LalmohanNews24.Com | logo

৫ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে মার্চ, ২০১৯ ইং

খুশকি বা ড্যানড্রাফ

খুশকি বা ড্যানড্রাফ

শীত হোক বা গরম কাল খুশকির হাত থেকে নিস্তার পাওয়া প্রায় বেশ ভার। অনেকেই অনেক কিছু ব্যবহারের পরও খুশকির হাত থেকে রেহাই পায় না। চুলের অবস্থা তো খারাপ হয়ই, সঙ্গে থাকে চুলকানি। তাই খুশকি থেকে রেহাই পেতে হলে সর্ব প্রথম আমাদের জানতে হবে খুশকি কী? কেন হয়?

ড্যানড্রাফ বা খুশকি হচ্ছে মাথা থেকে খসে পড়া মৃত স্কিন। আমাদের মাথা এবং শরীর থেকে সব সময়ই মৃত স্কিন খসে পড়ছে কিন্তু তা আমরা দেখতে পাই না, কারণ তার পরিমান খুব অল্প ও কোয়ালিটি ভালো অর্থাৎ খুব স্বচ্ছ। মাথার ত্বক বা স্কাল্পে সব সময় কিছু নতুন কোষ হয় আর কিছু পুরনো কোষ ঝরে যায়। এটা একটা চক্র। যখনই অস্বাভাবিকভাবে স্কিন খসে পড়ে তখন তা আমরা খুশকি হিসাবে দেখতে পাই।

খুশকি হওয়ার কারণ সমূহ: শুষ্ক ত্বক, ভালো ভাবে না ধোয়া। একজিমা, সোরিয়াসিস, ফাংগাল ইনফেকসন, এলার্জী। চুলের কসমেটিক সমূহ। কখনো কখনো ছত্রাকের আক্রমণের ফলে এ সমস্যা হতে পারে। বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়ার কারণেও এটি হয়। চুলের শুষ্কতার কারণে খুশকি হয়। তবে খুশকি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। আবার মাথার ত্বক থেকে বের হওয়া তেলজাতীয় একধরণের পদার্থ-ফেবোরিয়া, বাইরের ধুলোবালি, শরীরে হরমোনের সমস্যা, চুলে অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার ইত্যাদি নানা কারণে খুশকি হতে পারে।

খুশকি একটি সাধারণ সমস্যা আবার একটি মারাত্বক রোগের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

লক্ষণ সমূহ:

১। খুশকির কারণে মাথা চুলকায়।

২। মাথার চামড়া উঠে যায়।

৩। খুশকি একটি বিরক্তিকর সমস্যা।

৪। চুল উঠে যায়।

৫। মাথা থেকে সাদা আঁশের মতো গুঁড়া পড়তে থাকে

৬। মানসিক দুশ্চিন্তার কারণেও মাথায় খুশকি হয়।

জন্মগত বা জেনেটিক্যাল কারণ একটি। স্কাল্পে সমস্যা থাকলেও খুশকি হতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ধুলাবালিতে চুলে ময়লা জমে যায় দ্রুত। ফলে খুশকির উপদ্রব বাড়ে। শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বকের আর্দ্রতা কমে গিয়ে চামড়া ওঠে বা ত্বক রুক্ষ করে। ফলে খুশকি বেড়ে যায়। ঘাম, বৃষ্টির পানি চুলের জন্য ক্ষতিকর। বারবার ঘষলে তা থেকে চুলকানি ও খুশকি হয়। আর বৃষ্টির পানিতে চুল রুক্ষ হয়ে যায়।

আপনি যদি খুশকির সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে ভবিষ্যতে আপনার টাক পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ যাদের মাথায় খুশকি হয়, তাদের চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। ফলে চুল ঝরে গিয়ে টাক পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

প্রাথমিক চিকিৎসা:

১। এ্যান্টি ড্যানড্রাফ এবং কন্ডিশনা শ্যাম্পুব্যবহার করুন।

২। শ্যাম্পু করে পরিষ্কার পানি দিয়ে পাঁচ মিনিট ধরে মাথা ধৌত করুন।

৩। যদি খুশকির পরিমান বেশি হয় তাহলে ডার্মেটোলজিক্ট বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং কোনো রোগের কারণে খুশকি হলে তার চিকিৎসা করান।

আনুষঙ্গিক ব্যবহার:

১। সাধারণত নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে মাথা পরিষ্কার করলে খুশকির সমস্যা থাকে না।

২। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করুন।

৩। নিয়মিত গোসল করুন।

প্রাকৃতিক উপায়ে খুশকি দূর করার টিপস: খুশকি আপনার মাথার চুলের তো ক্ষতি করছেই, তার ওপরে এটা আবার মুখে ব্রণও সৃষ্টি করতে পারে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুশকি দূর করাই বাঞ্ছনীয়। এন্ট্রি ডানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহারে খুশকি দূর হতে পারে। তবে আমরা দেখবো প্রাকৃতিক কিছু টিপস।

১। প্রাকৃতিকভাবে কিভাবে নির্মূল করা যায়: ৩-৪ টুকরা লেবু নিন এবং ৪-৫ কাপ পানির মধ্যে দিয়ে ১৫-২০ মিনিট ধরে সিদ্ধ করুন। এরপর এটি ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এবার আপনার মাথার চুল ধোয়ার সময় এটি ব্যবহার করুন। কমপক্ষে ১ সপ্তাহ এটি ব্যবহার করবেন।

২। ২ টেবিল চামচ মেথি সারারাত ধরে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর সকালে তা দিয়ে সুন্দর করে পেস্টের মত বানিয়ে ফেলুন। এই পেস্ট আপনার চুলে এবং মাথার তালুতে ব্যবহার করুন কমপক্ষে ৩০ মিনিট। এরপর ধুয়ে ফেলুন। ভাল ফলাফলের জন্য অন্তত ৪ সপ্তাহ ব্যবহার করুন।

৩। গোসলে যাওয়ার আগে লেবুর রস দিয়ে আপনার মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর মাথা ধুয়ে ফেলুন।

৪। সমপরিমান পানি এবং ভিনেগার দিয়ে মিক্সার তৈরি করুন। রাতে মিক্সারটি মাথার তালুতে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ন। সকালে ওঠে শ্যাম্পু দিয়ে হালকাভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন।

৫। কিছু পরিমাণ টক দই নিয়ে মাথার তালুতে লাগিয়ে রাখুন। এটা ১ ঘন্টা রেখে দিন, এরপর হালকাভাবে শ্যাম্পু ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুইবার এই পদ্ধতি অবলম্বন করুন।

৬। দু’টো ডিম এটি পেস্ট আকারে মাথার তালুতে লাগান। এক ঘন্টা পর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতি খুশকি দূর করতে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।

৮। হালকা উষ্ণ বাদাম তেল, নারিকেল তেল অথবা অলিভ ওয়েল মাথার তালুতে ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে খুশকি দূর হয়।

৯। ১ টেবিল চামচ লেবুর রস এবং ৫ টেবিল চামচ নারিকেল তেল একসঙ্গে মেশান। এবার এই মিক্সার মাথার তালুতে ব্যবহার করুন। ২০-৩০ মিনিট পর ভাল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এছাড়াও নিমপাতা পিষে পেষ্ট বানিয়ে ফেলুন। এবার মাথার শুষ্ক খুলিতে এই পেস্ট সরাসরি প্রয়োগ করুন। আধাঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন। চুল সবসময় পরিস্কার রাখুন। অপরিস্কার চুলে খুশকি হবে এবং বৃদ্ধি পাবে এর কোনো বিকল্প নেই।

কাজেই প্রতিদিনই আপনার চুল পরিস্কার করে ধুয়ে ফেলবেন। ধীরে ধীরে আপনার চুল থেকে হারিয়ে যাবে খুশকি। ছেলেদের মাথায় বিভিন্ন কারণে খুশকি হয়ে থাকে। খুশকি কোনো রোগ বা রোগের লক্ষণ নয়। নিজের চিরুনি, ব্রাশ, তোয়ালে, বালিশের কভার যথাসাধ্য পরিষ্কার এবং আলাদা রাখলে তাতেই খুশকি অনেক কমে যাবে।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি