LalmohanNews24.Com | logo

১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১লা জুন, ২০২০ ইং

একদিকে নিষেধাজ্ঞা অন্যদিকে করোনা: জেলেদের জীবন চালানো দায়

মোঃ জসিম জনি মোঃ জসিম জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

প্রকাশিত : এপ্রিল ০৪, ২০২০, ১৮:১৩

একদিকে নিষেধাজ্ঞা অন্যদিকে করোনা: জেলেদের জীবন চালানো দায়

একদিকে নদীতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের প্রভাব। এতে জেলে পল্লীতে বিরাজ করছে হাহাকার। ঘরে ভাত নেই, বাধ্য হয়ে জেলেরা জীবিকার তাগিদে বাইরে বেরুচ্ছেন। নদীতে নামতে না পারলেও এই সময়ে অন্যের কাজ করে দৈনিক মুজুরিতে সংসার চালান। করোনা ভাইরাসের কারণে ঘরে বসে থাকা চলে না তাদের। এমন অবস্থা ভোলার লালমোহনের মেঘনা ও তেঁতুলিয়ার জেলে পল্লীতে। উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৫ হাজার ৩০০ বলে জানান সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস। তবে সব জেলে সরকারী সহযোগিতা পান না।

জেলেরা জানান, মার্চ এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরা নিষেধ রয়েছে। এই সময় জেলেদের চার মাস ভিজিএফের চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু মার্চ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত জেলেদের কোন চাল দেওয়া হয়নি। পায়নি করোনা ভাইরাসের কোন ত্রাণ। এমন অবস্থায় জেলেদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের চেয়ে তাদের কাছে তিনবেলা খাবার খেয়ে জীবন বাঁচানোটাই এখন দায় হয়ে পড়েছে। তাই পেটের দায়ে জেলেদের কেউ কেউ নদীতে মাছ ধরতে নামছেন, কেউ বা আবার অন্যের কাজ করছেন দৈনিক মুজরীতে। এতে করে পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের সংসার চলে।

সরেজমিনকালে লালমোহন ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পাড় কামারের খাল জেলে পল্লীতে গিয়ে জানা যায়, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনসমাগম ও চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে কর্মজীবী মানুষ। বিশেষ করে কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপকূলীয় জেলেপল্লীর জেলেরা। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সবমিলিয়ে গত কয়েক দিনে তাদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ।

জেলে রিয়াজ মাঝি মেঘনা পাড়ের বেড়ি বাঁধে বসবাস করেন। তিনি জানান, পরিবারে ৭ সদস্য। নিষেধাজ্ঞার কারণে নদীতে নামছেন না। করোনা ভাইরানের কারণে ঘর থেকেও বের হতে মানা করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কি সংসার চলবে। বাধ্য হয়ে অন্যের জাল বুনে দৈনিক ৩৫০ টাকা পান। তা দিয়ে সংসার চলে। নুরুদ্দীন নামে আরেকজন জেলে জানান, আমরা ঘর থেকে বের না হলে খাব কি, আমাদের জেলে কার্ডের চালও দেওয়া হয়নি এবং কোন ত্রাণও আমরা পাইনি।

লালমোহন ধলীগৌরনগর ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েতুল ইসলাম মিন্টু জানান, মেঘনা কুলবর্তী এলাকায় মোট ৪ হাজার ৩শত জেলে রয়েছে। কিন্তু চাল বরাদ্দ হয়েছে ২ হাজার ৬৩ জনের জন্য। করোনার কারণে চাল দেওয়া বিলম্ব হয়েছে। তবে বুধ অথবা বৃহস্পতিবার দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল হাসান রুমি জানান, আমি প্রত্যেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের বলে দিয়েছি দু’একদিনের মধ্যে চাল দেওয়ার জন্য।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি