LalmohanNews24.Com | logo

৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

চীনা গণমাধ্যমে ষাটগম্বুজ মসজিদ

চীনা গণমাধ্যমে ষাটগম্বুজ মসজিদ

ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাট নিয়ে গবেষণা, অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ কম হয়নি। তারপরও প্রতিনিয়ত তৈরি হয় নতুন গল্প, মেলে নতুন সব তথ্য। উপমহাদেশের বিখ্যাত ইসলাম প্রচারক খান জাহান আলী নির্মিত ‘ষাটগম্বুজ মসজিদ’ এর গম্বুজ কয়টি তা নিয়েও মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। সম্প্রতি চীনা ইংরেজি ভাষার সংবাদ চ্যানেল সিজিটিএন-এ ষাটগম্বুজ মসজিদ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

শুধু ষাটগম্বুজ মসজিদের বৈশিষ্ট্য ও সৌর্ন্দযই নয়, বাগেরহাটের বিভিন্ন মসজিদের কথাও তুলে ধরা হয়েছে এতে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ অবস্থিত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাটে। ওই জেলার ৫০ বর্গকিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে ৩৬০টি মসজিদ।

চীনা এই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘দ্য লস্ট সিটি উইথ কমপ্লিট মেমোরিস: মস্ক সিটি অব বাগেরহাট’। এর বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়— স্মৃতিঘেরা হারানো শহর: মসজিদের শহর বাগেরহাট।

বাগেরহাট পুরো জেলাই ইউনেস্কোর হেরিটেজ সাইট। যেখানে আছে ১৫ ও ১৬ শতাব্দীর অসংখ্য মসজিদ। এর মধ্যে ষাটগম্বুজ মসজিদ, সিঙ্গাইর মসজিদ, রেজা খোদা মসজিদ, জিন্দা পীর মসজিদ, ঠান্ডা পীর মসজিদ, বিবি বেগুনি মসজিদ, চুনাখোলা মসজিদ, নয় গম্বুজ মসজিদ, রণবিজয়পুর মসজিদ, দশ গম্বুজ মসজিদ উল্লেখযোগ্য। এ কারণেই বাগেরহাট শহরকে ইউনেস্কো ১৯৮৩ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

ওই প্রতিবেদনের কাভারে ব্যবহার করা হয় এই ছবিটি

বাগেরহাট জেলার প্রাচীনতম মসজিদ ষাটগম্বুজ মসজিদ। এটি খান জাহান আলী নির্মাণ করেছিলেন, যদিও এই মসজিদের গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। ১৫ শতাব্দীর তৈরি এই মসজিদ রাজমহল থেকে পাথর এনে, অনেক বছর ধরে অনেক অর্থ খরচ করে নির্মিত হয়েছিল। এক গম্বুজ বিশিষ্ট সিঙ্গাইর মসজিদ বাগেরহাটের সুন্দরঘোনা গ্রামে অবস্থিত, এটিও পঞ্চদশ শতকে নির্মিত মসজিদ, দর্শনীয় এই অসাধারণ মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে আছে অলঙ্কৃত মেহরাব।

চীনা গণমাধ্যমটি মনে করিয়ে দিয়েছে, মার্কিন ব্যবসা-সংক্রান্ত ম্যাগাজিন ফোর্বসের দৃষ্টিতে বিশ্বের ১৫ হারানো শহরের তালিকায় বাগেরহাট অন্যতম। সেজন্যই তারা প্রতিবেদনটির এমন শিরোনাম করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘১৪৫৯ সালে খান জাহানের মৃত্যুর পর বাগেরহাট পরিণত হয় জঙ্গলে। শতাব্দী পর এটি আবিষ্কৃত হয়েছে।’

সিজিটিএনের ‘নো এশিয়া বেটার’ অর্থাৎ ‘এশিয়াকে ভালোভাবে জানুন’ সিরিজের অংশ হিসেবে এবার বাংলাদেশ তথা বাগেরহাট নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাগেরহাটের মসজিদগুলো প্রাচীনকালে বাংলার মুসলিম স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। পঞ্চদশ শতকে ইসলাম ধর্মের প্রচারক উলুঘ খান জাহান শহরটি গড়ে তোলেন। এর আগে খলিফতাবাদ নামে পরিচিত ছিল এটি। এখানে মধ্যযুগীয় ইসলামি শহরের সব বৈশিষ্ট্য সংরক্ষিত আছে।’

সিজিটিএন আগে সিসিটিভি-নাইন ও সিসিটিভি নিউজ নামে পরিচিত ছিল। বেইজিং ভিত্তিক চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনের অংশ চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক গ্রুপের সংবাদ চ্যানেল এটি।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি