LalmohanNews24.Com | logo

২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৫ই জুলাই, ২০২০ ইং

কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের জীবনের শেষ মুহূর্তে যা ঘটেছিল

কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের জীবনের শেষ মুহূর্তে যা ঘটেছিল

যুক্তরাষ্ট্রে শেতাঙ্গ পুলিশের নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তোলপাড় চলছে।বিশ্বব্যাপী নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিন্দার ঝড় বইছে। এক ভিডিওতে দেখা গেছে, শেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চৌভিন মাটিয়ে লুটিয়ে থাকা ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু গেড়ে বসেছিলেন। এতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পর চৌভিনের (৪৪) বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফ্লয়েডের মৃত্যুর মূল ঘটনাটি মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই ঘটেছিল।

বিবিসি জানায়, একটি ২০ ডলারের জাল নোটকে ঘিরে ঘটনার সুত্রপাত। ২৫ মে সন্ধ্যায় কাপ ফুডস নামের একটি মুদি দোকান থেকে এক প্যাকেট সিগারেট কিনেছিলেন। ক্রেতা জাল নোট নিয়ে জালিয়াতি করেন সন্দেহে দোকানের কর্মচারী
পুলিশকে খবর দেন।

টেক্সাসের হিউস্টনের বাসিন্দা ফ্লয়েড। তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে মিনিয়াপোলিসে বসবাস করেছিলেন। ফ্লয়েড শহরের একটি নৈশক্লাবের নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে আমেরিকার কয়েক লাখ মানুষের মতো তিনিও বেকার হয়ে পড়েছিলেন।

ওই দোকানের মালিক মাইক আবুমায়্যালেহ এনবিসিকে বলেন, ‘ফ্লয়েড কাপ ফুডসে নিয়মিত আসতেন। তিনি ছিলেন বন্ধুত্বপূর্ণ চেহারার মানুষ এবং মনোরম একজন গ্রাহক। তিনি কখনও কোনও ঝামেলা করেননি।’ কিন্তু ঘটনার দিন আবুমায়্যালেহ দোকানে আসেননি।

কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নথি অনুসারে, ওই কর্মচারী রাত ৮টা এক মিনিটে ৯১১ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। ওই কর্মচারী লোকটিকে ‘মাতাল’ এবং ‘নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করত পারছিলেন না’ বলে জানান।

৮টা ৮ মিনিটের দিকে দুই পুলিশ অফিসার হাজির হন। ফ্লয়েড দুজন লোকের সঙ্গে কোনে পার্ক করা একটি গাড়িতে বসে ছিলেন। অফিসারদের একজন টমাস লেন তার বন্দুক তাক করে ফ্লয়েডকে তার হাত তোলার নির্দেশ দেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা ফ্লয়েডকে তাদের স্কোয়াড গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তখন তাকে হাতকড়া পরানো হয়। রাত ৮টা ১৪ মিনিটের দিকে ফ্লয়েড মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখনই ঘটনাস্তলে পৌঁছান চৌভিন। তিনিও তাকে গাড়িতে তুলতে চেষ্টা করেন।

রিপোর্টে বলা হয়, ৮টা ১৯ মিনিটে চৌভিন ফ্লয়েডকে নিয়ে টানাটানি করতে গিয়ে আবার ফ্লয়েড মাটিতে পড়ে যান। এরপর তার ওপর ঝাপিয়ে পড়েন চৌভিন। শুরু হয় হত্যার চিত্রায়ন, যা বহু পথচারীর মোবাইলে ধারণ হয়েছে।

তিনি তার বাম হাঁটুকে ফ্লয়েডের মাথা ও ঘাড় চেপে ধরেছিলেন। ফ্লয়েড ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না’, ‘আমাকে হত্যা করবেন না’ বলে অনুনয় বিনয় করছিলেন। তিনি বারবার তার মায়ের কাছে যাওয়ার আর্তি জানাচ্ছিলেন।

রিপোর্টে বলা হয়, আট মিনিট ৪৬ সেকেন্ড এভাবে ফ্লয়েডের ঘোড়ে হাঁটু চেয়ে রেখেছিলেন চৌভিন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে হেনেপিন কাউন্টি মেডিকেল সেন্টারে নেয়া হলে এক ঘন্টা পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি