LalmohanNews24.Com | logo

৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

‘আমরা যাব না, কোথাও যাব না’

বিজ্ঞাপন

‘আমরা যাব না, কোথাও যাব না’

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য নোয়াখালীর ভাসানচরে যে উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে যাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছে তারা।

একধরনের ভীতি থেকে তারা সেখানে যেতে চাইছেন না। তবে ভাসানচরে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ঘরবাড়ি, সাইক্লোন শেল্টারসহ উন্নত সুযোগ-সুবিধা তারা সরেজমিনে দেখলে যেতে রাজি হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে রোহিঙ্গা মাঝিদের মতামত উল্লেখ করে একটি বিশেষ সংবাদ প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

খবরে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা কোনোভাবেই এখন সেখান থেকে সরতে চান না। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, ভাসানচরে স্থানান্তরের আগে কারিগরি মূল্যায়ন শেষে রোহিঙ্গাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

ভাসানচরে যেতে চায় কিনা- এমনটি জানতে চাইলে নূর বেগম নামের এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, আমরা এখানে যেভাবে আছি ভালো আছি যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। শুনেছি তিন ঘণ্টা লঞ্চে যেতে হয়। সাগর আছে। আমাদের ভয় করে।

ক্যাম্পে বসে সালমা খাতুন বলেন, আমরা মা-বোনদের মধ্যে একটু একটু আলোচনা হয়। আমরা যাব না। এখানে থাকব। কোথাও যাব না। বার্মা থেকে আসার পর এখানে আমাদের ভালো লাগে। আমরা এখানে সয়ে গেছি। অতদূর আমরা যাব না। অনেক দূর। বোটে করে যেতে হয় তিন ঘণ্টা।

আরেক বয়স্ক রোহিঙ্গা পুরুষ আজিম উদ্দীন জানান, কিছু মানুষ বলছে আমরা ওই জায়গা চিনি না। পানি উঠে ডুবে যাবে কিনা। সুবিধা হবে হবে নাকি অসুবিধা হবে? এসব তো আমাদের জানা নাই। রোহিঙ্গারা কী চাইছে এ প্রশ্নে আজিম উদ্দীন বলেন, এখানে থাকবে, নাহয় এখান থেকে নিজের দেশে চলে যাবে। এটাই ইচ্ছা।

কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের একটি ব্লকের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, আমাদের ভালো জায়গায় নিয়ে গেলে আমরা যেতে রাজি আছি। ঠেঙ্গারচরে যেতে রাজি নই।

জাতিসংঘ বাংলাদেশের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো জানান, ভাসানচরে শরণার্থীদের স্থানান্তরের পূর্বে এর সম্ভাব্যতা ও আকাঙ্ক্ষা যাচাই করতে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার দ্বারা স্বাধীন কারিগরি এবং সুরক্ষা মূল্যায়ন করা উচিত। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ সেখানকার নিরাপত্তা, বাসযোগ্যতা এবং এক লাখ শরণার্থী পরিবহন এবং সেখানে বসবাসের কী প্রভাব হবে সে বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

এদিকে কক্সবাজারের অবস্থিত রোহিঙ্গা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনার আবুল কালাম জানান, তাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার মূল কাজটি শুরু করার আগে আমাদের এ রকম একটি পরিকল্পনা আছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নির্দেশনা আছে যে তাদের আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য মাঝিদের একটি নির্বাচিত দলকে আমরা সেখানে নিয়ে যাব। তারা নিজেরা সেখানে সরেজমিনে দেখে আসবেন এবং সেখানের পরিস্থিতি সুযোগ-সুবিধা দেখে আমরা বিশ্বাস করি যে তারা নিজেরাই যেতে আগ্রহী হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি