LalmohanNews24.Com | logo

৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

ইলিশ শূন্য লালমোহনের মেঘনা: প্রাণ হারানোর ভয়ে সাগরে যাচ্ছে না জেলেরা

মোঃ জসিম জনি মোঃ জসিম জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

প্রকাশিত : আগস্ট ১৮, ২০১৮, ১৯:৪৭

ইলিশ শূন্য লালমোহনের মেঘনা: প্রাণ হারানোর ভয়ে সাগরে যাচ্ছে না জেলেরা

’‘নদীতে ইলিশ নেই। তবুও জেলেরা যাচ্ছে। ফিরে আসছে ৪টি, ৭টি, সর্বোচ্চ ২ হালি করে। এতে করে তেল খরচ ও ১৪ থেকে ১৬ জন মাঝি মাল্লার পোষায় না। যে দেনা করে নদীতে নামতে হয়েছে তা আর ফিরিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না’’ কথাগুলো আক্ষেপের সুরে বললেন মেঘনা নদী কূলবর্তী ভোলার লালমোহন বাতিরখালের জেলে নুর মোহাম্মদ কাজী। তিনি জানান, গেলো বছরও এদিনে নৌকা ভরে ইলিশ নিয়ে ফিরেছেন। সকলের দৈনিক খরচ পোষাতো। আর এ বছর সম্পূর্ণ তার উল্টো। গভীর সমূদ্রে ইলিশের দেখা মিললেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে যেতে পারেনা ক্ষুদ্র জেলেরা। গত ১৭ দিনে ৪ জেলের সলিল সমাধি হয়েছে গভীর সমূদ্র গিয়ে। ডুবেছে ৩টি ট্রলার। আহত হয়েও উদ্ধার হয়েছে ওই ৩ ট্রলারের আরো ৪৪ জন জেলে।
মেঘনা নদী এবছর ইলিশ শূন্য। ভরা মৌসুমে মাছ না পাওয়ায় জেলে পাড়ায় চলছে হাহাকার। সকল জেলেরাই কোন না কোন ভাবে দায় দেনা গ্রস্থ। মেঘনা নদীর উপরই তাদের ভরসা। এ মেঘনাই তাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। শত দেনা থাকলেও আশা থাকে নদীতে নৌকা ভরে ইলিশ পড়বে। সেই ইলিশ বিক্রি হবে। পরিবার, সন্তান নিয়ে সুখে কাটবে ইলিশ মৌসুমটুকু। কিন্তু বিধি বাম। আষাঢ়, শ্রাবণ গিয়ে ভাদ্র এসেছে। এখনো জেলেদের মুখে হাসি নেই। ইলিশ সব গভীর সাগরে। যেখানে গেলে জীবন নিয়ে ফিরে আসার ভয়ে জেলেরা যাচ্ছে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে গত ১৭ দিনের মধ্যেই লালমোহনের ৪ জেলের সলিল সমাধি হয়েছে। সে আতংকে গভীর সমূদ্র যাওয়া বন্ধ জেলেদের। মেঘনা নদীতে যা পায় তা নিয়েই ভরসা।
সরেজমিনকালে লালমোহনের বাতিরখাল মৎস্য আড়তে গিয়ে কথা হয় মৎস্য আড়ৎদার হাজী অহিদুর রহমান ও এনামুল হক সেলিম মৃধার সাথে। তারা জানান, বাতিরখাল ঘাটে ৩শ নৌকা আছে। ব্যবসার অবস্থা ভালো না। এবছরের মতো এতো কম মাছ আর কখনো পড়েনি। মেঘনায় এখন ইলিশের বসবাস নেই। জলবায়ু পরিবর্তন ও ভারতের পানি এসে পলি জমে মেঘনায় অনেক চর হয়ে গেছে। নদীতে এখন গভীরতাও নেই।


মেঘনায় ইলিশ না থাকলেও গভীর সাগরে ইলিশ ধরা পড়ছে প্রচুর। সেখানে বড় বড় ফিসিং বোট নিয়ে চট্টগ্রাম, মহিপুর, কুয়াকাটার জেলেরা মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জেলেরা সেখানে যেতে পারে না। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গত ৩০ জুলাই এখানকার ফিরোজ মাঝির এফভি জিহাদ নামে একটি ট্রলার সাগরের মোহনায় যায় ইলিশ শিকারে। সেদিন সাগরের কালকিনির চর নামক স্থানে ১৫ মাঝি মাল্লাসহ ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে ১৪ জেলে উদ্ধার হলেও এখন পর্যন্ত নূরুদ্দীন নামের এক জেলেকে পাওয়া যায়নি। গভীর সমূদ্রে নুরুদ্দীনের সলিল সমাধি হয়। উদ্ধার হয়নি জাল সমরঞ্জামসহ ট্রলারটি। নূরুদ্দীনের আরেক বড় ভাই হারুন প্রায় ৩০ বছর পূর্বে তাও মাছ ধরতে গিয়ে সাগরে সলিল সমাধী হয়। ১ আগষ্ট একই এলাকার ইইসুফ মিয়ার একটি ট্রলার ১৪ জন জেলে নিয়ে ডুবে যায়। এতে সবাই উদ্ধার হলেও ট্রলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত মঙ্গলবার লালমোহন লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের সরকারের খাল নামক ঘাটের একটি মাছ ধরা ট্রলার ১৯ জন জেলে নিয়ে সাগরের কালকিনি নামক স্থানে ডুবে যায়। এতে ১৬ জনকে পাশ্ববর্তী বেতুয়া ঘাটের একটি ট্রলার উদ্ধার করতে পারলেও ৩ জনকে উদ্ধার করতে পারেনি। নিখোঁজ ৩ জেলে লালমোহন পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের পাঙ্গাসিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোঃ খালেক ও একই এলাকার খালেক বেপারীর ছেলে মোঃ আবু ছায়েদ এবং আসলামপুর ইউনিয়নের কালামুল্লাপোল এলাকার হাসেমের ছেলে মিরাজ। ওই ট্রলারটিও জালসহ ডুবে যাওয়ায় কিছুই পায়নি ট্রলার মালিক। এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রূপালী ইলিশ শিকারে গিয়ে প্রায় প্রাণ হারায় জেলেরা। কারো লাশ পাওয়া যায় আবার কারো কোন সন্ধান মেলে না।
লালমোহন উপজেলা মৎস্য অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রুহুল কুদ্দুস জানান, নিখোঁজ ও নিহত জেলেদের পরিবারকে সরকারিভাবে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এর আগে লালমোহনের লর্ডহার্ডিঞ্জ ও বদরপুর ইউনিয়নের ৭ জেলের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থ দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি