LalmohanNews24.Com | logo

৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চরফ্যাসনে শুঁটকী পেশায় জড়িতরা এখন স্বাবলম্বী

চরফ্যাসনে শুঁটকী পেশায় জড়িতরা এখন স্বাবলম্বী

দ্বীপ জনপথ ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজলার নদী ও সাগর মোহনায় জেগে উঠা চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের প্রধান পেশাই হচ্ছে মাছ ধরা। প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে বহুকাল ধরে নদী ও সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে সংগ্রামী জীবন পার করে অাসছেন এসব মানুষ। ইলিশ মাছ আহরণের পাশাপাশি ৬মাস শুঁটকী ব্যাবসা করে থাকেন অনেকেই। এ পেশার সাথে জড়িত সবাই এখন স্বাবলম্বী।
চরফ্যাশন উপজেলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সাগর উপকূলের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঢালচর, চরপাতিলা, কুকরী-মুকরী। এসব উপকুল এলাকার সাগর পাড়ে গড়ে উঠেছে ছোট বড় ১০টি শুঁটকী পল্লী। ছোট মাছ ধরে রোদে শুকিয়ে আরোহন করতে ব্যাস্ত সময় পার করেছেন শুঁটকী পল্লীর জেলেরা। সেখানে খোলা আকাশের নিচে ছোট ছোট মাছ রোদে শুকিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে শুটকি। শুঁটকী প্রস্তুত করতে পুরুষদের পাশাপাশি  সহযোগীতা করছেন নারীরাও।
চরফ্যাসন উপজেলার সাগর উপকূলের ঢালচর, চরপাতিলা, চরকচুয়াই, কুকরী-মুকরীসহ শুঁটকী পল্লী ঘুরে জানা যায়, এখানে ২শতাধিক জেলে ছোট ছোট নদী ও খালের পাড়ে চেউয়া, অলুফা, চিংড়ি, লেইট্রা ও টেংরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয়  মাছ শিকার করে রোদে শুকিয়ে শুঁটকী প্রস্তুত করেন।
শুঁটকী পল্লীর জেলে আলমগীর জানান,আশ্বিন থেকে চৈত্র ৬ মাস মূলতঃ শুঁটকীর মৌসুম।নদীতে ইলিশ মাছ না থাকার কারন বেকার অনেক জেলে নদী থেকে ছোট ছোট বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে এনে রোদে শুকিয়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে।সেখান থেকে আবার পাইকাররা বিভিন্ন জেলায় চড়াও মূল্যে রপ্তানি করেন। নদী ও খাল থেকে চেউয়া, অলুফা, চিংড়ি, লেইট্রা ও টেংরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ আহরণ করা হয়।সেগুলোকে ৩/৭দিন রোদে শুকানো হয়। তরতাজা হলে বিক্রির উপযোগী হয়। প্রতি মণ ২হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয় আড়ৎদারের কাছে।স্থানীয় আড়ৎদাররা এসব শুঁটকী দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী করে থাকেন। বছরের ৬মাসে প্রায় ৩কোটি টাকার শুঁটকী রপ্তানি হয় শুধু মাত্র চরফ্যাসন উপজেলার ঢালচর,ও চরপাতিলা,কুকরী-মুকরী থেকেই।
ঢালচর শুঁটকী পল্লীর জেলে রফিক বলেন, ঢালচর ও চরপতিলা, কুকরী-মুকরীতে ২শতাধিকের  বেশী জেলে এ পেশার সাথে জড়িত। যাদের সবাই এখন স্বাবলম্বী।তারা সরকারীভাবে যদি কোন সহযোগীতা পেত তাহলে আরো অনেক সম্প্রসারিত হতো এ পেশা।তিনি আরো বলেন, ১২বছর ধরে এ পেশায় আছি। শুঁটকী  প্রস্তুত করতে তেমন পুঁজির প্রয়োজন হয়না।শ্রমিক মজুরী খুবই কম। পরিবারের সবাই সহযোগীতা করলে অল্প পুঁজিতে বেশী লাভবান হওয়া যায়।আমাদের এ প্রাচীণ ঢালচর দ্বীপের বহু জেলে এ পেশার সাথে জড়িত। তাদের মধ্যে অধিকাংশই স্বাবলম্বী হয়েছে।সরকার যদি এ বিষয়ে নজরদারী রাখতো’ তাহলে শুঁটকীর মাধ্যমে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব হতো।
দুলারহাট বাজারের শুঁটকীর আড়ৎদার মোশারেফ হোসেন জানান, এখানকার শুঁটকী পল্লী থেকে প্রস্তুতকৃত শুঁটকী প্রতি কেজি  ৫০শ’ টাকা খুচরা দরে খরিদ করে স্থানীয় বাজারসহ  ভোলা, বরিশাল, চট্রগ্রাম, ঢাকা ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারী বাজারে রপ্তানি করা হয়।আহরনকৃত শুঁটকী এখন ভোলার বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে।ছয় মাসে আয় কোটি টাকার উপরে। শুঁটকী আহরণ, প্রস্তুতকরন, বাজারজাত করন ও রপ্তানি কিছুটা কষ্টকর হলেও লোকসানের মুখে পড়তে হয়না জেলেদেরকে।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন,কিছু কিছু জেলে আবার সচেতন না থাকায় শুঁটকী তৈরীর নামে নির্বিচারে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নদী থেকে ধরে হত্যা করে। এতে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে।
চরফ্যাসন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, সেখানে গত কয়েক বছর থেকে শুঁটকী ব্যবসা করে অনেকে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আমরা সরকারের কাছে এসব জেলেদের সহযেগিতার জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করবো।
Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি