LalmohanNews24.Com | logo

২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কোন রঙে রাঙাব তোমায়

বিজ্ঞাপন

কোন রঙে রাঙাব তোমায়

প্রসঙ্গঃ সমকাম
সালেহ্ রনক

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সমকামিতা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল ভারতের শীর্ষ আদালত। রায়ে সমকামিতার অধিকার বৈধ হল ভারতে। যেহেতু বিষয়টি অধিকার সংক্রান্ত ও বিতর্কিত তাই এর ঢেউ এসে বাংলাদেশেও এসে আছড়ে পড়েছে। এই বিষয়ে দেশ গরম,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গরম,আমিও গরম হয়ে নরম শব্দ বিন্যাসে আগ্রহী হলাম।

গত ৫ সেপ্টেম্বর কোর্টের রায়ের পূর্ব পর্যন্ত ভারতে সমকামিতাকে অপরাধ বলেই গণ্য করা হত। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী এই অপরাধে যাবজ্জীবন বা ১০ বছর পর্যন্ত জেলসহ জরিমানার বিধানও ছিল। যদিও ৩৭৭ ধারায় খুব কম লোকই শাস্তি পেয়েছেন, তবু শীর্ষ আদালতের এই রায় সমকামিতার অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের কাছে একটি ধাক্কা ছিল। কারণ এই আইনের অজুহাত দিয়ে সমকামী ও এলজিবিটিদের হেনস্তা করে বলেই দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল।এই রায়ে ভারতে বসবাসকারী সমকামী নারী পুরুষ জীবনে স্বস্তি খুজে পেয়েছেন,তেমনি আমাদের দেশসহ অন্যান্য দেশে,সমাজে লুকিয়ে থাকা একই ধারার অনুসারীরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন কিংবা একটু হলেও আনন্দিত হয়েছেন।

সমকামীতা বলতে আমরা সকলেই বুঝি একই সেক্স বা লিঙ্গের মানুষের প্রতি যৌন আকর্ষন বোধ করা।লেসবিয়ান,গে দিয়ে আমরা মেয়ে ও ছেলেদের মাঝে সমকামীতা বুঝিয়ে থাকি। সমকামিতা একটি যৌন প্রবৃত্তি, যার দ্বারা সমলিঙ্গের দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রেম কিংবা যৌন আচরণ বোঝায়। প্রবৃত্তি হিসেবে, সমকামিতা বলতে বোঝায় মূলত সমলিঙ্গের কোনো ব্যক্তির প্রতি জেগে ওঠা “এক যৌন, স্নেহ বা প্রণয়ঘটিত এক ধরনের স্থায়ী স্বাভাবিক প্রবণতা।সহজ ভাষায় কোন ছেলের প্রতি ছেলের আকর্ষন অথবা কোন মেয়ের প্রতি মেয়ের আকর্ষনকে সমকামীতা বলে।
সমকামিতার ইংরেজী প্রতি শব্দ হোমোসেক্সুয়ালিটি।
সমকামীদের কয়েকভাগে ভাগে বিভক্ত করা যায়।
ক) Gay বা পুরুষ সমকামী
খ) Lesbian বা নারী সমকামী
গ) Shemale বা হিজড়া
ঘ) Bisexual বা দ্বৈত যৌন জীবন
হিজড়া আর বাইসেক্সুয়াল’রা মূলত উভকামী তবে তাদের মধ্যে সমকামী বৈশিষ্ট্য বেশী প্রকট থাকে। যৌন তাড়না বা প্রবৃত্তির ভিত্তিতে মানুষ কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
ক)সমকামীঃ সমলিঙ্গের মানুষের প্রতি যারা যৌন তাড়না অনুভব করে।
খ)উভকামীঃ যারা নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতি যৌন বাসনা অনুভব করে।
গ)বিসমকামী বা অসমকামীঃ যারা বিপরীত লিঙ্গের মানুষের প্রতি যৌন তাড়না অনুভব করে।

বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর,তাই ধর্ম ও বিজ্ঞানের আলোকে আলোচনা খুবই প্রয়োজন।দুনিয়াতে বিরাজমান তিনটি ধর্মে সমকামীতার ব্যাপারে আলোচনা আছে এবং ওই তিনটি ধর্মে সমকামীতা পাপ বলে গণ্য করা হয়েছে ।ধর্ম তিনটি হলো খ্রিষ্টান,ইহুদী,মুসলমান।এছাড়া বাকী যত ধর্ম আছে সেখানে সমকামীতার ব্যাপারে নিষিদ্ধ,বা প্রসিদ্ধতার ব্যাপারে আলোকপাত করা হয়নি।অর্থ্যাৎ এটাকে পাপ বা পূণ্য কিছুই বলা হয় নি।

ইসলাম ধর্মে সমকামীতা সম্পূর্ণ হারাম এবং এই ব্যাপারে কোরআনের অনেক আয়াতে বর্ণনা দেয়া আছে।কোরআানের প্রায় চৌদ্দ জায়গায় সমকামিতার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।কোরআনে বর্ণিত আছে,
“আর আমি লূতকে নবী হিসাবে প্রেরণ করেছিলাম। যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বের কেউ করেনি ? তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। তোমরা নিশ্চিতই সীমালঙ্ঘনকারী।” (সূরা আরাফ ৭ : ৮০-৮১)পরবর্তী আয়াতে তাদের উপর শাস্তির ব্যাপারে বর্ণিত হয়
“এরপর ওদের উপর(সমকামীদের) মুষলধারে (কঙ্কর)বর্ষন করেছিলাম।অতএব অপরাধীদের পরিণতি কী হয়েছিল বুঝতেই পারছ”(সুরা আরাফ ৭ : ৮৪)সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর?এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্য সঙ্গিনী হিসেবে যাদের সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।” (সূরা শু`আরা ২৬ : ১৬৫-১৬৬) । সুরা নিসার ১৬ নং আয়াতে পাওয়া যায় –”তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন সেই কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর । অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও । নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী,দয়ালু।”
এছাড়াও বিভিন্ন আয়াতে সমকামীতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।সমকামীতার ব্যাপারে যে আয়াতগুলো তা অনেকটা উভকামীতার উপর।যেমন লূত সম্প্রদায় তাদের স্ত্রীদের রেখে সমকাম করতো পুরুষদের সাথে।

বাইবেলে সমকামীতার আলোচনা তেমন ব্যাপক না হলেও আংশিক যা এসেছে তার সারমর্ম।
সমকামীতা একরকমের পাপ (আদি পুস্তক ১৯:১-১৩; লেবীয় ১৮:২২; রোমীয় ১:২৬-২৭; ১ করিন্থীয় ৬:৯) রোমীয় ১:২৬-২৭ পদ সুনির্দিষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে, ঈশ্বরের অবাধ্য হওয়া এবং তাঁকে অস্বীকার করার ফলস্বরূপ সমকামিতার শাস্তি দেওয়া হয়েছে। লোকেরা যখন অবিশ্বাসের কারণে পাপ করতেই থাকে, তখন ঈশ্বর “লজ্জাপূর্ণ কামনার হাতে” তাদের ছেড়ে দেন যেন তারা আরও জঘন্য পাপে ডুবে যায় এবং ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে থাকার ফলে নিস্ফল ও নৈরাশ্যের জীবন অনুভব করতে পারে। ১ করিন্থীয় ৬:৯ পদে বলা হয়েছে যে, যারা সমকামিতায় “দোষী”, তারা ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকার পাবে না।ঈশ্বর সমকামিতার মনোভাব দিয়ে মানুষ সৃষ্টি করেন নাই। পবিত্র বাইবেল বলেছে, লোকেরা পাপের কারণে সমকামী হয় (রোমীয় ১:২৪-২৭) এবং এটা তাদের নিজেদের পাপপূর্ণ ইচ্ছার পরিণতি। একজন ব্যক্তি সমকামিতার মত এমন সংবেদনশীল অনুভূতি নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে; যেমন কেউ কেউ আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে এবং অন্যান্য পাপস্বভাব নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তার মানে কিন্তু এ-ই নয় যে, ঐ ব্যক্তি তার পাপ স্বভাবের অধীনে নিজেকে চালাচ্ছে বলে তাকে ক্ষমা করা যায়। যদি কোন ব্যক্তি রাগ বা উগ্রতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, তাহলে তাকে কি ঐরকম ইচ্ছার অধীনে থাকতে দেওয়া যায়? অবশ্যই দেওয়া যায় না! সমকামিতার ক্ষেত্রেও ঠিক একই কথা বলা যায়।

ইসলামিক দেশগুলোতে সমকাম প্রকাশ্যে না চললেও ভেতরে ভেতরে খুব চলে কেননা স্ত্রী ব্যতীত নারীসংসর্গ ইসলামিক দেশগুলোতে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ, অবদমিত যৌনাকাঙ্ক্ষা দমন করতে না পেরে ও নারীদের সঙ্গে মিলিত হতে না পেরে ইসলামিক দেশগুলোতে অনেকেই সমকামী যৌনসম্পর্কে প্রবৃত্ত হয় । সমকামের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বলে ইসলামিক দেশগুলোর বিপুল সমকামী জনগোষ্ঠী নিজেদের সমকামী চরিত্রটি গোপণ করে রাখে ।

সমকামীতার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তারা জিনগত, হরমোনগত এবং পরিবেশগত তিনটি বিষয়কে এই জন্য দায়ী করেছেন। জিনগত ও হরমোনগত বিষয়গুলো না হয় মেনে নিলাম কিন্তু পরিবেশগত বিষয়টি গড়ে উঠে একমাত্র সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় সমর্থনের মাধ্যমে।
রাষ্ট্রীয় বৈধতা পাওয়ার কারণে ভারতে এখন সমকামীর সংখ্যা আনুপাতিক হারে আগের চেয়ে বেশি হবে কারণ কিছু লোক সমকামিতাকে বিকৃত লালসা চরিতার্থ করার কাজ হিসেবেই ব্যবহার করে।এমনও সমকামী মানসিকতা সম্পন্ন লোককে দেখেছি যে, মা বাবা বিয়ে করিয়ে দিয়েছে আর এখন স্ত্রী – সন্তান নিয়ে খুব ভালভাবে সংসার করছে।

সমকামীতাকে তাই চোখ বন্ধ করে জন্মগত বৈশিষ্ট্য বলে চালিয়ে দেয়া ঠিক হবে না ।বরং শৈশব থেকে শেখা বা অর্জিত বৈশিষ্ট্য থেকেও যে কেউ সমকামী হতে পারে । একটি শিশুর মধ্যেও সমকামিতা বিকাশ লাভ করতে পারে যদি সে শিশুবয়সে সমবয়সী বা প্রাপ্তবয়স্ক কোন ব্যক্তির সঙ্গে সমকামের অভিজ্ঞতা লাভ করে।কিংবা অস্বাভাবিক পরিবার ও পরিবেশে বেড়ে ওঠে যেমন-পিতা মাতার মধ্যে খারাপ সম্পর্ক, নির্দয় পিতামাতা, একই লিঙ্গের অভিভাবকের সঙ্গে সন্তানের অতিরিক্ত নিকট সম্পর্ক,সমকামী অভিভাবক,সমকামী ভাইবোন,ধর্মীয় অনুশাসনের অভাব, পিতামাতার মধ্যে অগতানুগতিক যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা ,অধিকারবাদ থেকে সমকামিতাকে রীতিসিদ্ধ বা আইনসঙ্গত বলে মনে করা,অস্বাভাবিক যৌন অভিজ্ঞতা, অতিরিক্ত হস্তমৈথুন,সমকামী পর্ণোগ্রাফিক ম্যাটেরিয়াল,উভকামী বা সমকামী বন্ধুর সঙ্গে সখ্যতা, সুস্থ ও বৈজ্ঞানিক যৌনবিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞতা,অতিরক্ষণশীল মুসলিম সমাজব্যবস্থা (বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে বন্ধুত্ব বা সখ্যতায় বাধানিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা), অতি উদার পশ্চিমা সমাজব্যবস্থা (যা খুশী তাই করার প্রবণতা)।

সমকামিতা আইনসিদ্ধ ছিলোনা পৃথিবীতে এবং হওয়াও উচিত নয় বলেই আমি মনে করি কেননা মানবাধিকারের চেয়েও বড় জীবনমরণের প্রশ্ন। জীবনটাই যদি না থাকলো,তাহলে মানবতাবাদ, নারীবাদ, এই-বাদ, ঐ-বাদ কোনকিছুরই অর্থ থাকেনা । তাই আমি সবকিছুতেই মানবাধিকার এর পক্ষে বা মানবতাবাদী যদি না সেটি ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত,মানসিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষতির কারণ হয়। সমকামিতাকে যদি মানবাধিকারের মোড়কে ছাড়পত্র দিতে হয়, তবে ধূমপান, এলকোহল সেবন, ড্রাগ নেওয়া –সকল কিছুকেই মানবাধিকার বা ব্যক্তি স্বাধীনতার জের টেনে ছাড়পত্র দিতে হয়।যেহেতু এই সকল কিছুই স্বাস্থ্যগত,মানসিক,সামাজিক ও সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় ক্ষতির কারণ সেহেতু কোনটিকেই ছাড়পত্র দেওয়া যাবেনা ।মানবাধিকার বা মানবতার নামে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে সেই সকল বিষয়কে – যেগুলোতে ক্ষতির কারণ নেই – যেমন মতপ্রকাশের অধিকার, নারীবাদ ইত্যাদি । মানবাধিকার মানে যা ইচ্ছে তাই করা নয়।সামগ্রিক মঙ্গলের জন্য কিছু কিছু বিষয়ে হালকা রেস্ট্রিকশন,মডারেশন থাকতে হয়।

শারীরিক ক্ষতিসাধনে সমকামীদের যৌনসঙ্গম সরাসরি ভূমিকা পালন করে। সমকামিতা আন্ত্রিক জীবাণুর মাধ্যমে রোগ সৃষ্টি করতে খুবই সহায়ক । সমকামিতা নিয়ে এই যে এতো হৈহুল্লোড়,মানবাধিকার বলে চিল্লাচিল্লি কিন্তু একটি অবাক করার মতো বিষয় হলো লেসবিয়ানদের বিশাল অংশ উভকামী।অস্ট্রেলিয়ায় এক রিসার্চে দেখা গেছে এটি প্রায় ৯৩ %।তাই প্রকৃত লেসবিয়ান কারা তা নিরূপণ দুরূহ । শুধু তাই নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই উভকামী লেসবিয়ান জনগোষ্ঠীর অনেক পুরুষ সঙ্গী রয়েছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে ।

সমকামীরা যেসব মরণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয় অতি সহজেই তা হলোঃ মরণব্যাধি এইচআইভি এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়া,ভাইরাল হেপাটাইটিস টাইপ বি ও সি, অ্যানাল ক্যান্সার, পাইলস,অ্যানাল ফিশার ,অ্যানোরেকটাল ট্রমা,ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিসসহ নানাবিধ রোগ। মরণব্যাধির পাশাপাশি সমকামীরা অতিমাত্রায় ধূমপান, ইন্ট্রাভেনাস ড্রাগ এবিউজ, এলকোহল এবিউজ এর শিকার হয়।এছাড়াও সমকামীদের মধ্যে বিভিন্ন মানসিক রোগ – ডিপ্রেশন, আত্মহত্যার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, পুরুষ সমকামীদের মধ্যে মেজর ডিপ্রেশন, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, প্যানিক ডিজঅর্ডার,অ্যাগোরাফোবিয়া এবং অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডারের ঘটনা বিষমকামীদের তুলনায় অত্যাধিক বেশি। নারী সমকামীদের মধ্যে মেজর ডিপ্রেশন, সোশ্যাল ফোবিয়া এবং অ্যালকোহল এবিউজের ঘটনাও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।শারীরিক ও মানসিক সমস্যা সমকামীদের মধ্যে প্রকট, তারই আরেক ফলাফল তাদের স্বল্পায়ু জীবন।

এইডসের অন্যতম প্রধান রিস্ক ফ্যাক্টর সেচ্ছাচারী সমকামী যৌনসম্পর্ক । ২০০৬ সালের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ও প্রিভেনশনের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, আমেরিকার জনসংখ্যার ২% সমকামী এবং ৫৩% নতুন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিরা সমকামী, ২০০৩ সালে এই হার ছিলো ৬৩% । ১৯৯৮ সালের রিপোর্টে দেখা যায়, ৫৪% নতুন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিরাই সমকামী এবং এদের ৯০%ই সমকামী যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে এইডস আক্রান্ত হয়েছে।রয়টার্সের সেপ্টেম্বর ২০১০ রিপোর্টে দেখা যায়, প্রতি ৫ জন সমকামী ও উভকামী ব্যক্তির ১ জন এইডস আক্রান্ত এবং ৫০% জনসংখ্যা জানেই না যে তারা এইডস আক্রান্ত ।এছাড়াও আমস্টারডামভিত্তিক একটি স্টাডি থেকে জানা যায় – নতুন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিদের ৮৬% সমকামী । কানাডার পাবলিক হেলথ এজেন্সির সূত্রমতে – এইডস আক্রান্তদের ৭৬.১% সমকামী এবং নতুন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিদের ৪৫% সমকামী ।
নারী সমকামীদের মধ্যে ব্রেস্ট ও সারভাইক্যাল ক্যান্সারের পরিমাণও বেশি ।

সঠিক বিহ্যাভেরিয়াল থেরাপির মাধ্যমে সমকামীদের বিষমকামী জীবনে অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ডঃ স্পিৎজারের গবেষণায় দেখা গেছে – বিহ্যাভেরিয়াল থেরাপির ৫ বছর পর এক্স-সমকামীদের ৬৪% পুরুষ এবং ৪৩% নারী নিজেদের সমকামী নয় বরং বিষমকামী বলে মনে করেন। উল্লেখ্য, ডঃ স্পিৎজার আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশনের টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ছিলেন যেই সংস্থা ১৯৭৩ সালে সমকামিতাকে মানসিক রোগের তালিকা থেকে বাদ দেয় ।বিভিন্ন স্টাডি থেকে দেখা যায় – সমকামীদের বিহ্যাভেরিয়াল থেরাপি প্রদানের মাধ্যমে ১/৩ অংশ সমকামিতা বর্জন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছে, ১/৩ অংশে মিশ্র ফলাফল এসেছে এবং ১/৩ অংশ সমকামিতা বর্জন করতে পারেনি। অর্থাৎ, সমকামীদের এই থেরাপি প্রদান করে বিষমকামী করে তোলার যে প্রচেষ্টা তা ব্যর্থ –এমনটি কখনোই বলা যাবেনা ।

সমকামিতার বৈধতায় সবসময় হুমকির মুখে পরে পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানটি,পারস্পরকির দায়িত্ববোধের জায়গাটি আস্তে আস্তে হারিয়ে যাবে।বাবা মা আত্মীয় পরিজনসহ যে সুসম পরিবেশে গ়়ড়ে উঠত শিশুরা সে বাঁধন যাবে ভেঙ্গে।এতে শিশুর মনদৈহিক বিকাশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে চরমভাবে।এখনও উন্নতবিশ্বের কাছে এই অঞ্চলের পরিবার নামক রক্ষণশীল ব্যবস্হাটি রোল মডেল।মানুষ স্বাধীনতা ভোগ করতে করতে একসময়ে গিয়ে বুঝতে পারে জীবনে পরাধীনতাও জরুরী,কিছু নিয়মনীতি,সংস্কারও জরুরী।সমকামিতা কিঞ্চিত সমলিঙ্গের মানুষের স্বাধীনতা এনে দিবে বৈকি,কিন্তু একে অন্যের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গাটি হারিয়ে যাবে।যা একটি হতাশাগ্রস্ত জাতি তৈরি করবে। বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বাড়তে থাকবে দিন দিন।পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানের ভিতরে থেকেই আমরা আজকাল বৃদ্ধ বাবা মায়ের দায়িত্ব পালন করতে পারছি না,সেখানে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক,বন্ধনহীন সমকামীদের বৃদ্ধ বয়সের করুণ পরিনতি সহজেই অনুমেয়।

অসম্পূর্ণ প্রচারের কারণে মানুষের মধ্যে এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, যেহেতু এটি মানসিক বিকৃতি নয়, সেহেতু এটি করতে দোষের কি ? অর্থাৎ, মেডিক্যাল ক্ষতির কারণগুলো বিশ্লেষণ না করেই সমকামিতা কোন মানসিক বিকৃতি নয় – এমনটি প্রচার করার মাধ্যমে সমকামিতার মত ক্ষতিকর বিষয়কেই প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে ব্যক্তিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রভূত ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। আমেরিকার সিয়াটলে করা ১৯৯৮ সালের একটি স্টাডিতে দেখা যায়, সমকামী ব্যক্তিদের এসব নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই।

বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশেই সমকামিতাকে বৈধ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এটি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে যে কোন ধরনের যৌন-সহবাস, তা স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় হোক, শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে কোনো পুরুষ, নারী বা জন্তুর সাথে প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন সহবাস করেন, সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন এবং তদুপরি অর্থদন্ডেও দন্ডিত হবেন।

মানবাধিকার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সমকামীদের মানবিক জীবন যাতে মানবেতর হয়ে না ওঠে সেদিকে আমাদের সকলেরই দৃষ্টি দেওয়া উচিত। মানবাধিকারের থেকে বড় জীবন মরণের প্রশ্ন কেননা জীবনই যদি না থাকে তাহলে মানবাধিকার সহ সকল মতাদর্শ অর্থহীন। অর্থাৎ মানবাধিকার অনেক বড় বিষয় হলেও মানবাধিকার বনাম জীবন মরণের প্রশ্নে জীবনমরণের প্রশ্নটি অগ্রাধিকার পাবে অর্থাৎ তুলনামূলক বিচারে জীবনমরণ আগে, অতঃপর মানবাধিকার। যেহেতু সমকামিতার ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত শারীরিক ও মানসিক রোগব্যাধির সৃষ্টি হয় বা সেগুলোর মাত্রা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়, সেহেতু জীবন বাঁচাতে সমকামিতাকে না বলা শিখতে হবে আমাদের, কিন্তু তাই বলে মৃত্যুদণ্ড অথবা অন্যান্য শাস্তি একেবারেই অসমর্থনযোগ্য পন্থা।

আসুন সমকামিতাকে না বলে বিষমকামী জীবনাচরণে অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করি, তবে সমকামীদের প্রতি সহিংস আচরণ করা বন্ধ করারও শপথ সাথে সাথে নেই । সমকামীদের প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি থাকা উচিত, তাদের প্রতি সহমর্মী হওয়া উচিত, তাদের প্রতি আক্রমণ নয়, নির্যাতন নয়, বিদ্বেষ নয়, মৃত্যুদণ্ড নয় বরং বন্ধুর মত আচরণ করে এবং সঠিক বিহ্যাভেরিয়াল থেরাপির মাধ্যমে তাদেরকে বিষমকামী জীবনধারায় অনুপ্রাণিত এবং উৎসাহিত করাই আমাদের সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত। আমাদের দায়িত্ব তাদের বোঝানো যে,তারা রঙধনুর রঙে জীবন সাজাতে গিয়ে তারা একসময় জীবন থেকে সকল রঙই চিরতরে হারিয়ে ফেলে।

পরিশেষে বলতে চাই,ভারতের মতো এমন একটি জনবহুল দেশে সমকামিতার বৈধতায় এইডসসহ যোনবাহিত রোগের প্রকোপ যেমন বাড়বে তার প্রভাব এসে পড়বে সীমান্তঘেঁষা বাংলাদেশে।যেদেশে ধর্মের নামে ধামান্ধতা,গোরক্ষার নামে মানুষ হত্যা এবং মানবতার চরম অবনমন দেখি সেদেশে সমকামিতার মতো একটি বিতর্কিত ইস্যু মানবাধিকারের ঝান্ডাকে কতখানি উচ্চে তুলে ধরবে সে বিষয় যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ।এই সেচ্ছাচারিতার আড়ালে সমকামীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বেড়ে যাবে যা এতো জনবহুল রাস্ট্র ভারতের পক্ষে তা সামাল দেয়া কতটা সম্ভব তা যথেষ্ট ভাবনার বিষয়। সমকামিতার বৈধতা প্রদান করে রাষ্ট্র হিসাবে ভারত সাবালক থেকে আরো সাবালক হোক,বাংলাদেশ নাবালক থেকে তার জনগণকে মরণব্যাধি রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা করুক,সমকামীদের স্বাভাবিক জীবনধারায় ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত রাখুক,তা সংখ্যায় যতই অল্প হোক।তাতেই দেশ ও দশের মঙ্গল।
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

 

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি