LalmohanNews24.Com | logo

১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

জাল আর নৌকা মেরামতে নিষেধাজ্ঞার সময় পার করছেন জেলেরা

জাল আর নৌকা মেরামতে নিষেধাজ্ঞার সময় পার করছেন জেলেরা

ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষ্যে গত ৭ই অক্টোবর থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে নদীতে ইলিশ শিকারে যাচ্ছে না ভোলার প্রকৃত জেলেরা। কর্মহীন এই সময়টুকুতে জাল বুনন, নৌকা বা ট্রলার মেরামত ও পুরাতন জাল সেলাই করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা । সরেজমিনে ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়ার পাড়ের জেলে পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা কেউ নৌকা-ট্রলার মেরামত করছে। কেউ নৌ-যানের নিচের অংশে পুডিং ও আলকাতরা লাগাচ্ছেন। কেউ পুরানো জালকে নতুন করে সেলাই করছে। আবার কেউবা নতুন জাল বুনতে ব্যস্ত। তবে এর উল্টোটাও চোখে পড়বে না এমনটা নয়। ভোলার নদীতে ঘুরলে দেখা যাবে ছোট ছোট নৌকায় নদীতে জাল ফেলে মাছ শিকা`র করছে অসাধু কথিত জেলেরা। যদিও প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লে জেল-জরিমানার ভয়ও থাকছে তাদের। তবে সচেতনতা আর ভয় যাই হোক না কেন মাছ শিকার থেকে বিরত রয়েছেন বেশিরভাগ প্রকৃত জেলে।

চর কুকরী- মুকরি মাছ ঘাটে পরিদর্শনে অাসা চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন জানান, চরকচ্ছপিয়া ও কুকরী মুকরীর বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শনে দেখা গেল জেলেরা নৌকা জাল মেরামতে ব্যস্ত। ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষ্যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে আইন মান্যকরে দেশের সম্পদ ইলিশ রক্ষায় অবদান রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এদিকে নিষেধাজ্ঞার অর্ধেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারের কাছ থেকে খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় ক্ষোভও রয়েছে জেলেদের মনে। তারপরও দিন যতো ঘনিয়ে আসছে জলে নামার প্রস্তুতিটাও সেরে নিচ্ছেন জেলেরা।

এ ব্যাপরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, দ্রুত জেলেদের চাল বিতরণ এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চরফ্যাসন উপজেলার তেতুলিয়া পাড়ের জামাল মাঝি, ইউনুছ মাঝি, জেবল হক মাঝি, ও রহিম উদ্দিন মাঝি বলেন, জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও সরকার যখন থেকে চাল দেয়া শুরু করেছেন তখন থেকেই তিনি চাল পাননি। তাই বলে তিনি সরকারের কোন নিষেধাজ্ঞার সময়ই নদীতে মাছ শিকারে যাননি। অভাব-অনটনে দিন পার করেছেন তারপরও আইন অমান্য করেন নি।

আহম্মেদপুর ইউনিয়নের ট্রলার মালিক মোঃ কামাল কোম্পানী জানান,গত ৭ই অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ ধরতে যাননি আশপাশের গ্রামের জেলেরা। তবে যারা ছোট নৌকায় ছোট জালে মাছ শিকার করছে, তারা আসল জেলে নয়, তারা হলো সুবিধাভোগী। তিনি বলেন, প্রকৃত জেলের মধ্যে অনেকে অন্য এলাকায় গিয়ে দিনমজুরের কাজ করছেন, আবার অনেকে সুদে টাকা ধার নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোন মতে জীবন করছেন। সরকার ২০ কেজি চাল দিয়ে সহযোগিতার কথা বললেও এখন পর্যন্ত তা পায়নি কেউই।

মনপুরা উপকুলের জেলে কবির, নেছার, মনির, হানিফ, মিলন, বেল্লালসহ বেশ কয়েকজনে জানান, যতো কষ্টই হোক না কেন জেলেরা এই সময়টায় নিজেদের নৌকা মেরামত, নতুন জাল বোনা কিংবা সারিয়ে নেয়ার কাজটি করছেন ।ডিমওয়ালা মাছ শিকারের নিয়মটা অনেকটাই কাজে আসছে, অল্প সময়ে বেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি নদীতে অন্য মাছের পরিমাণও বাড়ছে। কিন্তু সময়টা নিয়ে মতভেদ রয়েছে তাদের, কারণ নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরও গতবছর বেশ কিছুদিন ডিমওয়ালা ইলিশ পেয়েছেন জালে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আহাসান হাবিব খান বলেন, নিষেধাজ্ঞার সুফল যেমন জেলেরা পাবে তেমনি দেশের মানুষও পাবে।

নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে জেলেদের মনোভাব পরিবর্তন হওয়ায় নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ জাল ও জেলে আটকের পরিমাণ বছরে বছরে কমছে । তিনি বলেন, এ সময় জেলার দেড়লাখ বেকার জেলেদের মধ্যে ৮৮ হাজার ১১১ জন জেলের জন্য ২০ কেজি করে প্রায় ১ হাজার ৭৬৩ টন চাল বরাদ্দ করেছে মন্ত্রনালয়। ইতিমধ্যে ইলিশ প্রজনন মৌসুমে জেলেদের যে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে তা প্রতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের দ্রুত জেলেদের মাঝে বিতরণ করার জন্য বলা হয়েছে।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি