LalmohanNews24.Com | logo

৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

জাতীয় জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী

জাতীয় জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী

রিপন শান: ” মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য।” অথবা ” মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী, দেবো খোঁপায় তারার ফুল।” প্রেম ও বিপ্লবের মহাসমন্বয়ক কবি, আমরণ সাম্যের গান গাওয়া মহাকালজয়ী বাঙালি সাহিত্যিকের নাম কাজী নজরুল ইসলাম ।  আজ ১২ ভাদ্র। দ্রোহ প্রেম মানবতা ও জাতীয়তার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী। যদিও জাতীয় কবি হিসেবে কোনো সাংবিধানিক স্বীকৃতি নেই, তবুও ধ্যানজ্ঞান বিশ্বাসের বৈভবে কাজী নজরুল ইসলামই আমাদের জাতীয় কবি । বিদ্রোহী কবি হিসেবে তাঁকে একতরফা বিশেষায়িত করা হলেও প্রেমিক ও মানবিক কবি হিসেবে তাঁর সাহিত্য ও সংগীতকর্ম প্রোজ্জ্বল শেকড়পিয়াসী পাঠকের কাছে ।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শোকাবহ ঘটনার এক বছর পর ১৯৭৬ সালের শোকের মাসেই এদিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাদেশ ও বাঙালির প্রাণের কবি নজরুল ইসলাম।
জাতীয় কবির রচিত শাশ্বত গানের অমর বাণী ” মসজিদের ও পাশে মোরে কবর দিও ভাই, যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই ” এর আবেদনকে প্রাধান্য দিয়ে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন অগ্নিবীণার কবি, মরুভাস্করের কবি, দোলনচাঁপার কবি, সিন্ধু হিল্লোলের কবি কাজী নজরুল ইসলাম  ।
জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন নানান কর্মসূচি পালন করছে। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সকালে শোভাযাত্রা সহকারে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে গমন করে পুষ্পার্পণ , ফাতেহা পাঠ ও  কবির মাজার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা করেছে। বাংলা একাডেমি কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একক  বক্তৃতার আয়োজন করেছে।  অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল করেছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিত অংশগ্রহন করেন।
কবি শঙ্খ ঘোষ নজরুলের মৃত্যু নিয়ে লিখেছেন- নজরুলের কথা আজ যখনই মনে পড়ে আমাদের, মনে পড়ে মিলনগত এই অসম্পূর্ণতার কথা। আর তখন মনে হয়, বাক শক্তিহারা তাঁর অচেতন জীবনযাপন যেন আমাদের এই স্তম্ভিত ইতিহাসের এক নিবিড় প্রতীকচিহ্ন। যে সময়ে থেমে গেলো তার গান, তাঁর কথা, তাঁর অল্পকিছু আগেই তিনি গেয়েছিলেন, ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে, জাগায়োনা জাগায়োনা।’ রবীন্দ্রনাথকে উদ্দেশ্য করে তাঁর এই কথাগুলো নজরুলকেই ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলে শঙ্খ ঘোষ বলেন, ‘তাঁর কথাগুলো আমরা যেন ফিরিয়ে দিতে পারি তাঁকেই, ‘যেন আমরাই ওগুলি বলছি নজরুলকে লক্ষ্য করে।’
নজরুলের সৃষ্টিকর্ম প্রসঙ্গে নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, নজরুল ইতিহাস ও সময় সচেতন মানুষ ছিলেন যার প্রভাব তাঁর লেখায় স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়।
তিনি বলেন- তুরস্কে কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব আর ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের তরঙ্গকে নজরুল তাঁর সাহিত্যে বিপুলভাবে ধারণ করেছেন। সেই সময়ে ধর্মান্ধ মানুষদের তিনি পুনর্জাগরণের ডাক দিয়েছেন এবং এক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল একজন বলিষ্ঠ নেতার মতো।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন। বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করে। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তাঁর লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্বপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ধানমন্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন। যেটি কবি ভবন নামে পরিচিত এবং যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম চলছে ।
আপন হাতের মুঠোয় পুরে যে বাঙালি কবি বিশ্বজগৎ দেখতে চেয়েছেন কবিতায়, আধুনিক বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তি এবং মুঠোফোনের কল্যাণে কবির সেই স্বপ্ন শতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে । দেশ ও জাতির সকল সঙ্কটে , বৈশ্বিক সকল দুর্যোগে আজো অবিস্মরণীয় মহিমায় কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা গান আমাদের দোলায়িত করে প্রাণায়িত করে । নবযুগের লেখক ধুমকেতুর উজ্জীবক লাঙ্গলের সম্পাদক সব্যসাচী সাংস্কৃতিক কিংবদন্তী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সময়ের প্রয়োজনেই দেশ ও দশের কাছে চিরঞ্জীব ।
Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি