LalmohanNews24.Com | logo

৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

ক্যাসিনো পাড়ায় সুনসান নিরবতা!

ক্যাসিনো পাড়ায় সুনসান নিরবতা!

মতিঝিলের ক্যাসিনো পাড়ায় নেই আগের মত জৌলুস। র‌্যাবের অভিযানের পর থেকে ক্লাবপাড়ায় সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। ক্লাবগুলোতে যারা নিয়মিত আসতেন, তাদের যাতায়াত চোখে পড়েনি। গা ঢাকা দিয়েছেন জুয়াড়িরা। এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

‘রাত যত বাড়ে, মতিঝিলের ক্লাব পাড়ায় জুয়াড়িদের সংখ্যা তত বাড়ে’ এমন দৃশ্যপটের সঙ্গে স্থানীয়রা পরিচিত থাকলেও এখন সন্ধ্যার পরই নীরব হয়ে যায় পুরো এলাকা। নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মতিঝিলসহ ঢাকার ক্যাসিনোগুলো এখন বন্ধ প্রায়।

মঙ্গলবার ক্লাব পাড়া ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে আগের মতো কর্মব্যস্ততা নেই। পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। প্রায় প্রত্যেকটি ক্যাসিনোর সামনে ৪/৫ জন মানুষের ভিড়। তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন সময় ক্যাসিনোতে জুয়া খেলে নিঃস্ব হয়েছেন। ক্লাবগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়মিত লোকবল থাকলেও এখন সেখানে দায়িত্বশীল কেউ নেই। প্রত্যেকটি ক্লাবের প্রধান গেইটে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় মোহামেডান, আরামবাগ, দিলকুশা, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, ভিক্টোরিয়া ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো ছিল। এর মধ্যে ইয়ংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। বাকি পাঁচটি ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালিত হতো ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের নিয়ন্ত্রণে।

ক্লাবের সামনে ঘুরতে থাকা কয়েকজন জুয়ারির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকল পেশার মানুষ জুয়া খেলতে আসতেন এসব ক্যাসিনোগুলোতে। যাদের পুঁজি কম, তারা অল্প কয়েক দিনেই সর্বস্ব হারিয়ে ফেলতেন। হাতের ঘড়ি, স্ত্রীর কানের দুল কিংবা নাকের ফুল বেচাকেনাও হতো ক্যাসিনোগুলোয়। টাকা ফুরিয়ে গেলে এসব জিনিস বিক্রি করে আবার খেলতে শুরু করতেন জুয়ারীরা। জুয়া খেলতে খেলতে ঘরবাড়ি-সংসারের কথাও ভুলে যেতেন অনেকেই। ক্যাসিনোগুলোতে খাবার ফ্রি থাকায় অনেক জুয়ারী এখানে জুয়া খেলেন, এখানে খান, আবার এখানেই ঘুমিয়ে থাকতেন।

ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সামনে বসে রয়েছেন ইয়াকুব নামের এক ব্যক্তি। তার জীবনের সর্বস্ব হারিয়ে এখন পথে বসেছেন। ক্লাব-ক্যাসিনোতেই দিন-রাত কাটতো। তিনি বলেন, প্রথমে কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা না হলে কেউ ক্যাসিনোতে খেলতে পারত না। কিন্তু এই এলাকায় ক্যাসিনোর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রেট কমিয়ে ১০০-২০০ টাকাতেও ক্যাসিনো খেলা হতো। এতো অল্প টাকায় খেলার সুযোগ থাকায় অনেকেই এদিকে ঝুঁকেছে। খেলার নেশায় পড়লে বাইরের জগত নিয়ে কোন ভাবনা থাকতো না। এখন ক্লাব বন্ধ তবুও মায়া কাটাতে পারছি না। বন্ধ হবার পরেও প্রতিদিনই এসে ক্লাবের সামনে কিছুক্ষণ বসে থেকে চলে যাই।

এদিকে, ক্লাবগুলো বন্ধ থাকায় স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা আগের থেকে কমেছে। সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতা শুন্য হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

গত বুধবার ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হয়। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ওই দিন মতিঝিল এলাকার ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র ও বনানীর গোল্ডেন ঢাকা ক্লাবে অভিযান হয়। মতিঝিলে অভিযানের সময় ইয়ংমেনস ক্লাবের সভাপতি খালেদ মাহমুদকে গুলশানের বাসা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। ফকিরেরপুল ইয়াংমেনস ক্লাবে থেকে দুই নারীসহ ১৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। ক্যাসিনোতে মদ আর জুয়ার বিপুল সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রায় ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরে শুক্রবার রাতে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ও ধানমন্ডি ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। কলাবাগানে অভিযানের আগে ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। ধানমন্ডি ক্লাবের বার শুক্রবার সিলগালা করে দেয় র‌্যাব।

এছাড়া, মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব থেকে মাদক, জাল টাকা, বিপুল পরিমাণ টাকা ও ক্যাসিনো সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এরপর ক্যাসিনোগুলো সিলগালা করে দেয়া হয়।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি