LalmohanNews24.Com | logo

৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং

ঋতুকালীন সময় গ্রাম থেকে বের করে দেয়া হয় নারীদের!

ঋতুকালীন সময় গ্রাম থেকে বের করে দেয়া হয় নারীদের!

প্রাকৃতিক নিয়মেই নারী ঋতুবতী হয়। তবে তা কেনই অপবিত্র হিসাবে ধরা হবে? জানেন কি? এক গ্রামের মহিলাদের পিরিয়ডস হলে পাঠিয়ে দেয়া হয় গ্রামের প্রান্তে জঙ্গলের ধারে জীর্ণ ‘গাউকোর’ বা ঋতুকালীন ঘরে। এটাই গোন্ড ও মারিয়া উপজাতির রীতি। না মানলে সমাজচ্যুত হতে হবে মহিলার পরিবারকে। ঋতুর প্রথম চার দিন নারীকে ‘অপবিত্র’ মনে করেন এই উপজাতির মানুষ।

সেই সময়ে কোনো মহিলার গ্রামে স্থান নেই। গ্রামের পুকুরও তিনি ব্যবহার করতে পারবেননা। তার সঙ্গে কথাও বলবেন না কেউ। ঠাঁই হবে গ্রাম থেকে দূরে গাউকোরে। সেসব ঘর প্রায় ভগ্নস্তূপ। জানলাহীন, দরজার কপাট নেই। গাছের পাতা, ছেঁড়া কাপড় দিয়ে কোনও রকমে আড়াল করা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করতে হয়।

২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের গড়ছিরৌলি জেলার এটাপল্লিটোলা গ্রামে এই রকমই এক গাউকোরে পড়ে ছিল এক মহিলার মৃত দেহ। জ্বরে রক্তচাপ বেড়ে মস্তিষ্কের ধমনী ফেটে গিয়েছিল তার। যখন অসুস্থ বোধ করছিলেন, ধারেকাছে কেউ ছিল না। এরও বছর খানেক আগে ঘোর বর্ষার মধ্যে মহারাষ্ট্রের ভমরাগড় জেলায় গাউকোরে ছিল বছর তেরোর এক কিশোরী। প্রবল রক্তপাত হচ্ছিল তার। নিস্তেজ হতে-হতে ক্রমে থেমে যায় হৃদ্‌স্পন্দন।

২০১৫ সালের নভেম্বরে পাদাটোলার এক ভাঙাচোরা গাউকোর থেকে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায় ভাল্লুক! সাপের কামড়ে, নড়বড়ে দেয়াল ধসে পড়ে, ফাটা চালের উপর গাছ ভেঙে পড়েও গাউকোরে মারা গিয়েছেন মহিলারা। ২০১১ সালে মহারাষ্ট্রের উপজাতি-অধ্যুষিত গড়ছিরৌলি জেলার ২২৩টি গাউকোরের অবস্থা ঘুরে দেখে একটি রিপোর্ট তৈরি করে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। গাউকোরগুলির নরকতুল্য অবস্থা তখনই সামনে আসে। ২০১১ থেকে ২০১৩-র মধ্যে ওই জেলায় তারা বিভিন্ন গাউকোরে ১৫ জন বিভিন্ন বয়সের নারীর মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করেছিল।

ঋতুকালীন সময়ে মহিলারা ‘অপবিত্র’এই ধারণা থেকেই কেরলের শবরীমালা মন্দিরে নির্দিষ্ট বয়সের মেয়েদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও নারীর কাছে সেই মন্দিরের পথ সুগম হয়নি। ভারতে ঋতুকালীন সময়ে অযৌক্তিক নানা নিয়মকে কেন্দ্র করে তৈরি তথ্যচিত্র ‘পিরিয়ড. এন্ড অব সেনটেন্স’ সম্প্রতি অস্কার পেয়েছে। তার পরেও প্রান্তবাসী জনজাতির মেয়েদের মাসের এই কয়েকটা দিনে আরও প্রান্তবাসী করে দেওয়ার ঐতিহ্য অটুট। অভিযোগ, এ নিয়ে প্রশাসনও চুপ।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি