LalmohanNews24.Com | logo

৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কাঁকড়া চাষে স্বাবলম্বী ওরা!

বিজ্ঞাপন

কাঁকড়া চাষে স্বাবলম্বী ওরা!

জলবায়ু পরিবর্তনে ভোলার চরাঞ্চলে লবনাক্ততা বাড়ার কারণে ঢালচর, চরপাতিলাসহ বেশ ক’ টি চরে ফসল উৎপাদন করতে পারেনি কৃষকরা, তবে এ সময় বিকল্প চাষ হিসাবে কাকঁড়া চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষকরা। এটি মাছ ও ধানের চেয়ে বেশি লাভজনক হওয়ায় কাঁকড়াচাষীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। এরই মধ্যে জেলার ৩টি চরে চার’শ কাকঁড়া খামারের চাষীরা গড়ে ১ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগে প্রায় ৮ লাখ টাকা লাভ করছে। এতে এসব খামারে বেকারত্ব দূর হওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে কাকঁড়া। চরফ্যাসন উপজেলার দক্ষিণে চর পাতিলা, চর মন্তাজ, চর কচ্ছপিয়া, চর দাতভাঙা, কালকিনি, মানিকা, নিজাম, ঢালচর, কুকরি-মুকররিসহ ম্যানগ্রোভ বন জুড়ে আছে সহস্রাধিক ছোট-বড় খাল।

প্রাকৃতিক ভাবেই এসব খালে বেড়ে উঠছে বিপুল সংখ্যক কাঁকড়া। এসব কাঁকড়াকে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে কাঁকড়ার লাভজনক ব্যবসা। চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার প্রায় ১০ হাজার জেলের আয়ের উৎস কাঁকড়ার সাথে জড়িত। দিন দিন এ সংখ্যা আরো বাড়ছে। সরেজমিনে কাঁঁকড়া চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কম খরচ ও স্বল্প পরিশ্রমে অধিক লাভজনক হওয়ায় অনেকেই কাঁকড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত কাঁকড়া শিকার করে অনেকেই ভালো আছেন বর্তমানে। নদী-খালে কখনো কখনো বড় সাইজের কাঁকড়া ধরা পড়ে। যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যায়।

এছাড়া চাষের কাঁকড়ার বেশ কদর রয়েছে বাজারগুলোতে। এসব কাঁকড়ার খাদ্যের মধ্যে রয়েছে শুটকি, কুইচ্ছা কুচিলা, চেওয়া মাছ, চিংড়িগুড়া, আলুপা। রোগ-বালাইও সাধারনত হয়না। খাল ও পুকুরে নেট দিয়ে আটকিয়ে কাঁকড়ার হ্যাচারিগুলো তৈরি করা হয়। চর কুকরী-মুকরী এলাকার কাঁঁকড়া চাষী মো: জয়নাল অাবেদিন জসিম জানান, তিনি ২০১৬ সালে এফডিবি সংস্থার সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমে পুকুরে নেটজাল দিয়ে কাঁঁকড়া শুরু করেন, মাএ কয়েক মাস পর তিনি কাঁঁকড়া বিক্রি করে পুজির চেয়ে কয়েকগুণ টাকা আয় করেন, তখন থেকেই তিনি কাঁঁকড়া চাষকে প্রধান পেশা হিসেবে নিয়েছেন।

মো: জয়নাল অাবেদিন জসিমের মতো একই এলাকার জামাল, কবির, কালাম, সাইফুল, রায়হান, সেলিম, সালামসহ শতাধিক চাষী কাঁঁকড়া চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের দেখাদেখি অনেকে এখন এ পেশায় ঝুকে পড়ছেন। একই এলাকার কাঁঁকড়া শিকারি মন্জু বলেন, আষাঢ, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন এ চার মাস অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি কাঁঁকড়া পাওয়া যায়। কখন দামও একটু কম থাকে। বর্তমানে কাঁঁকড়া কম পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। শিকারির সংখ্যাও বেড়েছে অনেক। প্রতিদিন যে কাকড়া পাই তা বিক্রি করে সংসার খুব ভালো চলছে। জানা যায়, চাষ ও শিকার করা কাঁকড়া বিক্রি হয় স্থানীয় আড়তে। ১০০ গ্রাম ওজনের নিচে প্রতি পিস কাঁকড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা হারে প্রতি কেজি বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। গ্রেড সাইজ হলো ২০০ গ্রাম (গর্দা) এর ওপরে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা, ৩০০ গ্রামে ওজনের প্রতিকেজি ৭৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম (গর্দা) এর ওপরে প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হয়।

এসকল কাঁঁকড়া প্রতিদিন ঢাকায় চালান করা হয়। চর কচ্ছপিয়া ঘাটের কাঁঁকড়া ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, তার আড়তের অধীনে প্রায় শতাধিক কাঁঁকড়া শিকারি রয়েছে। চাষী ও শিকারিরা কাঁঁকড়াএনে তারা আড়তে বিক্রি করেন। তিনি প্রতিদিন ঢাকা মোকামের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাঁঁকড়া কিনেন। এসকল কাঁকড়া প্রতিদিন লঞ্চযোগে ঢাকা পাঠান।সেখান থেকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বেও ১৮ দেশে এ কাঁঁকড়া রফতানি করা হচ্ছে ।

চরফ্যাশন উপজেলার মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান জানান, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে কাঁঁকড়া চাষ করে অনেক চাষী সফল হয়েছেন। কাকড়া চাষের উপর সরকারিভাবে প্রকল্প করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে চাষীদেরও উন্নত প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম জানান, কাঁকড়া চাষিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ হিসাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। গত বছর চরফ্যশনে ১৬টি ও মনপুরায় ১৪টি মিলিয়ে মোট ৩১টি কাঁকড়ার খামারের প্রদর্শণীর ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। সরকারের পক্ষ থেকে কাঁকড়া চাষিদেরকে খাঁচা, নেটসহ বিভিন্ন উপকরন সহয়তাসহ সব ধরনের পরামর্শমূলক সেবা দেওয়া হয়।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি