কিন্তু ট্রলার দ্বারা ব্যবসা করে যে অর্থ উপার্জন হয়েছে তা থেকে মালিকপক্ষকে কোন প্রকার অর্থ বা হিসাব না দিয়ে তার পুরোটাই আত্মসাৎ করার অভিযোগ সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে আড়ৎদার সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। সালাউদ্দিন  তার দুই ভাই আলাউদ্দিন ও জামালকে দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চুরি এবং ডাকাতি করায়। চুরি এবং ডাকাতি কৃত মাল নিয়ে এলাকায় অনেকবার ধরাও পড়েছে পরে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে তাদের বিচার করা হয়। তাছাড়া সালাউদ্দিন এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ অনেক অভিযোগ রয়েছে। সালাউদ্দিন কাঠুরে বাবার ছেলে নদী বা খাল এ বিন্দি জাল পেতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো হঠাৎ কি এমন হল যে সালাউদ্দিন রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেল। নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান ভাইদের ডাকাতি করা মালামাল সব নিজের কাছে রাখতো এবং একটা সময় সব মালামাল সালাউদ্দিন নিজেই আত্মসাৎ করেছে, পরবর্তীতে এই কালো টাকার গরমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার চাঁদাবাজি হুমকি ধমকি দিয়ে অতিষ্ঠ করে ফেলেছে এলাকাবাসীকে। তার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায় সম্পূর্ণ চালু অবস্থায় দৌলতখানের বাসিন্দা নুর ইসলামের মালিকানাধীন (এম. বি নূর আলম) ট্রলারটি নিয়ে থাকলেও এখন সে ট্রলারটি ফেরত দিতে অনিচ্ছুক এবং মালিক পক্ষের কেউ ট্রলারটি দাবি করলে তাকে মেরে ফেলার ও ছক কষছে সালাউদ্দিন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নুর ইসলাম মানবাধিকার সংস্থা “আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন” এর নিকট অভিযোগ করলে আসক থেকে অনুসন্ধান করে ঘটনার সত্যতা পায় তাই সালাউদ্দিনকে আসক থেকে সমঝোতায় আসার জন্য বলা হলেও সালাউদ্দিন তা কৌশলে এড়িয়ে যায়।  বারবার সমঝোতায় আসবে বলেও আসেনি। পরবর্তীতে প্রায় দুই মাস পর  আসক ঢাকা মহানগর এর কার্যালয়ে সমঝোতার জন্য বসে। শেষে সমঝোতা না করে আসক মহানগর কার্যালয় থেকে চলে যায়।
এ বিষয়ে নুর ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন ২০১৬ সালে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে ট্রলারটির বিষয়ে সালাউদ্দিন এর সাথে আলাপ করি।
তখন সালাউদ্দিন আমাকে বলে কাকা আপনি ট্রলার নিয়ে কোন টেনশন করবেন না মনে করেন আমি আপনার ছেলে। ট্রলারটি আমার কাছে থাকলে নিরাপদে থাকবে। আমি মাঝিমাল্লা নিয়োগ দিয়ে ট্রলারটি পরিচালনা করব আর মৌসুম শেষে পাই পাই করে হিসাব বুঝিয়ে দেব। বিনিময় ট্রলারটি দ্বারা যে মাছ ধরা পড়বে তা সব আমার আড়দে বিক্রি হবে এবং সালাউদ্দিন আগে কিছু টাকা পাবে তা অল্প অল্প করে কেটে রাখবে। আমার ট্রলার  তাকে দিয়েছিলাম মৌখিকভাবে মাঝিমাল্লা দিয়ে পরিচালনা করার জন্য কারণ আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে দেখাশুনা করতে পারছিলাম না। সে সুযোগে দিনের পর দিন আমাকে মিথ্যা কথা বলে সে ট্রলার দিয়ে অর্থ উপার্জন করেছে এবং আমাকে বলেছে লোকসান হয়েছে।
লোকসানের  কথা বলে আমার কাছে এখন টাকা দাবি করছে এবং ট্রলারটি তার নামে লিখে না দিলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। নুর ইসলাম আরো জানান আমার ট্রলারটি মেরামতের জন্য ২০১৭ সালে আমার কাছ থেকে ৫০হাজার টাকা নিয়েও সালাউদ্দিন যথাসময়ে ট্রলারটি মেরামত না করায় ট্রলারটির অনেক ক্ষতি হয়েছে যা ঠিক করতে গেলে এখন প্রয়োজন ৩০ লাখ টাকা আর ২০১৬ এবং ২০১৭ মৌসুমে বাংলাদেশ রেকর্ড পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে তার লভ্যাংশ থেকেও আমি বঞ্চিত হয়েছি।
সালাউদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।
আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন এর ঢাকা মহানগরের সভাপতির সৈয়দ এনামুল হক নিপু   বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের একটি টিম ভোলায় সালাউদ্দিনের এলাকা পর্যবেক্ষণ করে এবং অনুসন্ধান করে নুর ইসলাম এর অভিযোগের সত্যতা পায়। পরবর্তীতে আমরা সালাউদ্দিনকে সমঝোতায় আসার জন্য বলি। অনেক টালবাহানা করে একের পর এক তারিখ দিয়ে একটা সময় সালাউদ্দিন আমাদের কার্যালয়ে আসে এবং উপস্থিত কাউকে কর্ণপাত না করে আমি এমপি   নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এর লোক বলে নিজেকে দাবি করে এবং কোন প্রকার সমঝোতা না করেই আসক কার্যালয় থেকে চলে যায়। আমি এটার প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দফতর গুলোতে পাঠিয়ে দিয়েছি।
এ বিষয়ে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এর আগে সালাউদ্দিন এবং তারভাইদের  সংক্রান্ত বিচার-সালিশ করেছি কিন্তু দৌলতখানের নুর ইসলামের মালিকানাধীন ট্রলার আত্মসাতের বিষয়টি আমি জানি না আমি জেনে আপনাদের সাথে কথা বলব।
এ বিষয়ে গত ২৫/১০/২০১৮ইং তারিখে লালমোহন থানায় ট্রলার মালিক নুর ইসলাম একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি