LalmohanNews24.Com | logo

৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ছাত্রীকে উত্ত্যক্তে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৩০

বিজ্ঞাপন

ছাত্রীকে উত্ত্যক্তে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৩০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপ দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শন করেছে। এতে দুই গ্রুপের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় আল বেরুনী হল ও মীর মশাররফ হোসেন হলের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌরঙ্গী মোড়ে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে মীর মশাররফ হোসেন হলের দুই ছাত্রলীগ কর্মী।

ভুক্তভোগী ছাত্রী আল বেরুনী হলে অবস্থানকারী তার বন্ধুদের এ ঘটনা জানান। এ সময় আল বেরুনী হলের কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী এসে উত্ত্যক্তকারীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। সেখানে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাদের মধ্যস্থতায় উভয় গ্রুপ তাদের হলে ফিরে যায়। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাত ১২টার পর শুরু হয় আল বেরুনী হল আক্রমণের ঘটনা।

এ সময় মীর মশাররফ হোসেন হলের ৬০-৭০ নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আল বেরুনী হলের সামনে অবস্থান নেয়। তারা আল বেরুণী হল লক্ষ্য করে কাচের বোতল, ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে।

এ পর্যায়ে আল বেরুনী হলের নেতাকর্মীরা তাদের পাল্টা আক্রমণ করলে মীর মশাররফ হোসেন হলের এক কর্মী অস্ত্র উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পিছু হটে।

ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় হলের অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় ৭ জনকে সাভারের এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছিল বলে মেডিকেল ভর্তি বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া বুধবার বেলা ১১টার দিকে আল বেরুনী হলের বেশ কয়েকজন এনাম মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে গেছে বলে জানা গেছে।

আল বেরুনী হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৪২ ব্যাচের মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগ নেতা মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আল বেরুনী হলে প্রত্যক্ষদর্শী ও আবাসিক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মীর মশাররফ হোসেন হলের নেতাকর্মীরা তাদের হলে আক্রমণকালে পিস্তল, রামদা, রড, পাইপ, হকিস্টিক, কুড়াল ও ক্ষুর ব্যবহার করে এলোপাতাড়ি আঘাত করেছে।

এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮-১৯ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অধিকসংখ্যক ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকরা অবস্থান করছেন। আর এরই মধ্যে ছাত্রলীগের এ সংঘর্ষে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমি সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। নেতৃত্ব দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুঃখ প্রকাশ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এটা ক্যাম্পাসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। তিনি দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবেন বলেন জানান।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি