LalmohanNews24.Com | logo

৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চরফ্যাশনকে আধুনিকতার রূপ দিয়েছে উপ-মন্ত্রী জ্যাকব

বিজ্ঞাপন

চরফ্যাশনকে আধুনিকতার রূপ দিয়েছে উপ-মন্ত্রী জ্যাকব

ছোয়া দ্বীপ জনপদ ভোলা এখন অবহেলিত নেই। এককালের অবহেলিত জনপথ ভোলা লেগেছে আধুনিকতার ছোয়া। অবকাঠামো ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ফলে আগেকার সেই ভোলা আর নেই। বিশেষ করে চরফ্যাশন উপজেলায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী জ্যাকবের রেকর্ডসংখক দৃশ্যমান উন্নয়নে এটি একটি মডেল উপজেলা হিসাবে রুপান্তিরত হয়েছে।

আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ২০০৮ সালে অনুষ্ঠেয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৮ ভোলা-৪ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে তিনি মায়া নদীর উপর ৩১ কোটি ও ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ব্রীজ নির্মাণসহ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্ট নির্মাণ করেছেন। চরফ্যাসন-মনপুরার প্রায় ৯০% রাস্তা তিনি পাকা করেছেন। চরফ্যাসন ও মনপুরা বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত একটি দ্বীপাঞ্চল।

নদী ভাঙ্গন এখানকার একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা হিসেবে চিহিুত। তিনি চরফ্যাসন-মনপুরা নদী ভাঙ্গন রোধে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন। উপমন্ত্রী জ্যাকব তাঁর নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রশাসনিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে তিনি শশীভূষণ, দক্ষিণ আইচা ও দুলারহাট নামে তিনটি নতুন থানা গঠন, জনগণের নিরাপত্তা ও নৌ ডাকাতি রোধে চরফ্যাসনের ঢালচর ও কুকরি মুকরিতে ২টি এবং মনপুরার কলাতলীতে ১টি, মোট ৩টি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করেছেন।

৮টি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২ ভোলা জেলা থেকে চরফ্যাসনে স্থানান্তর, চরফ্যাসন পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীতকরণ, দেওয়ানী, ফৌজদারী ও যুগ্ম জেলা জজ কোর্ট চরফ্যাসনে স্থানান্তর, এছাড়া ও তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম উপজেলা পর্যায়ে চরফ্যাসনে ‘অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত’ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তে আদালতের উদ্বোধন করবেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

উল্লেখ্য, মামলা জট এবং দীর্ঘসূত্রিতা থেকে বেরিয়ে আসতে এবং জনগণের কাছাকাছি আইনের বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই বিচারিক এ আদালতটি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। শশীভূষণে ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের সাব স্টেশন স্থাপন, ৩২২ কি.মি. পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুতের লাইন সম্প্রসারণ।

চরফ্যাসন-ঢাকা লঞ্চ রুট পুনরায় চালুকরণ, চরফ্যাসন উপজেলায় আদালত ভবন নির্মাণ, শশীভূষণ ও দক্ষিণ আইচার নতুন থানা ভবন নির্মাণ, চরফ্যাসন-মনপুরায় ৪টি সাব রেজিষ্ট্রার অফিস নির্মাণ, মনপুরায় ফায়ার ব্রিগেড ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, ১০০০ মে.টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন খাদ্য গুদাম, অত্যাধুনিক অডিটরিয়াম ও আধুনিক কোর্ট বিল্ডিং নির্মাণ ইত্যাদি উপমন্ত্রী জ্যাকবের উল্লেখযোগ্য অবদান।

বিশ্বখ্যাত আইফেল টাওয়ারের আদলে চরফ্যাসনের খাসমহল মসজিদ ও ফ্যাসন স্কায়ারের দক্ষিণ পার্শ্বে ১৮ তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন জ্যাকব টাওয়ার পর্যটকদের আকর্ষনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। এই জ্যাকব টাওয়ারে দাঁড়ালেই পশ্চিমে তেঁতুলিয়া নদীর শান্ত জলধারা, পুর্বে মেঘনা নদীর ঢেউ, দক্ষিণে চরকুকরি মুকরিসহ বঙ্গোপসাগরের ঘেঁষে বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলার বিরাট আংশ নজরে আসবে। উপমহাদেশের সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ারটি ৭৫ ফুট মাটির নিচ থেকে ৭০ টি পাথর ঢালাই পাইলিং ফাউন্ডেশনের উপর নির্মিত সম্পুর্ন স্টিলের তৈরী।

৮ মাত্রার ভুমিকম্প সহনীয় এ টাওয়ারের চুড়ায় উঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি ১৬ জন ধারণ ক্ষমতার রয়েছে অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট। ১০০০ বর্গফুটের ১৭ তম তলায় রাখা হয়েছে বিনোদনের নানা ব্যবস্থা। একসঙ্গে ২০০ পর্যটক সেখান থেকে ১০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত দেখতে পাবেন। এছাড়াও বিশ্রাম, প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবারের ব্যাবস্থা রয়েছে। উপ মন্ত্রীর আর এর আবিস্কার – চরফ্যাসন পৌর শহরের ফ্যাসন স্কয়ার ইতোমধ্যেই সকলের কাছে অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছে। ফ্যাসন স্কয়ারে নান্দনিক সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ওয়াটার ফাউন্টেন (পানির ফোয়ারা)।

রাতের অন্ধকারে বর্ণিল আলো ও পানির নাচন দেখে বিমোহিত দর্শনার্থীরা। এছাড়া ভোজনরসিকদের জন্য রয়েছে আধুনিক মানের রেস্টুরেন্টের লোভনীয় খাবার। চরফ্যাসন পৌর শহরের ফ্যাসন স্কয়ারের পাশে নির্মিত হয়েছে শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্ক। এই পার্কে আছে প্রাটোফার, ট্রেন, হানিসুইং, মেরিগ্রাউন্ড, ওয়ান্টার হুইল, থ্রিডি গেইম, বেলুন ঘর, হাতি, জিরাফসহ অনেক প্রাণি, বিভিন্ন ধরণের ফুল গাছ, বসে আড্ডা দেওয়ার জন্য আছে গোলঘর, বসার ব্যাঞ্চ, গাছের উপরে কফি খাওয়ার ঘর ও সুইমিংপুল।

সেখানে থাকবে অনেক ধরনের খেলনাসহ ইত্যাদি আরো অনেক ধরনের ছোট বড় খেলনা। সৌন্দর্যের আর এক মাত্রা – পৌরসভার অর্থায়নে চরফ্যাশন কুলসুমবাগ সংলগ্ন ভোলা-চরফ্যাশন সড়কের পাশের ৩ একর জায়গায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মিত করা হয়। চরফ্যাসন থেকে ৩২ কিলো মিটার দূরে নজরুল নগর ইউনিয়নে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টি নন্দন খামার বাড়ি। এই খামার বাড়িতে রয়েছে রেষ্টহাউজ, মসজিদ, বিশাল আকারের পুকুর, গাছ, বাগান, সাথেতো নানা ফুলের সমারম আছেই, ঈদ মৌসুমে এখানে থাকে হাজারো মানুষের ভীড়। এছাড়াও তিনি ইতোমধ্যে মনপুরা ও চর কুকরি মুকরিতে ক্যাবল কার, ইকো পার্ক, গলফ মাঠ, সুইমিংপুলসহ সর্বাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

শিক্ষা ও ধর্মীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের অবদান অপরিসীম। নিজ এলাকায় পিতা-মাতার নামে দুইটি দৃষ্টিনন্দন কলেজ নির্মাণ, চরফ্যাসন কলেজে অত্যাধুনিক অনার্স ভবন সহ অনার্স কোর্স চালু ও সরকারিকরণ, ভোলার একমাত্র বিএড কলেজ “অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বিএড কলেজ” স্থাপনসহ বিভিন্ন কলেজ, বিদ্যালয়, মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ এবং দুলারহাট, শশীভূষণ ও দক্ষিণ আইচায় এস.এস.সি, দাখিল ও এইচ.এস.সি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। বর্তমানে তিনি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন, নজরুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট অব টেকনোলজির চেয়ারম্যান; অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজ, শশীভূষণ বেগম রহিমা ইসলাম কলেজ, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বিএড কলেজ ও নীলিমা জ্যাকব মহিলা কলেজ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ, মনপুরা ডিগ্রী কলেজ, চরফ্যাসন কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসা ও নীলিমা জ্যাকব মহিলা কলেজ এর গভর্ণিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি, চরফ্যাসনে অত্যাধুনিক ঈদগাহ নির্মাণ, প্রায় ০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় খাসমহল জামে মসজিদ নির্মাণ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, কলেজ মসজিদ, ঈদগাহ মসজিদ ও ইদারাহ ভবন নির্মাণসহ অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দির উন্নয়নে তিনি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাছাড়া ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চরকুকরি মুকরীতে নির্মাণ করেছেন আধুনিক রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্র।

জনাব আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ১৯৭২ সালের ২১ ডিসেম্বর ভোলা জেলার চরফ্যাসনের জিন্নাগড় ইউনিয়নে (বর্তমানে চরফ্যাসন পৌরসভা) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম অধ্যক্ষ এম এম নজরুল ইসলাম এবং মাতা বেগম রহিমা ইসলাম। তিনি একটি শিক্ষানুরাগী ও রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা একাধিকবার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য এবং চরফ্যাসন মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন। জনাব জ্যাকব রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস ডিগ্রী অর্জন করেন।

হাসান পিন্টু

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি