LalmohanNews24.Com | logo

১১ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং

চা’য়ের বহুবিধ গুণ

চা’য়ের বহুবিধ গুণ

চা হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গৃহীত পানীয়। পৃথিবীতে শত শত বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের চা উৎপাদিত হচ্ছে। চায়ের পাতা এতটাই স্বাস্থ্যকর যে আপনি দিনের যেকোনো সময় চা পান করতে পারবেন। শুধু তাই নয় আপনি নিজের ইচ্ছামত ও পরিমাণমতো চা পান করতে পারবেন। তবে আজ আপনাদের জানাবো এই চায়ের বিভিন্ন অজানা গুণ। ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ইউকে টি কাউন্সিল এক রিপোর্টে জানায় চায়ের মধ্যে থাকা ফ্লোরাইড উপাদান যাকে আরো বেশি স্বাস্থ্যকর করে তুলেছে এবং এই ফ্লোরাইড উপাদান দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। তাছাড়াও এটি ক্যাভিটি রোধের জন্য বিখ্যাত। চা পান করার সময় এটি মুখের পিএইচ কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়াও এই পানীয় পানে দাঁতের এনামেল থাকে সুরক্ষিত। বলা যায় নিয়মিত চা পান করলে আপনার হাসি আগের মতোই সুন্দর থাকবে।

চায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে কেট চীন যা একটি এন্টি-অক্সিডেন্ট। এটি মানুষের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমায়, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কাজ করে। কেট চীন পাওয়া যায় ডার্ক চকলেট এর মধ্যেও। তাই আপনি যদি এক কাপ চায়ের মধ্যে ডার্ক চকলেট মেশান তাহলে সেটি হবে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য দ্বিগুণ উপকারি এবং এটি হৃদরোগ প্রতিরোধে দ্বিগুণ কার্যকর। বার্মিংহামের ইউনিভার্সিটি অফ আলাবামার একজন অধ্যাপক সন্তোষ কাটিয়ার চায়ের এই উপাদানটি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার পর জানিয়েছেন, চা ত্বককে ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি থেকেও সুরক্ষা দেয়।

চা শুধু পান করাতেই যে উপকার তা নয়। এই চা আপনি বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভেজা টি ব্যাগ চোখের উপর ২০ মিনিট রেখে দিলে এটি আপনার চোখের নিচে কালো দাগসহ ফোলা দূর করে। আর এই টি ব্যাগ সানবার্ণ থেকে বাঁচতে সহায়তা করে। ত্বকের ক্ষয়ক্ষতি রোধেও টি ব্যাগের ব্যবহার করা হয়। ত্বকের থেকে যদি বাজে গন্ধ আসে তাহলে সেটা দূর করার জন্যেও টি ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। যদিও এটি আপনাকে সুগন্ধ দেবে না, তারপরেও আগের দুর্গন্ধ থেকে ত্বককে মুক্তি দেবে।

নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, চা হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। দক্ষিণ এশিয়ায় মরিঙ্গা নামের এলাকায় এক ধরনের চা উৎপন্ন হয়। এটিতে দুধের চেয়েও অধিক পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে। ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি এটিতে আর রয়েছে আয়রন, ভিটামিন এ এবং কে। এসব কিছুই হাড় মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়াও চা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে সবল রাখে। এক গবেষণায় গবেষকরা জানিয়েছেন, চা মানুষের ইমিউন কোষের কার্যকারিতা বাড়িয়ে সেটি শক্তিশালী করে। তুলসি চায়ের অনেক আয়ুর্বেদিক গুণ আছে। তুলসী চায়ের মধ্যে থাকে বিভিন্ন অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। তাই শত শত বছর ধরে এই চায়ের ব্যবহার হয়ে আসছে। বিভিন্ন ঔষধের কম থাকায় আগে বিভিন্ন শারীরিক দুর্ঘটনার পরে তুলসী চা পান করানো হতো।

অনেকের মতে, নিয়মিত চা পান ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। যদিও এ নিয়ে গবেষণার ফলাফল মিশ্র তারপরেও এক গবেষক বন্সি জানান, যদি পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে আর যদি তা প্রতিরোধ করতে হয় তাহলে আপনাকে নিয়মিত চা পান করতে হবে। হারবাল চা, বিশেষ করে ক্যামোমাইল পান করলে পাচন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত হারবাল চা পানের ফলে ক্ষতিকারক ইরিটেবল বয়েল সিন্ড্রোম (ইবিএস) থেকে বাঁচা যায়। ইবিএস হচ্ছে একটি লক্ষণ যার ফলে ডায়রিয়া, গ্যাস, অ্যাবডোমিনাল পেইন, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ বিভিন্ন রোগ হয়। হারবাল চায়ে এন্টিস্পাস্মোডিক উপাদান রয়েছে যা এটি প্রতিরোধ করে। তাছাড়াও আদা চা বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। শরীরের মেদ কমানোর জন্য গ্রীন টি’র জনপ্রিয়তা অনেক বেশি।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি