LalmohanNews24.Com | logo

১লা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৬ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং

অভাবের তাড়নায় আত্মহত্যা!

অভাবের তাড়নায় আত্মহত্যা!

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে পাঁচ সন্তানের জননী এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার নাম রহিমা খাতুন। তিনি উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জঙ্গলবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র কয়লা শ্রমিক রেজ্জাক আলীর স্ত্রী।

শুক্রবার ফজরের নামাজের পর ওই নারী বসতঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, উপজেলার কলাগাঁও গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে রহিমা খাতুনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলবাড়ি গ্রামের মৃত বেলায়েত গাজীর ছেলে রেজ্জাক আলীর সঙ্গে প্রায় ১৮ বছর আগে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর ওই দম্পতির কোলজুড়ে ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে জন্ম নেয়। অভাব অনটনের কারণে ঠিকমতো পরিবারের চাহিদা এমনকি সন্তানদের ভরণপোষণের ব্যয়বহন করতে গিয়ে স্বামী ও অপর তিন শিশুসন্তান নদীতে কয়লা কুড়িয়ে জীবনযাপন করে আসছিলেন।

এদিকে গত ৩-৪ দিন ধরেই রহিমা খাতুন পারিবারিক ধারদেনার টাকা পরিশোধ করা নিয়ে অভাবের তাড়নায় মানসিকভাবে কিছুটা হতাশাগ্রস্ত ছিলেন দাবি করে তার স্বামী রেজ্জাক আলী শুক্রবার জানান, আমি ও আমার অপর তিন ছেলেমেয়েকে ফজরের নামাজের পর স্ত্রী রহিমা হাতের তৈরি পিঠা দিয়ে নাশতা খেতে দেয়। নাশতা খেয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী কলাগাঁও ছড়া নদীতে আমরা কয়লা কুড়ানোর জন্য চলে গেলে সকাল সাড়ে ৫টার দিকে আমার ছোট ছেলে শাকিল দৌড়ে গিয়ে তার মা ফাঁস লাগিয়েছে বলে জানায়।

তিনি আরও জানান, সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি এসে ঝুলন্ত অবস্থায় রহিমাকে দেখতে পাই। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রহিমার বড় ভাই উপজেলার কলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল মিয়া বলেন, আমার বোনের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১৮ বছর। সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও কোনো দিন ভগ্নিপতির সঙ্গে এ নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি করতে শুনিনি।

তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর শুক্রবার জানান, লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভাবের কারণেই ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি।

হাসান পিন্টু


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি