LalmohanNews24.Com | logo

৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চরফ্যাসনে চিকিৎসার নামে প্রতারণা!

বিজ্ঞাপন

চরফ্যাসনে চিকিৎসার নামে প্রতারণা!

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার গ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন জটিল রোগের নাম করে ইউনানি, হারবাল, কবিরাজি, তদবির, দাওয়াখানা ইত্যাদি নানা স্টাইলে চিকিৎসার নামে চলছে চরম প্রতারণা। এসব কথিত চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে রোগ নিরাময় দূরের কথা উল্টো রোগীরা নানারকম শারীরিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনাকারীদেরও নেই প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অথচ তারা মাসের পর মাস ধরে সব ‘কঠিন ও জটিল’ রোগের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন।

চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট, হাজিরহাট, বাংলাবাজার, মুন্সীরহাট, চৌমহনী বাজার, একতাবাজার, শিবারহাট, মৌলভীবাজার, জনতাবাজার, মুখারবান্দা, লেতরাবাজার, চেয়ারম্যান বাজার, কেরামতগঞ্জ, ঢালিরহাট, শেমগঞ্জ, গাছিরখাল বাজার, আঞ্জুরহাট, দাশেরহাট, কাজলবাজার, নজির মাঝি, গুলিস্থান বাজার, রৌর্দ্দেরহাট, মতলবমিয়া বাজার, চৌকিদার বাজার, মাঝিরহাট, উত্তর আইচা, দক্ষিণ আইচা, ঢালচর বাজার ও কুকরী-মুকরী বাজার সহ এসব প্রতারকের একচ্ছত্র বাণিজ্যিক দাপট।

যেখানে-সেখানে খোলা হয়েছে কথিত চিকিৎসা কেন্দ্র। এগুলোর নেই কোনো স্বীকৃতি, নেই কোনো লাইসেন্স। অথচ এসব কেন্দ্রেই যৌনরোগ, পাইলস, অ্যাজমা, গ্যাস্টিক ও ক্যান্সারসহ জটিল, কঠিন বহুবিধ রোগ নিরাময়ের শতভাগ গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে অহরহ। সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো বন্ধে সরকারি কোনো সংস্থা উদ্যোগ নিচ্ছে না।

কথিত হারবাল সেন্টারগুলোতে চিকিৎসা নিয়ে রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া দূরের কথা, উল্টো অপচিকিৎসার শিকার হয়ে শারীরিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। এ ধরনের হারবাল চিকিৎসার নামে প্রতারণা করছে কতিপয় ব্যক্তি ও অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান। এলাকার অলিগলির গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রচারপত্রে এসব চিকিৎসক যৌন দুর্বলতার চিকিৎসার নামে পুরুষ ও মহিলাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তারা প্রথমেই হরেক রকমের বাহারি চকচকে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে লোভে ফেলার অপচেষ্টা চালায়। দুলারহাট থানার নীলকমল ইউনিয়নের অাশরাফুর রহমান জানান, আমি হারবাল ওষুধ খেয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, পরে ঢাকা গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।

নুরাবাদ ইউনিয়নের চরতোফাজ্জল গ্রামের সেলিনা বেগম বলেন, আমি মোটা হওয়ার ওষুধ খেয়েছিলাম। পরে আমার শরীরে পানি জমে গেছে। আমি বরিশাল গিয়ে ডাক্তার দেখানোর পর ডাক্তার বলেছেন আরও পরে এলে কিডনিতে বড় ধরনের সমস্যা হতো। দীর্ঘ পাঁচ মাস ওষুধ খেয়ে ভালো হয়েছি। ড্রাগ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, কোনো ফার্মেসি দিতে হলে সরকারিভাবে ড্রাগ লাইসেন্স প্রয়োজন। চরফ্যাশনে কোনো হারবাল চিকিৎসালয়ের ড্রাগ লাইসেন্স নেই। কয়েকটি হারবাল ফার্মেসিকে বারবার তাগাদা দেয়া হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শোভন বসাক বলেন, হারবাল চিকিৎসার কোনো বৈধতা নেই। অনেক রোগীর জীবন শেষ করে দেয়া হয়। হারবালের ওষুধ সেবন করে ক্ষতির শিকার অনেক রোগীর চিকিৎসা আমি করেছি। এ বিষয়গুলোর প্রতি সরকারের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

হাসান পিন্টু

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি