LalmohanNews24.Com | logo

৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চালচোরদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।। আইন বিশেষজ্ঞদের মত

চালচোরদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।। আইন বিশেষজ্ঞদের মত

আলমগীর হোসেন।।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে সরকারি চাল চোরদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির পক্ষে মত দিয়েছেন দেশের আইন বিশেষজ্ঞরা।

এ অপরাধকে অনেকাংশে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবেও অ্যাখ্যায়িত করেছেন তারা। এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে পেনাল কোডের (দণ্ডবিধি) ৪২০, ৪০৬, ৪০৩ ও ৩৭৯ ধারায় মামলা হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ধারা সংশোধন করে আরও ক্ষমতা দেয়া যেতে পারে। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে খাদ্য ও ঔষধসামগ্রী পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের দুই আইনজীবী।

করোনাভাইরাসের কারণে কলকারখানা, দোকানপাট ও বাজার বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে দিনমজুরসহ অনেকে। কর্মহীনদের মাঝে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। সহায়তা কার্যক্রম বেসরকারিভাবে কিছুটা সুষ্ঠুভাবে হলেও সরকারি সহায়তায় অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে।

সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও চাল ও তেলসহ পণ্য চুরির মহোৎসব দেখা যাচ্ছে। ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতি বরদাশত না করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী দিলেও তা থামছে না। বাস্তবে চালচোরদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

শনিবার পাঁচ জেলায় ১৫৭৯ বস্তা চাল উদ্ধার ও ইউপি সদস্যসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এভাবে প্রতিদিনই চাল উদ্ধার হচ্ছে, অনেকে আটকও হচ্ছে; কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় চাল চুরি থামছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দ্রুত কঠোর সাজা হলেই অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব।

এ বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ত্রাণের চাল চুরি অবশ্যই জঘন্যতম কাজ, জঘন্যতম অপরাধ। ত্বরিতগতিতে অপরাধীদের সাজার ব্যবস্থা করা উচিত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজাকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত বিচার টাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার হওয়া উচিত।

জানতে চাইলে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ত্রাণের চাল চুরি অবশ্যই ভয়ংকর অপরাধ। তিনি বলেন, এগুলো (ত্রাণ চুরি) উচ্ছেদ করার পদ্ধতি আছে। প্রতিটি ডিসি অফিসের ফোন নম্বর দেয়া যেতে পারে, যাতে কোনো অভিযোগ থাকলে জনগণ তা জানাতে পারে। অভিযোগ জানার পর জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট ইউএনও এবং ওসিকে দিয়ে পদক্ষেপ নিতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, চুরি সাধারণত ডিলার পর্যায়ে বেশি হচ্ছে। জনগণের কথা বলে মালামাল এনে বাইরে বিক্রি করছে। এটা ধরা কঠিন কোনো কাজ নয়। তিনি বলেন, কোন ডিলার মাল নিল তা এলাকার জনগণকে জানিয়ে দেয়া হোক। প্রয়োজনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে।

ত্রাণ চোরদের সাজা প্রসঙ্গে মাহবুবে আলম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দিচ্ছে এটা মন্দ নয়। তবে এভাবে সাজা না দিয়ে থানা পুলিশ জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে যাবে এবং এফআইআর করতে পারে। ঘটনাস্থলেই ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সাক্ষীদের জবানবন্দি নেয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, পেনাল কোডের (দণ্ডবিধি) ৪০৯ বা ৪০৬ (আমানতের খেয়ানত) ধারায় তাদের (চোরের) বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। তবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালেও তাদের বিচার হতে পারে। এ জন্য প্রয়োজনে আইন করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সাজা যাদের দেয়া হবে, তাদের যেন ব্ল্যাকলিস্ট (কালো তালিকাভুক্ত) করা হয়। ভবিষ্যতে যেন তারা আর কোনো সুয়োগ না পায়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ইউপি সদস্য বা চেয়ারম্যান পাবলিক সার্ভেন্ট। ত্রাণ আত্মসাৎ অবশ্যই দুর্নীতি। তিনি বলেন, ১৭ কোটি মানুষ যেখানে একসঙ্গে যুদ্ধ করছে, সেখানে কিছু লোক এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ করছে। এটাকে শক্ত হাতে মোকাবেলা করা উচিত। তিনি বলেন, এ বিষয়ে অ্যাকশন নিতে এরই মধ্যে দুদক চেয়ারম্যান নির্দেশ দিয়েছেন। ৬৪ জেলায় কাজও শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, চাল চুরির অপরাধ প্রমাণিত হলে দুদক আইনের ৫(২) ধারায় সাত বছর সাজা হবে। আবার দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায়ও সর্বোচ্চ সাত বছর সাজা হবে। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত সর্বোচ্চ দু’বছর সাজা দিতে পারবেন। আমার মতে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা প্রদানের ক্ষমতা আরও বাড়ানো দরকার।

চাল চুরির ঘটনাকে নিকৃষ্ট কাজ আখ্যায়িত করে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এটা সব থেকে অমানবিক কাজ। এ ধরনের চোরদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। দুদক আইন ছাড়াও পেনাল কোডের ৪২০ ধারায় চোরদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মহীন, দুস্থ মানুষকে বরাদ্দ স্বল্পমূল্যের চাল চুরির ঘটনায় দায়ীদের বিচারে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার করার লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন ব্যারিস্টার এএইচ ইমাম হাসান ভূঁইয়া। ১২ এপ্রিল ই-মেইলে তিনি নোটিশ পাঠান।

চালের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে সরকারের ৬টি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন তিনি। সাত কার্যদিবসের মধ্যে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নোটিশে বলা হয়েছে।

চালচোরদের হাত থেকে জনগণের অধিকার রক্ষায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা করতে ১১ এপ্রিল সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিমকোর্টের আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি