LalmohanNews24.Com | logo

১১ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ই-পাসপোর্টের আবেদন করবেন কিভাবে, ফি কত জেনে নিন

ই-পাসপোর্টের আবেদন করবেন কিভাবে, ফি কত জেনে নিন

গত বছরের ২২ জানুয়ারি বহুল প্রতীক্ষিত ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্টের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) জন্য অনলাইনে এবং সরাসরি আবেদন করা গেলেও ই-পাসপোর্টের আবেদন করা যাবে শুধুমাত্র অনলাইনেই।

ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে গ্রাহককে www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে লগ ইন করে ডিরেক্টলি টু অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনে (Directly to online application) অপশনে ক্লিক করতে হবে।

প্রথম ধাপে বর্তমান ঠিকানার জেলা শহরের নাম ও থানার নাম নির্বাচন করতে হবে। পরের ধাপে ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত ই-পাসপোর্টের মূল ফরমটি পূরণ করে সাবমিট করতে হবে।

তৃতীয় ধাপে মেয়াদ ও পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা অনুযায়ী ফি জমা দিতে হবে। তবে বর্তমানে ই-পাসপোর্টের অনলাইন পেমেন্ট বন্ধ রয়েছে। আবেদনপত্র জমা দিয়ে অ্যাপোয়েনমেন্ট ডেটের আগে অফলাইনে অর্থাৎ সরাসরি নির্ধারিত ব্যাংকে গিয়ে ই-পাসপোর্টের ফি জমা দিতে হবে। ফি জমা দেওয়ার নির্ধারিত ব্যাংকগুলো হলো- ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও ঢাকা ব্যাংক।

ই-পাসপোর্ট

৫ বছর মেয়াদের ৪৮ পাতার ই-পাসপোর্ট ‘রেগুলার ডেলিভারি’ ক্যাটাগরিতে ১৫ কার্যদিবসের পেতে ৪ হাজার ২৫ টাকা, ‘এক্সপ্রেস ডেলিভারি’তে ৭ কার্যদিবসে পেতে ৬ হাজার ৩২৫ টাকা এবং ‘সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি’তে ২ কার্যদিবসের মধ্যে পেতে ৮ হাজার ৬২৫ টাকা জমা দিতে হবে।

১০ বছর মেয়াদের ৪৮ পাতার ই-পাসপোর্ট ‘রেগুলার ডেলিভারি’ ক্যাটাগরিতে ১৫ কার্যদিবসের পেতে ৫ হাজার ৭৫০ টাকা, ‘এক্সপ্রেস ডেলিভারি’তে ৭ কার্যদিবসে পেতে ৮ হাজার ৫০ টাকা এবং ‘সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি’তে ২ কার্যদিবসের মধ্যে পেতে ১০ হাজার ৩৫০ টাকা জমা দিতে হবে।

৫ বছর মেয়াদের ৬৪ পাতার ই-পাসপোর্ট ‘রেগুলার ডেলিভারি’ ক্যাটাগরিতে ১৫ কার্যদিবসের পেতে ৬ হাজার ৩২৫ টাকা, ‘এক্সপ্রেস ডেলিভারি’তে ৭ কার্যদিবসে পেতে ৮ হাজার ৬২৫ টাকা এবং ‘সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি’তে ২ কার্যদিবসের মধ্যে পেতে ১২ হাজার ৭৫ টাকা জমা দিতে হবে।

১০ বছর মেয়াদের ৬৪ পাতার ই-পাসপোর্ট ‘রেগুলার ডেলিভারি’ ক্যাটাগরিতে ১৫ কার্যদিবসের পেতে ৮ হাজার ৫০ টাকা, ‘এক্সপ্রেস ডেলিভারি’তে ৭ কার্যদিবসে পেতে ১০ হাজার ৩৫০ টাকা এবং ‘সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি’তে ২ কার্যদিবসের মধ্যে পেতে ১৩ হাজার ৮০০ টাকা জমা দিতে হবে।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীরা রেগুলার ডেলিভারির জন্য আবেদন করলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারা এক্সপ্রেস ডেলিভারির সুবিধা পাবেন।

যারা দুদিনের মধ্যে অতি জরুরি পাসপোর্ট নিতে চান সেসব আবেদনকারীকে নিজ উদ্যোগে আগেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এনে পাসপোর্টের ফরমে প্রি-পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের নম্বর উল্লেখ করতে হবে। আবেদনের সময় ক্লিয়ারেন্সের কপিও জমা দিতে হবে।

এমআরপি ফি

৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদের নতুন অথবা রি-ইস্যু এমআরপি ৭ দিনে পেতে ৬ হাজার ৯০০ টাকা ও ২১ দিনে পেতে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা দিতে হবে।

এমআরপি ও ই-পাসপোর্ট উভয় ফি’র সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত রয়েছে।

নতুন ই-পাসপোর্ট করতে যা যা জমা দিতে হবে-

একজন প্রাপ্ত বয়স্কের ই-পাসপোর্ট করতে ফরম পূরণ করে সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি পরিচয়পত্রের মুল কপিও অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দেখাতে হবে।

১৮-এর কমবয়সীদের জন্য জন্ম-নিবন্ধন সার্টিফিকেট, বাবা-মায়ের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অনাপত্তিপত্র-এনওসি এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য অবসরের প্রমাণপত্র হিসেবে পেনশনের দলিল দেখাতে হবে।

ই-পাসপোর্টের সুবিধা

ই-পাসপোর্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এর মাধ্যমে ই-গেট ব্যবহার করে খুব দ্রুত ও সহজে ভ্রমণকারীরা যাতায়াত করতে পারবেন। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এর মাধ্যমেই ইমিগ্রেশন দ্রুত হয়ে যাবে। ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে সহজেই ব্যক্তি ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন। কোনো গরমিল থাকলে জ্বলে উঠবে লালবাতি। কারও বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে, সেটিও তাৎক্ষনিক জানা যাবে।

অনলাইন চেক

ই-পাসপোর্ট পোর্টালে ‘স্ট্যাটাস চেক’ করা যাবে। এজন্য জন্মতারিখ ও আবেদনের ক্রমিক সংখ্যা দিয়ে সার্চ অপশনে ক্লিক করতে হবে। অনলাইন পোর্টাল অ্যাকাউন্ট থেকে সব আবেদনের অবস্থা দেখতে পারেন।

ইন্ডিয়া চিকিৎসা/ট্যুরিস্ট ভিসার পরামর্শ, ভেলর সিএমসি হাসপাতালের এপোয়েন্টমেন্ট ও বিমান, ট্রেন টিকেট পেতে যোগাযোগ করুন—-

আর আর হেল্প লাইন

লালমোহন, ভোলা

01712740138

যে কারণে পাসপোর্টে পেতে বিলম্ব হয়:

নামের ভুল
পাসপোর্ট ইস্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত অধিদপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, অনেকেই পাসপোর্টের বিলম্বের কথা বলেন কিন্তু কারণগুলো জানার চেষ্টা করেন না। প্রথমত, পাসপোর্ট আবেদনের সময় অনেকেই ‘গিভেন নেইম ও সারনেইম’ নিয়ে গুলিয়ে ফেলেন। কারো নাম যদি ৩-৪ শব্দের মধ্যে তার নামের প্রথম অংশগুলো গিভেন নেইমে ও শেষের একশব্দ সারনেইমে দিতে হবে। তবে অনেকেই ৪ শব্দের নামে গিভেন নেইমে দুই শব্দ ও সারনেইমে ২ শব্দ দেন। একারণে পাসপোর্ট ইস্যু হয় না।

এনআইডির সঙ্গে আবেদনপত্রের নাম-ঠিকানায় অমিল
অনেক আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নামের বানানে অমিল থাকে। পাসপোর্ট করতে হলে এনআইডি জমা দিতে হয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে এনআইডির সার্ভার সংযুক্ত। যদি আবেদনপত্রের নাম ও এনআইডির নামের বানানে অমিল থাকে তাহলে ওই পাসপোর্ট আর ইস্যু হয় না। সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে এসব সমস্যার সমাধান করে আবারও আবেদন করতে হয়।

নামের সঙ্গে পদবি যুক্ত
অনেকে নামের নামের সঙ্গে বিএসসি, পিএসসি, পিপিএম, এমডি ইত্যাদি টাইটেল যুক্ত করেন। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে এগুলো থাকে না। তাই এসব টাইটেল পাসপোর্টের আবেদনপত্রে উল্লেখ করলে নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট ইস্যু করা সম্ভব হয় না। এসব টাইটেল বাদ দিয়ে আবার আবেদন করলে পাসপোর্ট পাওয়া যায়।

পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনের বিলম্ব
নতুন পাসপোর্টের করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে পুলিশ ভেরিফিকেশন। প্রতিটি পাসপোর্ট অনুমোদন পাওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ইতিবাচক তদন্ত প্রতিবেদন। পাসপোর্ট অধিদপ্তর বলছে, পুলিশ প্রতিবেদন পেতে দেরি হওয়ার কারণে বর্তমানে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করতে কিছুটা সময় লাগে। একটি সাধারণ পাসপোর্টের আবেদনের ৭ দিনের মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মাঝে মধ্যে প্রতিবেদন দিতে মাসখানেকের বেশি সময় লেগে যায়।

এমআরপি থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই পাওয়া যাচ্ছে ই-পাসপোর্ট
পাসপোর্ট অধিদপ্তরে যেসব আবেদনকারী আগে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট পেয়েছেন এবং তার মেয়াদ শেষ তারা এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তরের জন্য আবেদন করলে, নির্ধারিত সময়ের আগেই ই-পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন।

জাহানারা বেগম নামে একজন আবেদনকারী জানান, তার এমআরপি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ। তিনি নভেম্বরের ১৮ তারিখ এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তরের জন্য আবেদন করেন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পান ২ ডিসেম্বর। ২৩ ডিসেম্বর তারিখে তার ডেলিভারি ডেট থাকলেও ১৩ ডিসেম্বর তিনি পাসপোর্ট ইস্যু হওয়ার ম্যাসেজ পান। পরদিন অধিদপ্তরে গিয়ে হাতে পান পাসপোর্ট।

চালু থাকছে এমআরপি কার্যক্রম
দেশে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩ কোটি ৪ হাজার এমআরপি ইস্যু করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব চৌধুরী বলেন,  দেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চলমান থাকলেও চালু থাকছে এমআরপি। দেশের যে কোনো নাগরিক কমপক্ষে ৩৪৫০ টাকা দিয়ে এমআরপির জন্য আবেদন করতে পারবেন। যার যেটা ইচ্ছা সেটা নিতে পারবেন। বর্তমানে এমআরপির বইয়ের মজুদ কিছুটা কমে গেছে। শিগগিরই আমরা নতুন করে আরও বই আনবো।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি