LalmohanNews24.Com | logo

২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং

এনজিওর প্রতারণা

এনজিওর প্রতারণা

নুরুল আমিন: এনজিওর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময় সহজ সরল হতদরিদ্র মানুষকে লোভে ফেলে ভুয়া এনজিওর নামে প্রতারকচক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। মানুষ ঠকানোর ধান্দায় লিপ্ত ভুয়া এনজিওর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া একান্ত জরুরি।

যে কোন এলাকায় কোন এনজিও কার্যক্রম শুরু করার পূর্বে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু প্রতারকচক্র এসব নিয়মনীতির ধার ধারে না। তারা অচেনা কোন স্থানে গিয়ে ঘর ভাড়া করে সেখানে সরকার অনুমোদিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এনজিওর নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার কথা বলে সমিতি করে সদস্য প্রতি মোটা অঙ্কের টাকা জমা নিয়ে রাতারাতি উধাও হয়ে যায়। অনেকে চাকরি দেয়ার নামে শিক্ষা বা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এনজিওর মাধ্যমে চালু করার নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে উধাও হয়ে যায়। এনজিও প্রতিষ্ঠানের নামে অহরহ এধরণের প্রতারণা চললেও তা বন্ধ করার উদ্যোগ না থাকা উদ্বেগজনক।

আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষগুলো খুব সহজ সরল এবং তাদের লেখাপড়া তেমন নেই। অশিক্ষিত বা কম শিক্ষিত হলেও সরকারের প্রতি তাদের বিশ্বাস প্রবণতা আছে। অপরদিকে অল্পতে বেশি পাওয়ার লোভ তাদের আছে। সরকার অনুমোদিত কথাটি শুনলে তারা বিশ্বাস করে এবং প্রলোভনে পড়ে সর্বস্ব হারায়। এনজিও প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন আছে কিবা নেই তা খতিয়ে দেখার সুযোগ গ্রামের মানুষের হয়ে ওঠে না। তারা শুধু বিশ্বাস করে ঠকে।

গ্রামের হতদরিদ্র সরল বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীকে বাঁচাতে সরকার কিছু নীতিমালা চালু করা উচিত। যেমন সকল এনজিও প্রতিষ্ঠান একটি অধিদপ্তরের আওতায় থাকবে এবং সরকারি বিধিবিধান মেনে চলবে। যেখান থেকে লাইসেন্স করুক, তাদের সব ফাইল বা ডকুমেন্ট এ অধিদপ্তরে থাকতে হবে। অনুমোদন নেয়ার সময় কিংবা মাঠ পর্যায়ে এসে কাজ শুরু করার পূর্বে তাদের কাজের লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ টাকা সরকারের ফান্ডে জামানত রাখতে হবে। সেই সঙ্গে মালিক পক্ষের ছবিসহ পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি দিতে হবে। কর্ম এলাকার সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে। কর্ম এলাকার প্রশাসনের কাছে সরকারি ফাণ্ডে জামানতের প্রমাণ ও ছবিসহ পূর্ণাঙ্গ বৃত্তান্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

কর্ম এলাকার ব্যাংক একাউন্টে জামানত রেখে কাজ শুরু করার অনুমতি নিতে হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ব্যতীত তারা এ টাকা তুলতে পারবে না। ঋণ দেয়ার নামে বা ঋণ দেয়ার আগে সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয় জমা নেয়া বা এককালীন টাকা জমা নেয়া নিষিদ্ধ করতে হবে। বিশ-তিরিশ টাকা জমার বিপরীতে সদস্যের ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে আর এনজিওর নামে ধোকাবাজি করে হতদরিদ্র মানুষের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। এনজিওর প্রধান কর্মকর্তাসহ মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করবে তাদের পূর্ণাঙ্গ বৃত্তান্ত প্রশাসনিকভাবে নেয়া একান্ত উচিত। তাছাড়া জনস্বার্থে সরকারের অন্যান্য নীতিমালা এসব নিয়মের পাশাপাশি থাকবে।

কোন এলাকায় নতুন কোন এনজিও এলে তাদের সঙ্গে সমিতি করে অর্থ লেনদেন করার আগে অবশ্যই প্রশাসনকে জানাতে হবে। তাতে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এনজিওর নামে প্রতারণায় দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। ভুয়া এনজিওর কারণে ভাল এনজিও প্রতিষ্ঠানের দুর্নাম হয়। তাই ভুয়াদের প্রতিরোধে তারা এগিয়ে আসা উচিত। যারা সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে, প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয় ; তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। এসব অপরাধীর বিচার ও শাস্তি একান্তভাবে কাম্য। সরকারি উদ্যোগে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের সচেনতা বাড়াতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। নিরিহ ভুক্তভোগী অসহায় মানুষের হয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যবস্থা নিলে এধরনের অপরাধ দমন সম্ভব। নাম সর্বস্ব এনজিওর প্রতারণার বিরুদ্ধে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নেবে আশা করি।

লেখক : নুরুল আমিন, সাংবাদিক, কলামিস্ট, কবি ও প্রাবন্ধিক, লালমোহন, ভোলা। nurulamin911@gmail.com, 01759648626.

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি