LalmohanNews24.Com | logo

১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

এ এক অন্যরকম শবে বরাত

এ এক অন্যরকম শবে বরাত

পবিত্র শবে বরাত। বিশ্বের অন্য মুসলিম দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের সঙ্গে প্রতি বছর এ দিনটি পালিত হয়। কত আয়োজন থাকে সর্বত্র। মসজিদে মসজিদে নানা প্রস্তুতি। কিন্তু এবার এক অন্যরকম শবে বরাত পালন হলো। ঢাকার কোনো মসজিদে ছিল না কোনো মাইকের শব্দ। ছিল না ওয়াজ মাহফিল। মানুষের আনাগোনাও ছিল না মসজিদগুলোতে। বলা চলে নিঃশব্দে কেটে গেছে পবিত্র লাইলাতুল বরাত। বাসায় বাসায় হালুয়া রুটির আয়োজনও ছিল না। কোনো আতশবাজির শব্দও শোনা যায়নি।

কারণটা সবার জানা। এক ভয়ঙ্কর রূপধারী ভাইরাস যার নাম নভেল করোনা (কোভিড-১৯)। এই ভাইরাসই সব লন্ডভন্ড করে দিয়েছে।

প্রতি বছর শবে বরাত এলেই দেশব্যাপি মসজিদগুলোতে  মুসল্লীদের আনাঘোনা। মুসলিম উম্মাহর কাছে দিনটি বিশেষ হওয়ায় বছরের অন্য দিনগুলোর চেয়ে শবে বরাতের রাতে মসজিদগুলোতে মুসল্লীদের ভিড় লেগে থাকে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজেই প্রতিদিনের তুলনায় কয়েক কাতার বেশি মানুষ নামাজ পড়তে আসেন মসজিদে। বিশেষ করে আসরের পর থেকেই মুসল্লীরা ভিড় শুরু করেন। যার যার বিশেষ ইবাদত বন্দেগীর ব্যস্ততার চিত্র থাকে চোখে পড়ার মতো। আর সন্ধ্যা হলে তো কথাই নেই। মসজিদগুলোতে তিল ধারণে ঠাঁই থাকে না।

কে কার আগে জায়গা নিয়ে স্ব স্ব মসজিদের ইমামের ওয়াজ শুনবেন তা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সন্ধ্যায় শুরু হয় ওয়াজ-মাহফিল শেষ হয় রাত বারোটার দিকে। এরপর সারারাত মসজিদেই  নামাজ আদায়ে ব্যস্ত থাকেন মুসল্লীরা। তাছাড়া শবে বরাতকে সামনে রেখে মসজিদগুলোর ফটকে গরীব মিসকিনদের অবস্থান নেয়ার চিত্রটাও নজর এড়ায় না। সারারাত ইবাদত শেষে মুসল্লীরা বাড়ি ফেরার পথে ২-৫টাকা দেবেন এমন আশায় তাদের রাতটাই কাটে মসজিদের ফটকে।

কিন্তু এক করোনা ভাইরাস সব দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। সরকারিভাবে নির্দেশনার কারণে কোনো আয়োজন ছিল না মসজিদগুলোতে। দুই একটি মসজিদের ভেতরে ইমাম মুয়াজ্জিনসহ গোটা  পাঁচেক মানুষ ছোট্ট পরিসরে মাহফিলের আয়োজন করতে দেখা গেলেও রাতভর ইবাদতের কোনো ব্যবস্থা রাখেনি মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

গতকাল সন্ধ্যায় কয়েকটি মসজিদ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ঢাকার বেশিরভাগ মসজিদই ছিল নীরব।  লক্ষণীয় বিষয় ছিল, জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকারমেই ছিল এক অন্যরকম দৃৃশ্য। প্রতিবছর শবে বরাতের সন্ধ্যার আগেই ভিড় জমে  এখানে। কিন্তু গতকাল এশার পরপরই মসজিদের ফটতে তালা ঝুলতে দেখা যায়। এ চিত্র রাজধানীর অন্য বড় বড় মসজিদগুলোতেও ছিল। এশার নামাজের পরই তালা ঝোলার পাশাপাশি অন্ধকার নেমে আসে মসজিদের চারপাশের রাস্তায়।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ৬ই এপ্রিল দেশব্যাপি মসজিদে নামাজ আদায়ে বিধি নিষেধ আরোপ করে সরকার।  এতে বলা হয় ওয়াক্তের নামাজে ইমামসহ ৫জন জামাতে অংশ নিতে পারবেন। আর জুমার নামাজে সর্বোচ্চ ১০জন। একই সঙ্গে গতকাল অনুষ্ঠিত শবে বরাতের ইবাদতও ঘরে করার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশ (ইফা)।

সংস্থাটি থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংকটকালীন এমন পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া করোনাভাইরাস সম্পর্কিত দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত নির্দেশনা মেনে ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে নিজ নিজ বাসস্থানে বসে পবিত্র শবে বরাতের ইবাদত যথাযথ মর্যাদায় আদায় করার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সূত্র: মানবজমিন

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি